নিরুদ্দেশের পথিক

নীতা বিশ্বাস



এক গ্লাস হাসি নিয়ে ঘরে এল মা। ছড়িয়ে দিল ঘরময়। অমনি সারাঘর জুড়ে রঙ-বাহারি ফুলদের আশ্চর্য রকমারি রঙঢেউ, তাদের দিলখুশ হাসির হৈ-রব। হায় রাব্বা! এত রঙও আছে দুনিয়ায়, মায়ের হাসিতে! আমি রয়েছি ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ তে। মায়ের মুখে হাসি, হাতে একগ্লাস দুধ, যেন হাসি রাজ্য থেকে এইমাত্র উঠে এসেছে। কাঁচের গ্লাসের বাইরে থেকে সাদা ধবধবে, সে আমার নোটন পায়রার মত। দুধমাখা নোটন। বইয়ের পাতা থেকে আমি তখন তাদের হাতে তুলতে আপ্রাণ মরিয়া। মায়ের এত রঙদার হাসির সঙ্গে সাদা দুধ -পায়রার কনট্রাডিকসন--- অ’সাম।
চুমুকের চুমুর সাথে মা খেলায় খেলায় রঙ চেনায়। রোজই। বেগুনী নীল আকাশি সবুজ হলুদ কমলা লাল...। আমি গ্লাসে এক সিপ আর একটা করে রঙের নাম, চলতে থাকে খেলায় খেলায়। চলতে থাকে রঙের ছড়াও। ছড়া দৌড়ে বেড়ায় ঘরময়। টুপটাপ ধরি। ধরতে ধরতে “নদীর ঘাটের কাছে/ নৌকো বাঁধা আছে/ নাইতে যখন যাই দেখি সে জলের ঢেউয়ে নাচে।” নদীর ঘাট, জলের ঢেউ— ওই সাড়েতিনের আধো বুলিতেই মায়ের কাছে দেখতে শিখি। কী তাদের রঙ!
সেই ছোট্ট থেকেই রঙের সাথে আদর ভালোবাসা। বাবা একটা আশ্চর্য জিনিষ, রঙিন রাংতামোড়া, আমার চোখের সামনে আস্তে ঘুরিয়ে ,আমায় রঙদুনিয়ার অন্য জগতে--আমার রঙ চেনার পুরস্কার। তখন কথায় সুরে হাসিতে সর্বত্র আমি রঙ দেখি। বিন্দাস। মায়ের নাম মাধবীলতা। বাবা বাগানের আর্চে মাধবীলতা লাগিয়েছিল যত্নে। ফুল ফুটলেই মায়ের হাসি বাঁধ ভে~ঙেছে। কতদিন দেখেছি বাবা যত্নে হাত বুলোচ্ছে ফুলকলিদের গায়ে, পাছে ব্যথা লাগে। তো সে ফুলেরও কী যে অপরূপ রঙ! বে নী আ স হ ক লা গোত্রে পড়েনা সে রঙোচ্ছ্বাস। তখন জবালা সত্যকাম জানতাম না,তাই রঙের গোত্র হয় কি না জিজ্ঞাসার কোনো প্রশ্নই, না, ছিল না। তো আশ্চর্য সেই ‘নাড়া দিলেই নতুন হয়ে ওঠে’ বস্তুটার নাম ক্যালিডোস্কোপ—বাবা উচ্চারণ করে আমায় শিখিয়ে দিলে আমি রঙে মাতোয়ারা। সেই রংগোলি, মুহুর্তে এক চিত্রল প্রজাপতি—এক~টু নাড়া দিলেই। আহা! কোথায় যে হারিয়ে যাওয়া আমার! কোন্‌ নতুন রঙের নতুন দেশ সে! মা’র শেখানো কবিতাতেই মা কে জিজ্ঞাসা আমার—‘ বাবা কেন অপিসে যায়, যায়না নতুন দেশে!’ ক্যালিডোস্কোপ আর আমি সর্বক্ষণ একসাথে। কত যে আল্পনা, কত পাখি, পাখির নীলকন্ঠ রঙ। কোনোদিন দেখিনি, ভাবিনি যে রঙ তাও ক্যালিডোস্কোপে কী সহজে! বিচিত্র রঙিন দেশে। তখন থেকে হারিয়ে যাওয়া আমার রঙদুনিয়ায়, ছড়াগ্রামে, কবিতাশহরে। ছড়ায়, কবিতায় তলিয়ে যেতে যেতে রঙের নির্ভয় কোলাহলে তুমুল রঙিলা গান শুনতে পাচ্ছিলাম। এভাবে, ক্যালিডোস্কোপের এক একটা মাল্টিকালার ভিউ আমাকে নিঃশব্দে কখন যেন চার পাঁচ ছয় সাতে পৌঁছে দিলে ফিরিওয়ালা দের বিচিত্র ফিরিডাকের সুরে আমি রঙ খোঁজা এক পাখি হয়ে উড়তাম। সুরে গানে ডাকে রঙে সে এক বিচিত্র কোলাজ, ফুলস্কেপ প্যানোরামা। আমার জগত। শতেক ফিরি ডাকের মধ্যে আমি কান পেতে রই এক্সক্লুসিভ সুরসন্ধানে।
বাবা- মায়ের কুয়াশাঘন ফিসফিসে কথালাপে একদিন আড়াল থেকে আবছায়ায়। বাবা বলছে, যাক্‌। যে ভয়টা ছিলো আমার, তা থেকে মুক্তি।
ভয়! বাবাদের আবার ভয় থাকে নাকি? “এমন সময় হা রে রে রে রে রে। ওই যে কারা আসতেছে”... ওই ডাকছাড়া ডাকাত দের ভয় না পেয়ে ভয়ানক যুদ্ধ করে আমি মাকে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারি।
কি অনায়াসে বীর যোদ্ধা ডাকাত ডিটেক্টিভ শালগাছ টুনটুনি পাখি,--- সব যেন আমি। রাজপুত্র ব্যাঙ?

আমি। এলিশ আমি, বিউটি আমি, বিস্টও আমি। কী আশ্চর্য আত্তীকরণ! শৈশব এসব সব পারে। তো দাড়িয়াবান্ধা গোল্লাছুটের দূরন্ত দিন গুলো যখন একটু একটু করে বয়েস বাড়াচ্ছে ছয়ের থেকে সাত, ক্যালিডোস্কোপের সাথে সাথে আরো অনেক কিছু কৌতুহলের স্কোপ, অনেক ফেরিডাকের অনিবার্য রহস্য ময় কথা উদ্ধারের চেষ্টায়, সুরোলিপির রঙনামা ধরবার চেষ্টায় কত দুপুর কাটিয়েছি উচ্চকিত। স্পষ্ট করে না বোঝাটাই হাজারটা রহস্যের আঁতুড়ঘর। দেখা না-দেখায় মেশা, সেই’ই তো জীবনের রঙ, যাপনের প্রবল ঔৎসুক্য। তো এসকল তত্বকথা বোঝবার বয়স বা সময় থাকেনা হাতে সেসময়। তখন প্রত্যেক সকাল নামে নতুন কৌতুহল-কুয়াশায়। কিন্তু বাবার ভয়টা কিসের হতে পারে? আমাকে নিয়ে কী! সেও এক রহস্য, এবং আমি গোয়েন্দার ভূমিকায়। সমগ্র ফেরিওয়ালা-ওয়ালিপরিবা ের অদ্ভুত উচ্চারণশৈলী আর সুরোভঙ্গীমার আমি নিবিড় পাঠক,নিবিড় শ্রোতা তার সাথে এই গোয়েন্দাগিরি।
তো ইস্মাইল চাচার মিশ্র উচ্চারণের ‘ম্যাছ নিবেন মালক্ষ্মী, ম্যাছ’, সকাল নামায়। যেন লক্ষ্মী টি না হলে তাকে মাছ বেচবে না সে। কিন্তু কন্ঠস্বরটি তার বড় মিষ্টি, তার আনা মাছের মতই। ঘড়ির কাঁটা ঘোরে মোচা-ওল-কচু----র শাকের সুরে। সুর যেন ওই তিনটি রঙ নিয়ে খেলা করে তার ডাকে। আমাদের জলখাবারের সাথে মাখামাখি হয়ে ওই ডাক ক্রমশ দূরে চলে যেতে যেতেই ঘড়ির কাঁটা আর স্কুলের ঘন্টা একসাথে ঢং বাজিয়ে দেয়। বাড়ির কাছেই স্কুল, ঢং বাজলেই ছুট্টে দু মিনিটে। স্কুলেও মন উড়ু উড়ু—যদি পুতুলনাচ ওয়ালা তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকাল সকাল এসে পড়ে, তবে? ওরা তো অনেক দিন হয়ে গেল... যেন সে নাচ না দেখলে, সে সুরডাক না শুনলে দুনিয়া ওলোট পালোট...। ঝাঁ ঝাঁ দুপুরের হাওয়া, হাওয়া-মিঠাই এর গোলাপি ডাক আর আ- ই- ক্কী ইইইই-ম নিয়ে আসে। ঢাকনা খোলা-বন্ধের এক্সক্লুসিভ ‘ঢপ’, পা দুটোতে দৌড়ের ডাক বাজায়। পড়ে থাকে খাতা-পেনসিলের হোম-ওয়ার্ক। বেচারা আইস্ক্রীমের বাহকের তেষ্টাক্লিষ্ট মুখটা তেমন করে দেখা হয়নি কোনোদিন। কি করে হবে! জীবন জুড়োনো লাল কমলার কাঠি- আইস্ক্রীমের রঙীন জল যে ততক্ষণে হাত বেয়ে কুনুই ছাড়িয়ে সার্ট পর্যন্ত বয়ে চলার রেস লাগিয়েছে ! তাকে কি বয়ে যেতে দেওয়া যায়! শীতের সন্ধ্যে হুড়ুদ্দুম নেমে এলেই মায়ের শাঁখ বাজানোর লম্বা সুরের সাথে মিশে যেত গম্ভীর গলায় রমেশের আলু—র চপ,মাং—সে—র চপ, মাং—সে—র ঘুগনীর অপার্থিব লম্বা ডাক। ডাক ভেসে এলেই বাবা বলতো ডাক, ডাক, শিজ্ঞির ডাক। রমেশ এলোমিনিয়ামের হাঁড়ির ঢাকনা খুলতেই আমি সবন্ধু হাঁড়ির ভেতর হুমড়ি খেয়ে, যেন জীবনে খেতে পাইনি অবস্থা।
তো, এই রকমই এক ফিসফিস শীতসন্ধ্যেতে আমি কিছুটা সফল ডিটেকটিভ, বাবার ভয়মুক্তির এক~টু যেন কারন খুঁজে পাই। বাবা বলছে, রিন্টু সব রঙ একদম ঠিক-ঠাক চেনে তো সোনা? জিজ্ঞেস করলে বলতে পারে তো? লাইন ধরে জিজ্ঞেস করো, না উলটে পালটে যেখান সেখান থেকে? সব জিজ্ঞাসা চিহ্নের অবসান ঘটলে, আমি আড়াল থেকে দেখি বাবার উদ্বিগ্ন মুখ ক্রমশ নিশ্চিন্ততায়। এবার মায়ের একটা জিজ্ঞাসার সদুত্তর দিতে বসে বাবা। বলে ভয় ছিল, তুমি যদি ক্যারিয়ার হও! কালার ব্লাইন্ডনেসের বাহক বাচ্চার মায়েরাই যে হয় সোনা, জানো তুমি। সেদিন জানতে পেরেছিলাম মাকে আড়ালে আদর করে বাবা ‘সোনা’ বলে ডাকে। এই আমার ডিটেকটিভিটি! কারন ক্যারিয়ার-বাহক-কালার-ব ্লাইন্ড বাবার এসব কথার সারমর্ম ঠিক করে বুঝে ওঠার মত বুদ্ধির ধার, না, আমার তখনো হয়নি। কালার মানে রঙ, ব্লাইন্ড মানে অন্ধ। কিন্তু ক্যারিয়ার! প্রশ্নটা কয়েক বছর লালিত হয়েছে মনে।

তো সেই ডাক ওয়ালাদয়ের মধ্যে দু’জন ছিল সব চাইতে দামি। কারন কিনা তাঁরা সহজে দেখা দিতেন না। গোছা গোছা চাবির ঝম ঝম চাবি বানানেওয়ালা। আর তার চেয়েও যিনি, তিনি হলেন আমার প্রথম আবিস্কারের নেশা জাগানো সেই...। কে সে? সে হল স্বর্গের দেবতা। ইচ্ছে হলে দেখা দেন, কখনো সখনো, তারপর দীর্ঘ লা-পতা। সেই আমার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বা – ই – স- কো – প। কি কোপ মা ? মায়ের উত্তর শোনবার আগেই পা দৌড়েছে লম্বা বাগান পেরিয়ে একেবারে গেটের সামনে। সে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির পাশের বিশাল ছায়ার মহুয়াতলায়। রঙিন পাগড়ি খুলে সযত্নে ঘেমো মুখ মুছতে ব্যাস্ত। পরনে বিজাতীয় পোষাক। অনেকটা সেই চলতি হিন্দি গানের মনোমোহিনী সুর বাজাতে বাজাতে উদাসীন চলে যাওয়া হাতে বানানো বেহালাবাদকের ড্রেসের মত। সুরাকৃষ্ট আমি দোউড়ে সেই অরফিউসের পিছু পিছু অদম্য পিপাসায় কতোদিইইইন যে! যতবার সেই বেহালায় তার মত সুর তুলতে গেছি, বেহালা হরবার বেহাল করেছে আমাকে অসহ্য ক্যাঁচ-কোঁচ বিদ্রোহে। আমার কাছে তার সুরবাহার দিলরুবা গলা খুলবে না। না তো না! তখন জেনেছিলাম তার সাকিন রাজস্থান। সে বয়সে ভাবতাম কোন রাজাদের স্থান সেটা! একটু বড় হওয়ার ভুগোল জানিয়ে দিয়েছে তার মানচিত্র চালচিত্র হাভেলি মায়াবী ঝরোখা। সে, রাজস্থান। তো বা ই—স- কো-পের মালিকের পরনেও সেই খেটো হেটো ধুতি, ওপরে সেই কুঁচি দেওয়া টপ। বাঁদর নাচের বাঁদর রা যেমন পরে। মা যুঁই হেঁসে বলেছে, এও রাজস্থানী লোক। বাইসকোপ না, ওটার নাম বায়োস্কোপ। চৌকো, খানিকটা রেক্ট্যাঙ্গুলার একটা বাক্সো। সামনে চারটে চোঙ। ডানদিকে একটা হ্যান্ডেল। বাবা’ র ছুটি সেদিন। বাবা বললো, চলো আজ সবাই মিলে বায়োস্কোপ দেখি। মা তো অবাক। আমিও। খুশির বন্যা বইলো আমাদের বাগানে। সে তখন নিজস্ব গানে মুন্না মুন্নি ছোরা ছোরি জোগাড় করছে। আমার সাথে বাবা মা কে দেখে তার বিস্ময়ের অন্ত নাই। বাবু আপ লোগোঁ ভি? যেন গানের হিল্লোল, শরীরে অজানা শিহরণ। তিনজনে চোখ রেখেছি, আর একটা খালি। একটু দূরে দাঁড়ানো সতৃষ্ণ মেয়েটাকে মা ডেকে নিলো। দেখবি? এই মেয়ে। মেয়ে তো দৌড়ে এলো। মা- বাবাকে দেখে আসতে ভয় পাচ্ছিল। কি নাম রে তোর? মার পাশে এসে সলজ্জ সে বললো—হিরনী। বাঃ! ভারি মিষ্টি নাম তোর। হিরনীর তখন নামের ব্যাখ্যানা শোনার ধৈর্য নেই। ঝপ করে এসেই আমার পাশেরটায় চোখ পুরে দিলো। তখনো জানিনা ঐ বাক্সোয় কি রহস্য লুকোনো আছে। কী এক আশ্চর্য টেকনিকে বায়োস্কোপ ওয়ালা আমাদের স্থির দাঁড় করিয়ে গান-সুরে ঠোঁট চালাতে চালাতে হ্যান্ডেলের কারিগরিতে ‘দেখো দেখো তমাশা দেখো / ছম্মক ছৈলি, মধুবালা দেখো/ মধুবালা কি ডান্স দেখো / দলিপ কুমার দেখো/ সুরাইয়া নার্গিস দেখো / ছয়েল ছবিলি বিবি দেখো / গুরু দত্‌ কা একটিং দেখো’... আমার ভেতর কি এক তরংগ দোল খাচ্ছে তখন। অতটুকু বাক্স এক বিশাল দুনিয়া যেন! মধুবালা নামের আলো আলো মেয়েটির ছম্মক ছৈলি নাচ দেখিয়েই তুরন্ত অন্য ছবিতে চলে যাচ্ছে। সাদা কালোর সেই অসহ্য-সুন্দর অসম্বৃত নাচ, সুরাইয়ার নাকি সুরের গানার বিদ্দুচ্চমকের মত চোখ, শাড়ির আলুথালু --- পাঁচ মিনিট। ব্যাস, পাঁচ মিনিটেই আমার দেহে মনে শেষ কৈশোর পুরে দিয়েছিল। পাশের হিরনীর দিকে আমি আশ্চর্য চোখে তাকিয়ে ছিলাম।
বায়োস্কোপ বয়সে আচরণে দৃষ্টিতে আমায় বদলে দিয়ে আবার বেপাত্তা। কিন্তু ‘পতা’ দিয়ে

যায় মধুবালাময় হিরনীর, হরিণী-কাজল চোখের অক্ষরটান, তার আশ্চর্য শরীরী গন্ধের। সে। বায়স্কোপ’ আমার কিশোরিয়া প্রেমের অ আ ক খ।

সেই হারানো কৈশোর আজও শান্তিনিকেতনী কাঁধ-ঝোলায় দোল খায় আমার নির্জনে। ফেলে আসা পরিক্রমা চন্দ্রমল্লিকার টাটকা শিশিরের স্মৃতিমেদুর ভালোলাগায়, ভালোবাসার হিরণী হয়ে যায়। ক্যালিডোস্কোপের রঙবাহার কি ক’রে যে ফেরিওয়ালাদের সুরেলা ডাকেও রঙ লাগিয়ে দেয়। বিচিত্র রঙ্গিলা ডাক স্মৃতির ডাকঘর থেকে বেরিয়ে হুবহু তাদের কন্ঠলিরিক, কৈশোরের সতেজ ডিউড্রপ মাখিয়ে বিলি করে যায়। এমন কি হিরণীর আশ্চর্য গন্ধও মিশে থাকে তাতে। নারীশরীরের অদেখা ঢেউ,উদ্ধত টিলা, শৌখিন গিরিখাতের ছম্মকছৈলি, ছয়েলছবিলি---- ওই বা- ই- স-কো- প না থাকলে তেমন করে কি...? তারা, সেই বিচিত্র ফেরিওয়ালা-ফেরিওয়ালি, দর্দ খতম হোনে বালি সাপের তেল ফেরিওয়ালির আঁটো
সাঁটো যুবতী বেদেনীর চোলির বাইরে উঁকিমারা রহস্যাবৃত ক্লিভেজের তীব্র আকর্ষনের নষ্ট্যালজিয়া, আজ ব্যালকনিতে পাতা রকিং চেয়ারের সাথে আমার বুকে আশ্চর্য যন্ত্রণানন্দে মিটি মিটি দোলে। এই টেকনোলজির সরাসরি উদ্দাম দুনিয়ায় সেই তারা এখন কোন্‌ নেইরাজ্যের বাসিন্দা যে! বিতি হুয়ী জীবন রে, তোর মালগাড়ি খান একবার উলটো দিকে স্টার্ট দে না কেন, যেখানে শেষ বগি থেকে প্রথম বগির মাঝখানের সময় টুকু কুড়িয়ে শৈশব কৈশোরের পুরানো ঝুড়ি খানা আবার ভরে নিই। ডু সাম মিরাক্‌ল ইয়ার! যে কোনো ‘জিয়া’র থেকে নষ্ট্যালজিয়া অনেক বেশি সুখের। কারন? কারন, সে কাঁদায়। কান্না যে বড় পবিত্র...!