যা হারিয়ে গ্যাছে

তীর্থ প্রসাদ মুখোপাধ্যায়


হাজারিবাগের অনতিদূরে সিলোয়ার পাহাড়ি। সেখানে নিরবে দাঁড়িয়ে আছে একটা প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন –কোনো ঐতিহাসিক তার উপর দু-চার কথা লিখে যাওয়ার কথা ভাবেনি; কোনো সাহিত্যিক তার জন্য কোনো কল্পমিশ্রিত কাহিনির কথা লিখে যাওয়ার অবকাশ পায়নি।
আমার ভাগ্যে সে বিস্মৃত দিনের কথা লেখবার সৌভাগ্য বর্তালো বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেড়ার মতো। শুনলুম হাজারিবাগের একজন অ্যামেচার প্রত্নতত্ত্ববিদ সে অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক কিছু ধর্মীয় নিদর্শন নিয়ে চর্চ্চা করছেন – একজন বিশিষ্ট বাঙালি – পুর্বাশ্রমে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু এখন তিনি প্রায় গোটা ছোটনাগপুর মালভূমির নানান সব প্রাচীন নিদর্শন উদ্ঘাটন করছেন।এবং তাও পকেটের টাকা খরচ করে – তার আবিস্কার করা একটা প্রত্ন-শৃংগের তথ্য নাকি কিছুদিন আগে ভারত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটা স্বীকৃত পত্রিকায় সস্মমানে প্রকাশিত হয়েছে। একদিক থেকে তা নাকি ভারতবর্ষের ইতিহাসকে সমুলে পাল্টে ফেলবে।

খবরটা শোনামাত্র মনে একটা চাঞ্চল্য অনুভব করলুম। আমি পেশায় আর্টিস্ট কিন্তু নেশায় ভ্রমনপিপাসু বাঙালি। হাজারিবাগের সেই স্বল্পখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিকের সঙ্গে দেখা করার জন্য ছুটেগেলুম আমার সতীর্থ তরুনের কাছে যার মারফত প্রথম এই খবরটি পেয়েছিলুম।

তরুন বললঃ “চিন্তার কোনও কারন নেই। শুভাসিসবাবুর সঙ্গে আমার রীতিমতো ভালো আলাপ। অমায়িক মানুষ। দেখা করতে গেলে খুশি হবেন”।

আমি বললুম “আরে বাবা একজন ভ্রমনবিলাসি হিসেবে এতো আমার দারুন সৌভাগ্য- বুঝলেনা। একই সাথে একটা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা – প্লাস বেড়ানোর ফাউটাতো রইলই। আহা কতদিন- সঞ্জীবচন্দ্রের চাইবাসা, হাজারিবাগ দেখা হয়নি। সেই চোখও আজকের দিনে বিরল”।

তরুন একটু আক্ষেপের স্বরে বলল - “হ্যাঁ, সে তো আর নিছক ট্রেকিং-এর চোখ নয়”।

আমার পয়েন্টটা তরুন ব্যতীত কেই বা বুঝবে – আমার পাগলামির একমাত্র নির্ভরযোগ্য সাক্ষী।

*


গাড়ি করে হাজারিবাগের উদ্দেশ্যে যেদিন রওনা হলাম সেদিন হেমন্তঋতু তার সব রঙ, ঐশ্বর্্য্যা - তার মিত স্বচ্ছতা, সব যেন গাছে গাছে, পাহাড়ে, প্রান্তরে উজাড় করে দিয়েছিল। এমন কি পলাশ ফুলের সৌন্দর্্যদটুকুও যেন গোপণ করে রেখেছিলেন ঈশ্বর যতক্ষণ না বঙ্গবিহারের এই চিরবাসন্তি, আদিম ছোটনাগপুরে তার লজ্জা নিবারণ করা হয়েছিল। জাতীয় সড়ক ছেড়ে যে রাস্তা হাজারিবাগের দিকে চলে গ্যাছে – তার দু পাশে পলাশের ফাগ ছড়িয়ে পড়ছিল এই অক্টোবর মাসে – গাড়িতে যেতে যেতে শুধু অপেক্ষা করছিলুম কখন পৌঁছব ওই পাহাড়গুচ্ছের ওপারে হাজারিবাগে – আর দেখা হবে শুভাশিসবাবুর সঙ্গে।

*

সকাল দশটায় দেখা হল শুভাসিসবাবুর সঙ্গে। প্রথম দর্শনেই ভদ্রলোকের সহৃদয়তার পরিচয় পেলাম –

“আপনারা এসেছেন – এটা আমার কাছে একটা গর্বের ব্যাপার। যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আমি পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে চাইছি সেগুলো এই সমগ্র হাজারিবাগ কোডারমা জেলার নানা জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এমন মনে করার কোনো কারন নেই যে এগুল নিছকই হাজারিবাগের জিনিস”।

তারপর একটু চাপা কন্ঠস্বরে বললেন “এটা সারা ভারতের – দক্ষিণ থেকে এই ছোটা-নাগপুরের গোটা ভূখণ্ডের ইতিহাস। আপনাদের দেখাব”।

আমি বললাম “কিন্তু আমাদের কাছে আপনার এই উৎসাহটা খুব বড়” ।

শুভাশিসবাবু একটু সংকোচ করলেন। চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে বললেন ‘আসলে হাজারিবাগ তো সুন্দর একটা জায়গা – এর জন্যে একটা টান আছে। তাছাড়া ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি এখানে”।


“অর্থাৎ এটা একটা প্যাশন – কি বলেন? ফর হাজারিবাগ” তরুন বললে, একটু হেসে।

আমারা সবাই হাসলুম।

শুভাসিসবাবু বললেন “হবে না – এ টাউন অফ থাউস্যাণ্ড গার্ডেন্স কিনা – তবে কোথায় আর সেই হাজারটা বাগান।“

শুভাশিস বাবুর এই প্যাশন শুভাশিস বাবুকে সব কিছু ছেড়ে হাজারিবাগের ইতিহাস সন্ধান করতে উৎসাহি করেছে – ভাবা যায় না লোকটির এমনকি চাকরি-বাকরি, অর্থকরির লোভ কিচ্ছু নেই। সাধারন এক প্রবাসী বাঙালী। নিভৃতে গবেষনা করছেন। বই লিখছেন। আমাদের ইতিহাসকে সম্মৃদ্ধ করছেন। এটা শুধু প্যাশন বললেও ভুল হবে – তাই আমাদের হাঁসি।

ওঠবার আগে তিনি জিগ্যেস করলেন “আজ বিকেলে তাহলে শুরু করা যাক? প্রথমে আপনাদের নিয়ে যাব বিরিবির। শ্মশানডিরি মানে জানেন তো? একরকম কবরস্থান – প্রায় চার থেকে ছ’হাজার বছর প্রাচীন।

চারটেয়ে রেডি থাকবেন –কেমন?”

*


প্রত্নতাত্ত্বিকের চোখে বিরিবির একটা শ্মশানস্থল। টাউনে ঢোকার একটু আগে বাঁ হাতে রাস্তা চলে যাচ্ছে গ্রামের আঁকা বাঁকা পথ পেরিয়ে সুদূর বিরবির এ। যেন সর্পিল একটা পথ স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে দিক নির্দেশ করছে। অথচ কোনো ফেলে আসা দিনের রোমান্টিক স্বপ্ন নয় – একবারেই হতদরিদ্র, নিম্নবিত্ত পিছিয়েপড়া মানুষজনের গ্রামাঞ্চলের মধ্যর দিয়ে একটা পথ - কিন্তু হঠাৎ করে বোঝা যায় না – সেই ঘুরপথে আমরা চলে এলাম একটা গোলাকার উঁচু জমির উপরে – ঠিক যেন একটা নিটোল টিলা পাহাড়।

শুভাসিস বাবু গাড়ি থেকে নেমে আমাদের কয়েকটা বাড়ির দিকে হাঁটতে বললেন – সেখানে এক গ্রামবাসী একটা দেয়াল তুলে রেখেছে। কিন্তু দেয়াল-র পড়ে টিলার ঠিক কেন্দ্রস্থলে দেখতে পেলাম – সেই মেগালিথ। একটা পাথরের ফলক বলা যেতে পারে। সেই আশ্চর্য্য সৃষ্টি –মানব বিকাশের প্রাক-ইতিহাসে জীবনচেতনার এক মূক নির্লিপ্ত সংকেত।

যারা আধুনিক সভ্যতার নেওটা তারা মানববিজ্ঞ্যানের ক্লাসের বাইরে মেগালিথের কথা শুনে থাকবে না – সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিরবিরের সেই কালো পাথরের ফলকটি তার টিলার উপর জমি থেকে প্রায় পঁচাত্তর ডিগ্রী কোণ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে। যেন প্রকৃতির ডায়ালের উপর একটা কাঁটা দাঁড় করানো। ফলকটার পাশেই আরেকটা ফলক সমান্তরাল ভাবে শোয়ানো।




আমি আর তরুন নিস্পলক চোখে তাকিয়ে থাকলাম। শুভাসিস বাবু বলতে শুরু করলেন – “ দেখুন। এই ভার্টিকল পাথরটার ঠিক চারটি কোন বরাবর যদি তাকান” –

আমরা ফলকের উপরের বিন্দুর দিক থেকে তাকালাম – একেবারে দূর দিগন্তে । আশ্চর্য্য হয়ে গেলাম। পাথরটার কৌনিক দিক বরাবর তাকালে ঠিক তার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব পশ্চিমে চারটে পাহাড়।




শুভাসিস বাবু বললেন – “দেখেছেন পাহাড়গুলোকে। ধরে নেওয়া যাক আজ থেকে বহু যুগ আগে এই পাথরটা - এখানে কোনও উপজাতির মানুষেরা স্থাপন করেছিলো”।
- “প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কি বলছে?”
মাথা উঁচু করে একটু মগ্ন হয়ে... এবার তিনি বললেন –“ প্রায় চার থেকে ছয় হাজার বছর আগে – মুন্ডারি আদিবাসিরা এই মেগালিথ নির্মান করেছিলেন” -

তরুন বললে – “তার মানে ছ’হাজার বছরের মধ্যে আমরা এদের মধ্যে একটা ভৌগলিক অবস্থান –এর মতো একটা বিষয়ে একটা আইডিয়া পাচ্ছি”-
“হ্যাঁ ইস্ট, ওয়েস্ট নর্থ, সাউত – কিন্তু লক্ষ্য কর তরুণ – এরা দিকবলয়টা সম্বন্ধে একটা বিজ্ঞ্যানকে কাজে লাগাচ্ছে” –
“রীতিমতো”... বলতে বলতে আমি এগিয়ে গেলাম।
“বিরিবির একটা ক্যালেন্ডার” –



শুভাসিস বাবু আক্ষেপ করলেন – “হতে পারে ক্যালেন্ডার ...তবে এদের গনিত সম্পর্কে আমাদের আজ আর কোনো হদিশ নেই” -

আমি জিজ্ঞ্যেস করলাম – ভারতবর্ষ গনিতে যে উন্নতি করেছিল? মুন্ডারি প্রজাতির গণিত সম্ভবত তারো আগেকার একটা ঘটনা –

শুভাসিস বাবু বললেন “অ্যালেক্সান্ডার মারশ্যাক – পড়েছো তো তরুণ। ভদ্রলোক কে আমি রেস্পেক্ট করি” –

আমি বললাম “মারশ্যাক তো আরো আগেকার কথা বলছেন – আমার যতদূর জানা আছে”

“ঠিক বলেছেন – কিন্তু মারশ্যাক যেটা দেখাতে চেয়েছিলেন সেটা হল মানুষের বিবর্তনে তার চেতনায় কেমন করে এই প্রাকৃতিক ক্যালেন্ডার এর রহস্যটা গড়ে উঠেছিল। তার মানে – হোমো ন্যিয়ান্ডার্থালিস প্রায় আজ থেকে এক লক্ষ বছর আগে চাঁদের সাইকেলটাকে অবসার্ভ করতে শুরু করেছিল – আধুনিক হোমো সেপিয়েন্স জ্যোতির্বিদ্যা চর্চ্চা করা শুরু করে বহু বহু আগে –
মুন্ডা যদি পৃথিবীর প্রাচীনতম উপজাতি হয়ে থাকে তাহলে –এই জ্যোতির্বিদ্যা তখনই একটা স্বয়ংসিদ্ধ বিজ্ঞ্যান হয়েছিল” –
তরুন বলল – “ হ্যান – ভেবে দেখুন ... লিউইস উইলিয়মসও এই কথাটাই বলছেন –

- “দ্য মাইণ্ড ইন দ্যা কেইভ – হা হা হা ... হ্যাঁ তরুন। ভারতবর্ষে অন্তত হাজারিবাগের এইটুকু গর্বের বিষয় আছে।

তরুন – “ হ্যাঁ অফ কোর্স, ভারত তো মুন্ডাদের একটা বিচরন ক্ষেত্র” -

*
রাত্রিবেলা হোটেলে ফিরে বিরিবির-এর শ্মশানডিরি রূপটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো। একটা ভ্রমণকাহিনী প্রত্নতত্ত্বের ধারাবিবরনিতে রূপান্তরিত হতে পারে –কিন্তু প্রত্নতত্ব্ব খুঁজতে গিয়ে ভুতের গল্প বেরিয়ে আসবে এটা নিতান্তই অস্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তাই হোল।

কারন বিরিবির এ একটা অদ্ভুত অনুভুতি হয়েছিলো। বিরিবির যেন আমাদের ডাকছিল। বোধয় অনেক প্রেত মানবের অদৃশ্য হাতছানির মতো- আমার মতো এক অ্যামেচার ফর্দাফাই আর্টিস্টকে যেন তারা ডাকছিল। সেই সব মানুষেরা – আমাদের পুর্বপুরুষেরা আমায় ডাকছিল। আমি নিঃশব্দে তাদের প্রার্থনা শুনতেশুনতে সাহেবদের মনোরম স্বপ্ননগর এই হাজারিবাগে চলে এসেছি। কিন্তু কি বলতে চাইছিলো সেই সব প্রয়াতরা। বোধয় এইটুকই বলতে চাইছিল যে... শোনো এই শ্মশানডিরির কেন্দ্রবিন্দুতে একটা নিস্তরঙ্গ সড়ক আছে – তার মধ্যে তোমরা আমাদের ছুঁতে পারবে ... আমাদের কাছে এসো ... হাত ধর। আমাদের জন্য সূর্যের কাছে প্রার্থনা জানাও – আমাদের যেন তিনি তার অদৃশ্য ত্যেজব্যসন দান করেন ... আমরা যেন তোমাদের আশীর্বাদ করতে পারি। আমরা বিলুপ্ত পৃথিবীর মানুষ ...আমরা হারিয়ে গেছি। আমাদের উদ্ধার কর বাবা।



পরের দিন ভোরবেলা ঘুম ভাঙ্গার পর বুঝলুম – আমার ছবির রসদ পেয়েগেছি। বেশ কিছুদিন চলবে আমার এই পাগলামো। হাজারিবাগের এই স্কুল রোডের ধারে চা’য়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলুম – একটু পরেই আমাদের মতো বেশ কিছু খ্যাপা মানুষজনের নির্বিকার ভ্রমনেচ্ছা সাঙ্গ করার একটা পরিকল্পনা রূপায়ন করা শুরু হয়ে গেলো। সেদিন চললাম পুঙ্খ্রি বারোয়াডিহি – বর্কাগাঁও থানা। সেখানেও সেই মেগালিথ।



আমরা কলকাতার কিছু মানুষ আর বাকিরা হাজারিবাগ রাঁচির কিছু প্রবাসী বাঙালি – তারা শুভাসিস বাবুর চেনা। একটা পিকনিকের ভিড়ে গেলাম মিশে – তারপর মনের মধ্যে প্রত্নবিপুল হাজারিবাগ, কোডার্মা – ফটো হয়ে ফুটে উঠতে লাগলো ।





আমার ছবি এবার একটা বিশেষ মাত্রা পাবে। আমার প্রপিতামহীর সম্পত্তি বেঁচে একটা নিকন ক্যামেরা কিনেছিলুম। সেটা ছিল আমার জীবনের একমাত্র স্ত্রী – আমার সব প্রেম অপ্রেমের সাক্ষী। আমার মানস পুত্র আমার মানস কন্যা – অর্থাৎ আমার সব ফোটোগ্রাফি আর পেইন্টিঙের - একমাত্র জননী। ক্যামেরা দিয়ে দেদারে তুলতে লাগলাম ছবি। কোডার্মা রেঞ্জ দেখতে দেখতে এই মালভূমির জটাজুট মহাদেবকে দেখলুম – মানে পাহাড়গুলোকে- কিন্তু যেন তারা এক একজন ধ্যানে বসেছে। আর সেই সব ছবি ভেদ করে তৈরি হচ্ছিল প্রাক-মুন্ডাদের সভ্যতার ছবি। তখন মানুষ ছিল –



বেলা বারোটার পর যখন ইস্কো পৌছলাম – তখন দেখলাম ছোট নদী চাটান ভেদ করে জঙ্গলের সংলগ্ন বিস্তীর্ণ উপত্যকায় একটা সর্পিল রেখার মতো হারিয়ে গ্যাছে। এই নৈঃশব্দে যে আদিম মানুষরা আজও টিকে আছে তারা সারি পড়ে, ঊনুনে আঁচ দেয় – বা কেরোসিন
তেলের লম্ফ জ্বালায়। কিন্তু তাদের গ্রাম্য ঝাঁকড়া কুঁড়েঘরের পাশেই মাটির পথ কোনো অজানা বনে হারিয়ে গ্যেছে। সেরকমই একটা জায়গা ইস্কো। বিরাট পাথরের দেওয়ালের গায় – এই প্রাকমুন্ডারা হরিণ গন্ডার, দেবতার ছবি খোদাই করে গ্যেছে।



ভাগ্যিস কে না কে এই পাথরশিল্পকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এর মর্য্যাদা দিয়েছিলো। নইলে বোধয় তা চিরতরে হারিয়ে যেত বিস্মৃতির ভাঁজে। কিন্তু না – আজকের মুন্ডারি রা তা অন্যভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে। তাদের ওই সব কুড়েঘরে দেখলুম সারিবদ্ধ সব ছবি –সেই পাথরের ছবির আদলে।



[ আমেরিকা ও আমাজন আমাদের ঘরের কাছের নয়, পৃথিবীর একেবারে অন্য প্রান্তের, অথচ ভাবতে আশ্চর্য্য লাগে যে এই মহাদেশের মানব সভ্যতা নাকি এশিয়ার প্রজাতি গড়ে তুলেছে। এই ভারতের পথে, তিব্বত হয়ে তারা যাত্রা করেছিলো সাইবেরিয়ার পথে – সেখান থেকে আলাস্কার তুষারসেতু পেরিয়ে প্রবেশ করেছিলো আমেরিকার ভুখন্ডে। নাকি আমাদের, মানে তথাকথিত আর্যদের, একরকম পুর্বশুরী ছিলো উত্তর ইয়ুরোপে, যারা গ্রীনল্যান্ড হয়ে আমেরিক্য প্রবেশ করেছিল।মানব সভ্যতার এই আদি পর্বে কি ঘটেছিল –তাই নিয়ে ভ্রমনাত্মক কাহিনি আগামী সংখ্যায় ]