অন্য ছুটি

দ্বৈপায়ন মজুমদার

ফিরোজ, সিরাজদের আজ খুব মজা। কাল রাতেই চাচা জানিয়ে দিয়েছে আজ দুপুরেই দোকান বন্ধ করে দেবে। এমনিতে ছুটির কথা নয়, তিন মাসে একবার বসিরহাটের বাড়ি যাবার জন্য চাচা ছাড়ে, তা ছাড়া ছুটি বলে কিছু নেই। চাচার শিক কাবাবের হেব্বি সেল, দুপুরে খুব ভিড় হয়। বিকেলে কিছুক্ষন দোকান বন্ধ রাখে চাচা। তখনই ফুটপাথের মাঝে প্লাস্টিকের বল, চাচার ছেলের ফেলে দেওয়া ভাঙা ব্যাটে চুটিয়ে ক্রিকেট খেলে। হাত খালি থাকলে আশেপাশের চায়ের দোকানগুলোর রামপেয়ারে, গঙ্গারাম, ছোটেলালরা যোগ দেয়। রামপেয়ারে, ছোটেলালদের আজ দুপুর থেকেই ছুটি, দোকান বন্ধ। ওদের কেউ ছাপ্রা, কেউ গাজিয়াবাদ, কারুর বাড়ি ভাগলপুরের পাশের কোনও গ্রামে। ইউ পি, বিহারের এই বাচ্চাগুলোর বছরে একবার হোলির সময়ে ছুটি জোটে।

দুপুর থেকেই জাকারিয়ে ষ্ট্রীট, কলুতলা, লেনিন সরণী, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-এর ছোটো, মাঝারি, এমনকি বড় দোকানও ঝাঁপ ফেলে দিল। আদালত রায় দেবে মন্দির না মসজিদ। দেশের অন্যান্য শহরের মত আমার শহরেও কোথা থেকে উঁকি মারছে দাঙ্গা দানবের চেনা-অচেনা গন্ধ। আজ শহরে সব মিছিল বন্ধ, এমনকি সম্প্রীতি মিছিলও আজ নয়। রাস্তায় গাড়ি কমে গেছে, বাসগুলো বেশ ফাঁকা, অনেকেই বাড়িতে টিভি পর্দার সামনে। কিন্তু মধ্য কলকাতার ফুটপাথ আজ ফিরোজ, রামপেয়ারেদের দখলে। আজ ওরা সচিন-জাহির। আজ ওদের ছুটির আনন্দে কোনও দাঙ্গা-দানবের ছায়ারও প্রবেশাধিকার নেই।