নৃতত্বে ৯কার

কৌশিক ভাদুড়ী


প্রসঙ্গটা ৯কার, তার সঙ্গে নৃতত্বের কী সম্পর্ক? ‘বলি থাম্‌ একটু দাঁড়া’। বাংলা স্বরবর্ণে ৯ একটা কিছুদিন আগেও দেখেছি ছিল। কিন্তু ৯কারের অস্তিত্ব কোন কালেই ছিল না। ‘৯কার যেন ডিগবাজি খায়’; ডিগবাজি খেলেই পস্তাতে হয়; আমি বহু পরীক্ষায় ডিগবাজি খেয়ে তবে এটা জেনেছি; পস্তানো মানে প্রতিযোগিতায় অনুত্তীর্ণ, পিছনে পড়ে পড়ে ক্রমে লুপ্ত হয়ে যাওয়া। মানুষের অনেক শাখা প্রশাখাই আজ একই কারণে বিলুপ্ত; কী ডারউইনের তত্ব মনে পড়ছে তো!
স্বরবর্ণ ৯ থেকে ৯কার; কী উপযোগিতা থাকতে পারে? আচ্ছা লুপ্ত শব্দটার বানানটা আসলে ‘৯প্ত’ নয় তো!
***
মাসটা অগস্ট
তাপমাত্রা শূন্যের কুড়ি দাগ নীচে
বাদা জমিতে বরফের পুরু আস্তরণ
হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ঠেকল এ কী!
কঙ্কাল পুরো মানুষের।
তাঁবুতে ফিরে অস্থি বিশেষজ্ঞকে ডাকলাম
বলল স্ত্রীলোকের।
ছড়ানো মাছের কাঁটা শামুকের খোল
টুকরো ঝিনুকের
মেয়েটা নিশ্চয় ইয়াহগান, মাছ ধরত খাড়ির
হিম জলে ডুবসাঁতার দিয়ে
আমি দেখতে পাচ্ছি দাঁতে কামড়ে আছে সেই
কবে শিকার করা গুয়ানাকোর চামড়ার ঝোলা
কিন্তু না ! ওর পাশে সুন্দর ভাবে বোনা
মুখে ফিতে আঁটা টুকরি একটা !
ইয়াহগানরা তো বুনতে জানত না !
কে দিয়েছিল? ওর কী কোনো ওনা প্রেমিক ছিল?
শত্রু উপজাতির তেঢ্যাঙা লম্বা এক ছেলে?
যে ওর চার ফুট লম্বা শরীর জড়িয়ে ধরলে বুকে
মনে হত বাবা শিশু কন্যা কোলে ?
আমি ছিলাম না ফ্রিত্জরয়ের টিমে
আসলে কোনদিনও যাইনি তিয়েরা দেল ফুয়েগো
ইতালির মাটি ছেড়ে।

নাঃ এটা কোন ইতালিয়ান কবির কবিতা নয়; কখনও ভাটিয়েছিলাম, দক্ষিণ অ্যামেরিকার দক্ষিণতম প্রান্তে ‘তিয়েরা দেল ফুয়েগো’ কিছু দ্বীপের সমাহার, সেখানকার আদিম বাসিন্দাদের নিয়ে।
ওখনকার আদিম বাসিন্দাদের বলে ফুইগিয়ানস (Fuegions), চিলি-আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ডের রেড ইন্ডিয়ানদের ভাষায় তেহুএলচেস(Tehuelches)। জিনগত ভাবে অসম্পর্কিত গোষ্ঠি সাকুল্যে তিনটে। সেগুলো হল –
১।
ওনা(Ona) বা সেল্কনামস(Selk’nams) – এরা বনের ফল পাকুর সংগ্রহ করা ছাড়াও শিকারের মধ্যে গুয়ানাকো বলে একধরণের স্তন্যপায়ী প্রাণী শিকার করে। এরা ম্যাজেলান প্রণালীর উত্তরে বেশিটা মূল ভূখণ্ডে কিছুটা অগভীর খাড়ি দ্বারা বিচ্ছিন্ন দ্বীপে থাকত। গুয়ানাকো হল লামার জ্ঞাতি , লামা বলতেই লাসায় গিয়ে নিজের লাশ ফেলার দরকার নেই। লামাদের আকৃতি-প্রকৃতি উট আর ভেড়ার মাঝামাঝি; দক্ষিণ অ্যামেরিকায় পাওয়া যায়। এই ওনাদের কিন্তু জিন-গত সম্পর্ক মূলভূমির রেড-ইন্ডিয়ানদের সাথে। রেডইন্ডিয়ান বলতে বোঝাচ্ছি সেই আদিবাসিদের যাদের অরিজিন এসিয়াটিক, বিভিন্ন সময়ে ও ধারায় এই প্রোটো-মোঙ্গোলয়েড মানুষেরা অ্যামেরিকান ভূখণ্ডে আসেন। এরা ফুয়েগোর বাসিন্দা হলেও প্যাটাগোনিয়ান। প্যাটাগোনিয়া দিনগুনে পাট শাক খাওয়ার ব্যাপার নয়! স্প্যানিশে প্যাতাগোন(উচ্চারণ যাই হোক) মানে লম্বা পায়ের পাতা। স্পেনীয় অভিযাত্রীরা প্রথম দেখা ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিলেন, স্থানীয় মানুষদের পায়ের ছাপ দেখে, তাদের চোখে দেখার আগেই। এবার এক ইঞ্চি ভূগোল, দক্ষিণ অ্যামেরিকার প্যাটাগোনিয়ান ভূভাগটিই শিরদাঁড়ার মতো সরু হয়ে পায়ু থুড়ি কুমেরুর দিকে ঢুকে গেছে; প্লিজ ম্যাপটা একটু দেখে নিন, এখানে দিতে পারলে দিতুম! তিয়েরা-দেল-ফুয়েগো মানে বাংলায় আগুনের টায়রা, হ্যাঁ হ্যাঁ সেই “টিয়ারা ঝুমে এ্যায়সা...”। আগুনের কেন? এই রে এত কেন-কেন করলে আমার বিদ্যের জালা চুপসে বেল্ট ঢিলে হয়ে পেন্টু খসে বেইজ্জতিতে আপনারাই পড়বেন! গুগুলম্যাপে দেখলেই বুঝতে পারবেন, টিয়েরা ডেল ফুয়েগো বিভিন্ন আকার ও আয়তনের একাধিক দ্বীপ সমূহ; এদের মধ্যে দিয়ে দুই মহাসাগরের জল বয়ে-যাওয়া খাড়ি; কোথাও কোথাও ৫০মিটারেরও কম চওড়া হলে কী হয়; গভীরতায় মহাসাগরেরই সমান । একাধিক বৈজ্ঞানিক কারণে খাড়ির জলে খতরনক স্রোত। অ্যান্টার্কটিকের অত কাছে সারা বছরই শীত আর বৃষ্টি। আর শীতকালে ডাঙার তাপমাত্রা যখন ‘-২০’ সেলসিয়াস; জলের ১-২ সে। স্বাভাবিক; ৪০ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের তুলনায় ৪০ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ উষ্ণই বলতে হয়। তারও একাধিক ভূবৈজ্ঞানিক কারণ; তবে এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। সমুদ্রে পাহাড়ের মতো উঁচু ঢেউ; পরিবেশটাকে সব সময় শব্দময় করে রেখেছে; আর আছে তেজ হাওয়া; যার দরুন ২০মি দূর থেকে চেঁচিয়ে বলা কথাও শোনা যায় না। প্রায়শ ঘন কুয়াশা ছেঁটে রাখে দৃশ্যমানতা; আগুন না জ্বেলে ‘এই দ্বীপে আমি আর ওই দ্বীপে তুমি’ জানান দেব কী করে! তাই স্মোক সিগন্যাল, তাই দূর হতে নাবিক দেখেছে ধোঁয়া, তাই সমগ্র দ্বীপমালা আগুনের টায়রা; টিয়েরা ডেল ফুয়েগো।
তা’ এই প্যাটাগোনিয়ান ওনারা; ফুয়েগিয়ান হলেও মূল ভূখণ্ডের অন্যান্য রেডইন্ডিয়ানদের মতোই বেতের ঝুড়ি-টুড়ি বোনে, গুয়ানাকোর চামড়া দিয়ে শরীর ঢেকে শীত এড়ায়। ওনারা শিলও শিকার করে, কিন্তু খাড়িতে মাছ ধরা বা ঝিনুক-গুগলি সংগ্রহ কখনোই করে না, তার কারণ এরা সাঁতারই জানে না; তা ছাড়া জিনগত কারণে ওদের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা অনেকটা মূল স্রোতের মানুষদের মতো , ১-২ সেলসিয়াস জলে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানোর উপযুক্ত নয়। পায়ের পাতার মতোই ওদের চেহারাও দীর্ঘ, গড়পরতা ৬ফুটের ওপর। দেখেছেন!টেন্স গুলিয়ে ফেলেছি। আপনারা গুলোবেন না। ওনারা পৃথিবীতে ‘৯কার’ হয়ে গেছে, ‘ওঁ’ নয়, ওঁ-এর বহুবচন ৯কার! কেন? সে কথায় পরে আসছি।
২।
অ্যালাকালাফ (Alacaluf) বা কাওয়েস্কার (Kawesqar) – এরা থাকতো ম্যাজেলান প্রণালীর দক্ষিণে ইসলা-গ্রান্দি (সব চেয়ে বড় দ্বীপ) ও অন্যান্য দ্বীপে। এরা কিন্তু ক্কচিৎ গুয়ানাকো শিকার করত ; তার কারণ গুয়ানাকোর দল তো আর খাড়ি পেরিয়ে দ্বীপে আসবে না; আর ওদেরও শিকার করতে গেলে যেতে হয় ওনাদের এড়িয়ে; না হলে সংঘর্ষ; খুন-খারাবা অনিবার্য। অ্যালাকালাফদের তো অস্ত্র বলতে পাথর কুড়িয়ে ছোঁড়া, ঊষর ওই ভূখণ্ডে ছড়ানো পাথরের কমি অবশ্য ছিল না। এরা কিন্তু জিনগত ভাবে মোটেও মূল রেডইন্ডিয়ানদের আত্মীয় নয়। এরা প্রোটো অস্ট্রলয়েড। প্রোটো অস্ট্রলয়েড এমন সব জন গোষ্ঠিদের সাধারণ নাম; যারা জিনগত ভাবে সেই তেনাদের উত্তরসূরী। তেনারা হচ্ছেন আধুনিক মানুষ যারা আজ থেকে ৬০ কিংবা ৭০ হাজার বছর আগে; আফ্রিকা থেকে প্রথম বেরিয়ে আসে। মাছ ঝিনুক আর শ্যাওলা খেতে খেতে উপকূল বরাবর আরব – পারস্য – ভারত – মায়ানমার – তাইল্যান্ড – মালয় – অস্ট্রেলিয়া – টাস্মানিয়া – নিউজিল্যান্ড - মেলেনেশিয়া; রুট ধরে পলিনেশিয়া মায় তাইওয়ান, উপকূলবর্তী চিন জাপান , সমগ্র পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অগভীর বা গভীর অথচ সঙ্কীর্ণ মহাসাগর তারা পেঁপে, কলাগাছ, পাম জাতীয় স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা গাছের গুঁড়ি দিয়ে বানান ডিঙিতে চড়ে করেছে।
অ্যালাকালাফরা পাথর ছুঁড়ে শিল শিকার করত, আর হিম জলে ওদের মেয়েরা ঘন্টার পর ঘন্টা থাকতো। ডুব সাঁতার দিয়ে সমুদ্রের গুগলি শামুক নাতিবৃহৎ মাছ অ্যালজি সংগ্রহ করত আর সেগুলো জমা করত একটা পুঁটুলির মতো করে কামড়ে ধরে রাখা শিলের চামড়ার চাদরে।
অ্যালাকালাফরা উলঙ্গই থাকতো বেশির ভাগ সময়; শীত খুব বেশি হলে সেলাই না করা শিলের চামড়া গায়ে জড়িয়ে নিত। ওরা কোন রকম গিঁট দেওয়া জানত না, অর্থাৎ প্যাঁচ ব্যাপারটাই অজানা ছিল! এরা তুষার পড়া শীতের রাতেও উলঙ্গ হয়ে ঘুমত; গুহার প্রবেশমুখে শুধু আগুন জ্বালিয়ে রাখত। ২০০৬ সালে আর্জেন্টাইন সরকারের ঘোষিত সুমারীতে বিশুদ্ধ অ্যালাকালাফ রক্তের অধিকারী মানুষের সংখ্যা ঠেকেছিল ১৫তে !!! বাকি সব ৯কার; লুপ্তই এক মাত্র শব্দ যার বানানে চলতে পারে ৯কারের ব্যবহার; ‘৯প্ত’!!! তর্কের খাতিরে জানিয়ে রাখি; যৌন সংমিশ্রনের ফলে অ্যালাকালাফের জেনেটিক বস্তু স্বল্প কিছু সংখ্যক মূল স্রোত রেডইন্ডিয়ানদের মধ্যে পাওয়া অবশ্য যায়। এ কিছু নয়; এ হল ৯প্তর একটা ফর্মা; সুপ্ত!!!
৩। ইয়াঘান(Yaghan) বা ইয়ামানা(Yamana) - এরা থাকতো ইসলা গ্রান্দির দক্ষিণের দ্বীপ সমূহ থেকে মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণের সামান্য কিছু অংশ যেটা আজকে চিলির টেরিটরি; সেই অঞ্চলে। এরা; বলা যেতে পারে ইয়োরোপীয় ঔপনিবেশিকতার আগে থেকেই রেডইন্ডিয়ান মূলোদ্ভূত প্যাটাগোনিয়ান ও মেলানেশিয়ান প্রোটো অস্ট্রলয়েড জনগোষ্ঠীর মিলন সঞ্জাত। যেহেতু কিছুটা গুয়ানাকোর এলাকা ওদের নাগালের মধ্যে ছিল; ভাগ্যে বড়সর ডাঙার জন্তুর মাংস মঞ্জুর ছিল; শরীর গুয়ানকোর চামড়ায় ঢেকে রাখত; তবে বয়ন ব্যাপারটা মানে সেলাই থেকে শুরু করে ঘাসের ঝুড়ি-টুরি বোনা; ওরা জানত না। ইওরোপীয় ঔপনিবেশিকতার দৌলতে ওরা চিলির রেডইন্ডিয়ান স্রোতে মিশে যায়। ওদের একমাত্র জীবিত প্রতিনিধি; এক ৯০উর্দ্ধ (দেখেছেন! না চাইতে ৯কার! তাড়া করছে!) বৃদ্ধা। চিলির সরকারি তরফ থেকে তাঁর যে বহু প্রচারিত ছবিটা; এক শহর-বাজারে নিজে হাতে বোনা বেতের ঝুড়ি বেচছেন; তার পশ্চাদপটে এটাই ঘটনা।
এবার প্রথমেই যে কবিতা দিয়েছিলাম তার আড়ালে যে ৯কার চিনতে অসুবিধে আছে? কোনো কিছু ৯কার প্রাপ্ত বা ৯প্ত কেন হয় সেই সর্ববিদিত তত্বে না গিয়ে ৯কারের প্রসেসিং নিয়ে একটু বলি! না কোন ব্রুয়ারিসে যেতে হবে না!
১) ম্যাজেলান; অভিযান সফল করে ফিরে আসার পর; অভিযান লব্ধ তথ্য থেকে টিয়েরা ডেল ফুয়েগোর অবস্থান জানতে পেরে ব্রিটিশ সরকার ১৮২০থেকে ১৮২২ সময়টার মধ্যে একটা সফল নৌ অভিযান করে; এচএমএস বিগলের সেটাই প্রথম অভিযান, ফ্রিৎজরয় সেই জাহাজের এক নৌঅফিসার এবং বিজ্ঞানী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ইংরেজি শিখিয়ে-পড়িয়ে নিলে সুবিধে হয় ভেবে তিন জন ফুইগিয়ানকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে একটি বাচ্চা ছেলে স্মলপক্সের ভ্যাকসিন সহ্য না করতে পেরে মারা যায়। তার কারণ যখন এক জনজাতি বিবর্তনের গোড়া থেকেই মূলস্রোতের মানুষ ও পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, সেই জাতির স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার জেনেটিক মেকআপ; অন্য ভৌগলিকতার বা পরিবেশের মানুষদের সংস্পর্শ সম্পূর্ণ বিবর্জিত বলে তার নিজস্ব পরিবেশ অনুযায়ী হয়। মানুষের যে সব ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস কিংবা অন্যান্য মাইক্রোবকে প্রতিহত করার ক্ষমতা ‘সাধারণ’ বলে আমাদের মনে হয়; তার জন্যে কিছু মিউটেটেড জিন দায়ী যা তাদের মধ্যে থাকেনা। বহির্বিশ্বের লোকেদের কাছেপিঠে অভিবাসনের ফলে জনজাতিদের মধ্যে সংক্রমণ লেগেই থাকে, অনেক সাধারণ অসুখও প্রাণনাশী হয়ে ওঠে। এটা হল ফুইগিয়ানদের ৯কারত্ব প্রাপ্তির জীববৈজ্ঞানিক কারণ, যেটা সব বিচ্ছিন্ন নৃগোষ্ঠির ক্ষেত্রেই আছে।
২) দ্বিতীয় কারণ সমাজ-বৈজ্ঞানিক। এটা মূলত মূল ভূখণ্ডের ওনা-ফুইগিয়ানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অভিবাসনের সাথেসাথে, ইওরোপীয়ানরা গবাদি পালন করবে, এটা মূলস্রোত সভ্যতায় এক স্বাভাবিক ব্যাপার; কিন্তু প্রকৃতিচারী ফুইগিয়ানরা সেটা বুঝবে কেন! তাই যখন যেখানে নজরে আসত গবাদি দেখলেই ওরা ভাবত যেন ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় সহজে অনেক শিকার পাওয়া গেছে; সদুপোযোগ করা যাক, যেটা সভ্য(?) সমাজের রীতিতে চুরি! এখানে একটা কথা মাথায় রাখার আছে। যে ইউরোপিয়ানরা অভিবাসন পেয়েছিল তারা কিন্তু বৃহৎ সংখ্যায় ইওরোপের অল্প শিক্ষিত খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের পেটের দায়ে স্বদেশ ত্যাগ করে যেতে হয়েছিল; বিষয়টা আজ ল্যাটিন অ্যামেরিকার সাহিত্যে সংস্কৃতিতে সর্বত্র স্পষ্ট! সে ক্ষেত্রে যেটা হওয়ার সেটাই হয়েছিল, গাবাদির পালে বাঘ-নেকড়ে পড়লে যে ভাবে নিধন করা হয় সে ভাবেই ফুইগিয়ানরা নিধন হত, ওদের সাথে সংযোগ করার প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ভাষা ছাড়াও ‘বুঝবার-বোঝাবার’ ব্যাপারটা ছিল; সমাজ-বৈজ্ঞানিক সূত্র দুই গোষ্ঠির ক্ষেত্রেই ভূমিকা ঠিকঠাক পালন করেছে। প্রাকৃতিক নির্বাচন যাকে রাখার রাখল; যাকে ফেলার মুছে দিল।
আসলে সংজ্ঞাপিত করা কঠিন হলেও সভ্যতার মূল-স্রোত একটা আছে, যেটা স্রোতের মতোই বয়ে যায়, তার ওপর কারুর হাত নেই। সেই মূল স্রোতের প্রেক্ষায় উপযোগিতা হারালে তাকে ৯কার হয়ে যেতেই হবে। ঠিক যেমন উপযোগিতার অভাবে ভাষা থেকে ৯কার লুপ্ত !!!