আছো?

স্বপন রায়


কবেকার রাইট-ইন,লেফট-ইনের ক্রমবিকাশ
............................................................ ..............................................
Look up! Look up! The clouds are lifting – the sun is breaking through. We are coming out of the darkness into the light. We are coming into a new world. A kind new world where men will rise above their hate and brutality.

সে তাকায়,আমি দেখতে পাইনা,আমি কত এরকম তাকানোকে যে দেখিনা,তারা এখানে, ওখানে, পুলের ওপর,হাইটেনশন তারে এক ঈথারসমগ্রে বসে থাকে! আমি দেখতে পাইনা,শুনতেও পাইনা!

চার্লি চ্যাপলিন গ্রেট ডিক্টেটরে এ সবই বলেছেন, আমি জানি আবার এও জানি যে আমি কিছুই জানিনা!দূরে শব্দ হয়,বোমা ফাটে,রেপ হয়,পুজো’র মন্ডপে দাঁড়ায় হাসিমুখের নেতা,মা সারদা থেকে মা কেড়ে নিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয় চিটিং কোম্পানি’র আগে,সারদা হোরডিং হয়ে যান, সেই হোরডিং হেলে পড়ে,পড়েও যায়,কান্নার রোল ওঠে......আমি কিছু শুনতে পাই না.......দেখতে পাইনা....... এমনকি যে প্রজাপতিটাকে আমি সারান্ডা থেকে নিয়ে ডুয়ারসে ছেড়ে দিয়েছিলাম তারও পাখনায় আঘ্রাত বারুদের ফোঁটা!

মনে হয়,বাইরে শীতের রোদ এসেছে,রবিবার......
মনে হয়না,হারিয়ে গেছে,সুমন কল্যানপুর....মনে করো আমি নেই/বসন্ত এসে গেছে....অনুরোধের আসর,রবিবারের? যা হারায় তাকে না পেয়ে একটা পোস্টার দেখি, তখন যেমন ছিল,পিকিং,মাও-সে-তুং....দ ওয়ালে!গান ছিল, কমরেড লেনিনের আহবান.....এ সব জড়িয়ে থাকতো ঘনিয়ে আসা আর.ডি.বর্মণের গানের সঙ্গে!

আজ এই বিলীন সময় ওই সব বিপ্লবীদের প্রায় সবাইকে একেবারে বিপরীত রাজনীতিতে নিয়ে গেছে,কিছু ছিন্ন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী বাদ দিয়ে,এক অপরিবর্তিত স্বপ্নের মুখ খুঁজতে “চে” ছাড়া কোন মুখেই আস্থা লেখা থাকেনা!নাকি আমিই দেখতে পাইনা সঞ্চরণশীল সেইসব মুখগুলো যারা আছে,ষাট বা সত্তর দশকের প্রাখর্য নিয়ে আজো,আছে তো অবশ্যই,নইলে আমার মত অলস মাথার লোকের কাছে এই কবিতা চলে আসবে কেন,কেন আমি অবাক হয়ে যাবো? ভাববো,আরে বা! এই তো চে!

সেই তুমি কোন মেধাবী দরজায়..
............................................................ ..

“We are not separate beings, you and I
We are different strands of the same being
You are me and I am you
and we are they and they are us
This is how we’re meant to be,
each of us one
each of us all
You reach out across the void of Otherness to me
and you touch your own soul!”
http://www.aihik.in/aihik/upload/images/Swapan da.3.jpg[/img]


টারটল মাউন্টেন ইন্ডিয়ান রিজারভেশনে একটি ছেলে এলো সঙ্গে তার বোন! ন’বছর বয়স,বাবা আর মা বিচ্ছিন্ন, ঠাকুরদা আলেক্স আর ঠাকুমা মারী দুবোস পেলটিয়ার এই দুই ভাইবোনকে নিয়ে এলেন রেড-ইন্ডিয়ান’দের জন্য বানানো মার্কিন সরকারের তথাকথিত ইন্ডিয়ান রিজারভেশনে,যা ঘেটো’র নতুন চেহারা ছাড়া আর কিছু ছিলো না! সেপ্টেম্বর ১৯৫৩,ছেলেটি অর্থাৎ লিওনারড পেল্টিয়ারের তখন মাত্র ন’ বছর বয়েস,সেই বয়েসেই সে পেয়ে যায়
নিপীড়নের স্বাদ!বোনের সঙ্গেই ভর্তি হয় (BIA).ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান এফেয়ারস পরিচালিত ইন্ডিয়ান বোরডিং স্কুলে! মার্কিন সরকারের স্বঘোষিত “মহান” এইসব আলোকপ্রাপ্তির স্কুলগুলো ছিলো অবহেলা আর জাতিগত বৈষম্যের চূড়ান্ত নিদর্শন! রেড-ইন্ডিয়ানদের জন্য তৈরি ঘেটোর বাইরে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখন ডলারের ক্রমবর্ধমান শক্তি’র দাপটে ফুলেফেঁপে উঠছে,পুঁজির দাপটের সঙ্গে পরিস্ফুট হচ্ছে এক নতুন সামারজ্যবাদ যা ডলার নিয়ন্ত্রিত! যা ভিয়েতনামের সৃষ্টি করবে! আমদের বালকবেলায় গর্জিত হবে এই দৃপ্ত শ্লোগানঃ”আমার নাম/তোমার নাম/ভিয়েতনাম/ভিয়েতনাম! ” আর এ সবেরই কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে উৎখাত করা হবে রেড-ইন্ডিয়ানদের,তাদের লক্ষ লক্ষ একর জমি জোর করে কেড়ে নিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে করপোরেট দৈত্যদের,আর এইসব ভূমিপুত্রদের ঢুকিয়ে দেওয়া হবে সারা দেশে গড়ে তোলা ঘেটোগুলোয়,যার গালভরা নাম,ইন্ডিয়ান রিজার্ভেশন!

১৯৬৫ তে পেল্টিয়ার সিয়াটল,ওয়াশিংটনে আসেন, না কোন জাতিগত আত্মসম্মানের লড়াইয়ে যোগ দিতে নয়,তিনি উদ্যোগী ছিলেন,কয়েকবছরের পরিশ্রম আর অভিজ্ঞতায় একদিকে যেমন একটি অটো বডি স্টেশনের মালিকানা তাঁর হাতে এলো,অন্যদিকে নাগরিক জীবনের ঘটনাপ্রবাহে তিনি বুঝে গেলেন যে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে আত্মিক অযুক্ততাকে বেঁধে রেখেছে পুঁজির নির্মম স্বাধীনতার শৃঙ্খলে,তার একদিকে রয়েছে বিত্তবান এবং মধ্যবিত্ত শাদা-আমেরিকানরা,আর অন্যদিকে কালো এবং রেড ইন্ডিয়ান জনজাতিরা,জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই অন্যদিকের মানুষদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে চূড়ান্ত অবহেলা আর ইচ্ছাকৃত অসম্মানের বাধা,যা কোন মাপদন্ডেই মানবিক নয়,তথাকথিত স্বাধীন গণতন্ত্রের প্রতীক আমেরিকাতে তো নয়ই!

১৯৬৮ সালে সঙ্গত কারণেই গড়ে উঠলো ‘AIM’! মিনিয়াপোলিস,মিনেসোটা গ্রীষ্মে ‘American Indian Movement’(‘AIM’) সাংগঠনিকভাবে প্রকাশ্যে এলো বিভিন্ন দাবীদাওয়ার মাধ্যমে! বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার বড়াই করা মার্কিন প্রশাসনের নির্মম কার্যকলাপের জেরে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা রেড-ইন্ডিয়ানদের রাজনৈতিক এবং সামাজিক মুখপাত্র হয়ে উঠলো ‘AIM’! নিজের দেশেই এঁদের উদ্বাস্তু হতে হয়েছিলো,দলে দলে রেড-ইন্ডিয়ানদের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করে সারাদেশ জুড়ে কতগুলো ‘ঘেটো’ বানিয়ে এঁদের প্রতিস্থাপিত করা হয়েছিলো করপোরেট সংস্থাগুলোকে জমি পাইয়ে দেওয়ার স্বার্থে!এর সঙ্গে সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের তুলনা হয়না,একটা গোটা জনজাতিকে উৎখাত করে তাদের তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শিকড়বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে যে মাত্রার অমানবিক কাজ করেছিলো মার্কিন প্রশাসন তার সঙ্গে রাজনৈতিক গণহত্যার প্যারালাল টানা যেতে পারে,গণহত্যায় তো নিরীহ মানুষদের মেরে ফেলা হয় আর এ ক্ষেত্রে তাদের বাঁচিয়ে রেখে সারাজীবন ধরে মৃত্যু যন্ত্রনার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিলো!

লিওনারডো পেল্টিয়ার স্বাভাবতই ‘AIM’র সদস্য হলেন,নিষ্ক্রিয় নয়,সক্রিয় সদস্য!তিনি কবিতা লিখতেন,কবিরা সংবেদনশীল হন,পেল্টিয়ারের সংবেদনাই তাঁকে দিয়ে এ ভাবে লিখিয়ে নিয়েছিলোঃ
“We are not separate beings, you and I
We are different strands of the same being
You are me and I am you
and we are they and they are us
This is how we’re meant to be,
each of us one
each of us all
You reach out across the void of Otherness to me
and you touch your own soul!”

মজার কথা হলো আজ পর্যন্ত আমেরিকার দুই প্রধান রাজনৈতিক দলঃ ‘রিপাবলিকান’ আর ‘ডেমোক্রাট’ এই বিস্থাপন প্রক্রিয়ায় পুরো মদত দিয়ে এসেছে এবং যখন যে দল প্রশাসনে থেকেছে সেই দল এবং তাদের নেতারা রেড-ইন্ডিয়ানদের দেওয়া যাবতীয় প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে!এটাই অবশ্য স্বাভাবিক ছিলো,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় কোন দল আসবে,চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্বাচনে কোন দু জনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং কে জিতবে এ সবই ঠিক হয় ওখানকার করপোরেট সংস্থা’ এবং প্রতিরক্ষা/গোয়েন্দা বিভাগের ঐক্যমতের ভিত্তিতে! আর এইসব লুঠেরা আর রাষ্ট্রের পোষা গুন্ডাদের কাছে ‘AIM’ একটি বিপ্লবী এবং দেশেবিরোধী সংগঠন হসেবে প্রতিভাত হবে এটাই তো স্বাভাবিক! তাই কেনো আর কিভাবে ‘AIM’ গড়ে উঠলো এটাও পাঠকদের জানা দরকারঃ
“AIM—the American Indian Movement—began in Minneapolis, Minnesota, in the summer of 1968. It began taking form when 200 people from the Indian community turned out for a meeting called by a group of Native American community activists led by George Mitchell, Dennis Banks, and Clyde Bellecourt. Frustrated by discrimination and decades of federal Indian policy, they came together to discuss the critical issues restraining them and to take control over their own destiny. Out of that ferment and determination, the American Indian Movement was born.


AIM's leaders spoke out against high unemployment, slum housing, and racist treatment, fought for treaty rights and the reclamation of tribal land, and advocated on behalf of urban Indians whose situation bred illness and poverty. They opened the K-12 Heart of the Earth Survival School in 1971, and in 1972, mounted the Trail of Broken Treaties march on Washington, D.C., where they took over the Bureau of Indian Affairs (BIA), in protest of its policies, and with demands for their reform.
The revolutionary fervor of AIM's leaders drew the attention of the FBI and the CIA, who then set out to crush the movement. Their ruthless suppression of AIM during the early 1970s sowed the seeds of the confrontation that followed in February, 1973, when AIM leader Russell Means and his followers took over the small Indian community of Wounded Knee, South Dakota, in protest of its allegedly corrupt government. When FBI agents were dispatched to remove the AIM occupiers, a standoff ensued. Through the resulting siege that lasted for 71 days, two people were killed, twelve wounded, and twelve hundred arrested. Wounded Knee was a seminal event, drawing worldwide attention to the plight of American Indians. AIM leaders were later tried in a Minnesota court and, after a trial that lasted for eight months, were acquitted of wrongdoing.”

টেরোরিস্ট কি শ্রীচরণেষু লেখে,লিখবে পাখি চাই,মব্লাঁ চাই না!
…………………………………………………… ………..
ডিক উইলসনের পরিচয় ছিলো সরকার অনুমোদিত দালাল হিসেবে! নেটিভ ইন্ডিয়ানডদের তথাকথিত সুশাসন দেওয়ার জন্য ট্রাইবাল চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগপত্র দিয়েছিলো মার্কিন প্রশাসন,তিনি প্রভুদের খুশি রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন অকুতোভয়ে,’পাইন-রিজ রিজার্ভেশন’ অঞ্চলে ঘটতে থাকা রেড-ইন্ডিয়ানদের ওপরে অত্যাচার এবং অবিচারের বিরুদ্ধতা না করে উইলসন ‘AIM’ সদস্যদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়,রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাসের খাঁড়া নামিয়ে আনে রেড-ইন্ডিয়ানদের ওপরে! লিওনারড পেল্টিয়ার এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকায় এফ.বি.আই-এর নেক নজরে পড়েন এবং আন্দোলন চলাকালীন মিথ্যে খুনের মামলায় ফাঁসিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়! কি ছিলো “উন্ডডেড নী”র ঘটনা এবং এরফলে কি ঘটেছিলো লিওনারড পেল্টিয়ারের জীবনে একবার দেখে নেওয়া যাক!
“The American Indian Movement (AIM) was founded in 1968 in an effort to stop police harassment of Indians in the Minneapolis area. Borrowing some tactics from the anti-war student demonstrators of the era, AIM soon gained national notoriety for its flamboyant protests. However, many mainstream Indian leaders denounced the youth-dominated group as too radical.
In 1972, a faction of AIM members led by Dennis Banks and Leonard Peltier sought to close the divide by making alliances with traditional tribal elders on reservations. They had their greatest success on the Pine Ridge Reservation in South Dakota, after a group of young whites murdered a Sioux named Yellow Thunder. Although Yellow Thunder’s attackers only received six-year prison sentences, this was widely seen as a victory by the local Sioux accustomed to unfair treatment by the often racist Anglo judicial system. AIM’s highly visible publicity campaign on the case was given considerable credit for the verdict, winning the organization a great deal of respect on the reservation.
WOUNDED KNEE: SIEGE BEGINS
AIM’s growing prestige and influence, however, threatened the conservative Sioux tribal chairman, Dick Wilson. When Wilson learned of a planned AIM protest against his administration at Pine Ridge, he retreated to tribal headquarters where he was under the protection of federal marshals and Bureau of Indian Affairs police. Rather than confront the police in Pine Ridge, some 200 AIM members and their supporters decided to occupy the symbolically significant hamlet of Wounded Knee, site of the 1890 massacre. Wilson, with the backing of the federal government, responded by besieging Wounded Knee.
During the 71 days of the siege, which began on February 27, 1973, federal officers and AIM members exchanged gunfire almost nightly. Hundreds of arrests were made, and two Native Americans were killed and a federal marshal was permanently paralyzed by a bullet wound. The leaders of AIM finally surrendered on May 8 after a negotiated settlement was reached. In a subsequent trial, the judge ordered their acquittal because of evidence that the FBI had manipulated key witnesses. AIM emerged victorious and succeeded in shining a national spotlight on the problems of modern Native Americans.
WOUNDED KNEE: TROUBLE CONTINUES AT PINE RIDGE
The troubles at Wounded Knee were not over after the siege. A virtual civil war broke out between the opposing Indian factions on the Pine Ridge reservation, and a series of beatings, shootings and murders left more than 100 Indians dead. When two FBI agents were killed in a 1975 gunfight, the agency raided the reservation and arrested AIM leader Leonard Peltier for the crime. Peltier was convicted of killing the two FBI agents and sentenced to life in prison. To this day, Peltier’s supporters continue to maintain his innocence and seek a presidential pardon for him.”
আর সেইথেকে আজ পর্যন্ত লিওনারড পেল্টিয়ার ব্যক্তিস্বাধীনতার জন্য গলা ফাটানো আমেরিকার জেলে বন্দী হয়ে আছেন! নাজিম হিকমত লিখেছিলেন,” বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোর একবছর”,এক্ষেত্রে ২৯ বছর ধরে পেল্টিয়ারকে মিথ্যে সাক্ষী’র(এফ.বি.আই যাদের ভয় দেখিয়েছিলো)সাক্ষ্যর ভিত্তিতে জেলে আটকে রাখা হয়েছে,এর নজির পৃথিবীর কোথাও নেই,এমন অমানবিক এবং রাজনৈতিক কারাদন্ড আর কোথাও হয়নি!মজার কথা হলো যে সব মিডিয়া সঙ্গত কারণেই “তিয়েন আন মিন স্কোয়ার” নিয়ে গলা ফাটিয়েছিলো তারা এ ব্যাপারে কোন সোরগোল সে ভাবে করেনি,নির্বিকার রিপোরটিং ছাড়া তারা আর কিছুই করেনি,কারণ মিডিয়া’র স্বাধীনতা বলে কিছু হয়না,তাদেরও টিকি বাঁধা আছে লুঠেরা করপোরেটদের হাতে! আরো মজার কথা হলো আমাদের দেশের বামপন্থীরা আমেরিকার এই আভ্যন্তরীণ অমানবিকতা নিয়ে সে ভাবে সোচ্চার হয়নি,তারা সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন নিয়ে যতটা সক্রিয় ছিলো,জনজাতিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে কখনোই ততটা সক্রিয় ছিলোনা!আমাদের দেশেও তাই জনজাতি মানুষের কাছে বামপন্থা বহিরঙ্গের ব্যাপার হয়ে থেকে গেছে!

তবে ২৯ বছরের নির্বাসন পেল্টিয়ারকে নিরুদ্দেশে পাঠাতে পারেনি! দুনিয়াজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে!ডেসমন্ড টুটু,দালাই লামা থেকে আরম্ভ করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন,প্রখ্যাত অভিনেতা মারলোন ব্রান্ডো ‘নেটিভ আমেরিকান’দের যে ভাবে হলিউডের স্টিরিওটাইপে গেঁথে নেহাতই হাস্যকর এবং জান্তব চরিত্র হিসেবে দেখানো হয় তার প্রতিবাদে ১৯৭৩ সালে’অস্কার’(গডফাদার তাঁর অসামান্য অভিনয়ের জন্য) প্রত্যাখান করেন,তাঁর প্রতিবাদমুখর প্রত্যাখানের চিঠি সবার পড়া উচিত,কারণ আমেরিকায় একজন পেল্টিয়ার শুধু ২৯ বছর ধরে বন্দী হয়ে নেই,পুরো রেড-ইন্ডিয়ান জনজাতিকেই সেখানকার ঘেটোগুলোয় বন্দী করে রাখা হয়েছে!কি ছিলো সেই প্রত্যাখানের চিঠিতে একবার দেখে নেওয়া যাক!
Unfinished Oscar Speech
By MARLON BRANDO
BEVERLY HILLS, Calif. -- For 200 years we have said to the Indian people who are fighting for their land, their life, their families and their right to be free: ''Lay down your arms, my friends, and then we will remain together. Only if you lay down your arms, my friends, can we then talk of peace and come to an agreement which will be good for you.''
When they laid down their arms, we murdered them. We lied to them. We cheated them out of their lands. We starved them into signing fraudulent agreements that we called treaties which we never kept. We turned them into beggars on a continent that gave life for as long as life can remember. And by any interpretation of history, however twisted, we did not do right. We were not lawful nor were we just in what we did. For them, we do not have to restore these people, we do not have to live up to some agreements, because it is given to us by virtue of our power to attack the rights of others, to take their property, to take their lives when they are trying to defend their land and liberty, and to make their virtues a crime and our own vices virtues.
But there is one thing which is beyond the reach of this perversity and that is the tremendous verdict of history. And history will surely judge us. But do we care? What kind of moral schizophrenia is it that allows us to shout at the top of our national voice for all the world to hear that we live up to our commitment when every page of history and when all the thirsty, starving, humiliating days and nights of the last 100 years in the lives of the American Indian contradict that voice?
It would seem that the respect for principle and the love of one's neighbor have become dysfunctional in this country of ours, and that all we have done, all that we have succeeded in accomplishing with our power is simply annihilating the hopes of the newborn countries in this world, as well as friends and enemies alike, that we're not humane, and that we do not live up to our agreements.
Perhaps at this moment you are saying to yourself what the hell has all this got to do with the Academy Awards? Why is this woman standing up here, ruining our evening, invading our lives with things that don't concern us, and that we don't care about? Wasting our time and money and intruding in our homes.
I think the answer to those unspoken questions is that the motion picture community has been as responsible as any for degrading the Indian and making a mockery of his character, describing his as savage, hostile and evil. It's hard enough for children to grow up in this world. When Indian children watch television, and they watch films, and when they see their race depicted as they are in films, their minds become injured in ways we can never know.
Recently there have been a few faltering steps to correct this situation, but too faltering and too few, so I, as a member in this profession, do not feel that I can as a citizen of the United States accept an award here tonight. I think awards in this country at this time are inappropriate to be received or given until the condition of the American Indian is drastically altered. If we are not our brother's keeper, at least let us not be his executioner.
I would have been here tonight to speak to you directly, but I felt that perhaps I could be of better use if I went to Wounded Knee to help forestall in whatever way I can the establishment of a peace which would be dishonorable as long as the rivers shall run and the grass shall grow.
I would hope that those who are listening would not look upon this as a rude intrusion, but as an earnest effort to focus attention on an issue that might very well determine whether or not this country has the right to say from this point forward we believe in the inalienable rights of all people to remain free and independent on lands that have supported their life beyond living memory.
Thank you for your kindness and your courtesy to Miss Littlefeather. Thank you and good night.
This statement was written by Marlon Brando for delivery at the Academy Awards ceremony where Mr. Brando refused an Oscar. The speaker, who read only a part of it, was Shasheen Littlefeather.



পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রশক্তি আক্ষরিক অর্থেই রেড-ইন্ডিয়ান জনজাতিদের সমূলে উৎপাটিত করে মিশিয়ে দিতে চেয়েছিলো শিকড়হীন অমানবিক পুঁজির (অ)সভ্যতায়! পেল্টিয়ার এই পাশবিক বিস্থাপনের প্রতিবাদী প্রতীক হয়ে উঠেছেন,তাঁর জীবনের ২৯ বছর নিঃসঙ্গ এক দীর্ঘ কারাবাস হয়ে আর নেই,পৃথিবীর শুভবোধ সম্পন্ন মানুষেরা তাঁকে নিয়ে গান বেঁধেছেন,তাঁর ওপরে তথ্যচিত্র/ চলচিত্র তৈরি হয়েছে ,অন্যদিকে আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন শুভার্থীরা.....এই পরিকল্পিত চক্রান্তমূলক কারাবাসের ঘটনাপ্রবাহ পাঠকদের জানা দরকার,এখানে কিছুটা তুলে দিলামঃ
 Leonard Peltier is an imprisoned Native American considered by Amnesty International, the Southern Christian Leadership Conference, National Congress of American Indians, the Robert F. Kennedy Memorial Center for Human Rights, Archbishop Desmond Tutu and Rev. Jesse Jackson, among many others, to be a political prisoner who should be immediately released.
• Leonard Peltier was convicted for the deaths of two FBI agents who died during a 1975 shoot-out on the Pine Ridge Indian Reservation. Mr. Peltier has been in prison for over 29 years.
• The Wounded Knee occupation of 1973 marked the beginning of a three-year period of political violence on the Pine Ridge Indian Reservation. The tribal chairman hired vigilantes, self titled as “GOONS,” to rid the reservation of American Indian Movement (AIM) activity and sentiment. More than 60 traditional tribal members and AIM members were murdered and scores more were assaulted. Evidence indicated GOON responsibility in the majority of crimes but despite a large FBI presence, nothing was done to stop the violence. The FBI supplied the GOONS with intelligence on AIM members and looked away as GOONS committed crimes. One former GOON member reported that the FBI supplied him with armor piercing ammunition.
• Leonard Peltier was an AIM leader and was asked by traditional people at Pine Ridge, South Dakota, to support and protect the traditional people being targeted for violence. Mr. Peltier and a small group of young AIM members set up camp on a ranch owned by the traditional Jumping Bull family.
• On June 26, 1975 two FBI agents in unmarked cars followed a pick-up truck onto the Jumping Bull ranch. The families immediately became alarmed and feared an attack. Shots were heard and a shoot-out erupted. More than 150 agents, GOONS, and law enforcement surrounded the ranch.
• When the shoot-out ended the two FBI agents and one Native American lay dead. The agents were injured in the shoot-out and were then shot at close range. The Native American, Joseph Stuntz, was shot in the head by a sniper’s bullet. Mr. Stuntz’s death has never been investigated, nor has anyone ever been charged in connection with his death.
• According to FBI documents, more than 40 Native Americans participated in the gunfight, but only AIM members Bob Robideau, Darrell Butler, and Leonard Peltier were brought to trial.
• Mr. Robideau and Mr. Butler were arrested first and went to trial. A federal jury in Iowa acquitted them on grounds of self-defense, finding that their participation in the shoot-out was justified given the climate of fear that existed on the Pine Ridge Reservation. Further, they could not be tied to the close-range shootings.
• Leonard Peltier was arrested in Canada on February 6, 1976, along with Frank Blackhorse, a.k.a. Frank Deluca. The United States presented the Canadian court with affidavits signed by Myrtle Poor Bear who said she was Mr. Peltier’s girlfriend and allegedly saw him shoot the agents. In fact, Ms. Poor Bear had never met Mr. Peltier and was not present during the shoot-out. Soon after, Ms. Poor Bear recanted her statements and said the FBI threatened her and coerced her into signing the affidavits.
• Mr. Peltier was extradited to the United States where he was tried in 1977. The trial was held in North Dakota before United States District Judge Paul Benson, a conservative jurist appointed to the federal bench by Richard M. Nixon. Key witnesses like Myrtle Poor Bear were not allowed to testify and unlike the Robideau/Butler trial in Iowa, evidence regarding violence on Pine Ridge was severely restricted.
• An FBI agent who had previously testified that the agents followed a pick-up truck onto the scene, a vehicle that could not be tied to Mr. Peltier, changed his account, stating that the agents had followed a red and white van onto the scene, a vehicle which Mr. Peltier drove occasionally.
• Three teenaged Native witnesses testified against Mr. Peltier, they all later admitted that the FBI forced them to testify. Still, not one witness identified Mr. Peltier as the shooter.
• The U.S. Attorney prosecuting the case claimed that the government had provided the defense with all FBI documents concerning the case. To the contrary, more than 140,000 pages had been withheld in their entirety.
• An FBI ballistics expert testified that a casing found near the agents’ bodies matched the gun tied to Mr. Peltier. However, a ballistic test proving that the casing did not come from the gun tied to Mr. Peltier was intentionally concealed.
• The jury, unaware of the aforementioned facts, found Mr. Peltier guilty. Judge Benson, in turn, sentenced Mr. Peltier to two consecutive life terms.
• Following the discovery of new evidence obtained through a Freedom of Information Act lawsuit, Mr. Peltier sought a new trial. The Eighth Circuit ruled, “There is a possibility that the jury would have acquitted Leonard Peltier had the records and data improperly withheld from the defense been available to him in order to better exploit and reinforce the inconsistencies casting strong doubts upon the government's case." Yet, the court denied Mr. Peltier a new trial.
• During oral argument, the government attorney conceded that the government does not know who shot the agents, stating that Mr. Peltier is equally guilty whether he shot the agents at point-blank range, or participated in the shoot-out from a distance. Mr. Peltier’s co-defendants participated in the shoot-out from a distance, but were acquitted.
• Judge Heaney, who authored the decision denying a new trial, has since voiced firm support for Mr. Peltier’s release, stating that the FBI used improper tactics to convict Mr. Peltier, the FBI was equally responsible for the shoot-out, and that Mr. Peltier's release would promote healing with Native Americans.
• Mr. Peltier has served over 29 years in prison and is long overdue for parole. He has received several human rights awards for his good deeds from behind bars which include annual gift drives for the children of Pine Ridge, fund raisers for battered women’s shelters, and donations of his paintings to Native American recovery programs.
• Mr. Peltier suffers from diabetes, high blood pressure, and a heart condition. Time for justice is short.
• Currently, Mr. Peltier’s attorneys have filed a new round of Freedom of Information Act requests with FBI Headquarters and all FBI field offices in an attempt to secure the release of all files relating to Mr. Peltier and the RESMURS investigation. To date, the FBI has engaged in a number of dilatory tactics in order to avoid the processing of these requests.

তাহলে মার্কিন প্রশাসনের হাতে রইলো পেল্টিয়ার,এ এক না চাওয়া কিরকির,যা তাদের স্বঘোষিত সমানাধিকারের ব্যবস্থায় অস্বস্তি বাড়িয়েই চলেছে!১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫-এ আমরা যখন রাজনীতির বহিরঙ্গে এক তুমুল পরিবর্তন দেখছি আর মন দিয়েই শুনছি স্বর্ণযুগের অবিস্মরণীয় গান,দুপুর অলস করে দিচ্ছে অনিবার্য হয়ে ওঠা অনুরোধের আসর,ঠিক তখনই সারা আমেরিকায় ৯০ দশকে হতে চলা বিশ্বায়নের প্রথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে করপোরেট সংস্থাগুলিকে দৈত্যকার চেহারা দেওয়ার প্রস্তুতিতে,রেড-ইন্ডি ানদের প্রায় সমস্ত জমি কেড়ে নিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে সম্প্রসারণশীল পুঁজির মালিকদের! খুন করে বা হত্যা করে,অকথ্য অত্যাচারের খাঁড়া নামিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তাদের প্রতিবাদ,তাদের আর্তনাদ!

আর ২৯ বছর ধরে জেলবন্দী পেল্টিয়ার লিখে যাচ্ছেন একের পর এক কবিতা,যেখানে কোন হতাশার কথা নেই,হা হুতাশের আদিখ্যেতা নেই,মৃত্যু নেই! এই লেখা “ফ্রি লিওনারড পেল্টিয়ার” আন্দোলনে কতটা সাহায্য করবে জানিনা,তবে পেল্টিয়ারের এই কবিতাগুলো পড়ে হয়তো আমাদের মনে হতেই পারে, “Look up! Look up! The clouds are lifting – the sun is breaking through. We are coming out of the darkness into the light. We are coming into a new world. A kind new world where men will rise above their hate and brutality.”

আবার মনে নাও হতে পারে,আমরা তো চার্লি চ্যাপলিন নই,আমরা তো ব্রুস লি’ও নই,আমরা তো লি লি বাঙালি!

তবু “এক হাজার বছরের ঘৃনা মুছে যাবে এক হাজার বছরের ভালোবাসায়” এই বিশ্বাসেই পড়া হোক পেল্টিয়ারের কবিতাগুলি!
I am the Indian voice
Listen to me!
Listen!
I am the Indian voice.
Hear me crying out of the wind,
Hear me crying out of the silence.
I am the Indian voice.
Listen to me!
I speak for our ancestors.
They cry out to you from the unstill grave.
I speak for the children yet unborn.
They cry out to you from the unspoken silence.
I am the Indian voice.
Listen to me !
I am a chorus of millions.
Hear us !
Our eagle’s cry will not be stilled !
We are your own conscience calling to you.
We are you yourself
crying unheard within you.
Let my unheard voice be heard.
Let me speak in my heart and the words be heard
whispering on the wind to millions,
to all who care,
to all with ears to hear
and hearts to beat as one
with mine.
Put your ear to the earth,
and hear my heart beating there.
Put your ear to the wind
and hear me speaking there.
We are the voice of the earth,
of the future,
of the Mystery.
Hear us!
#
Difference
Let us love not only our sameness
but our unsameness
In our difference is our strength
Let us be not for ourselves alone
but also for that Other
who is our deepest Self

My Life Is My Sun Dance
Silence, they say, is the voice of complicity.
But silence is impossible.
Silence screams.
Silence is a message,
Just as doing nothing is an act.
Let who you are ring out and resonate
in every word and every deed.
Yes, become who you are.
There’s no sidestepping your own being
or your own responsibility.
What you do is who you are.
You are your own comeuppance.
You become your own message.
You are the message