সিঁদুর কৌটো

তন্বী হালদার


প্রায় এক বছর হতে গেল আমার সঙ্গে আর একটা আমি বাস করছি। অথচ সবকিছু ঠিক যেমনভাবে থাকার কথা তেমনটিই আছে। বরং আরও ভয়ঙ্কর এবং ঘন হয়ে। শুধু আমি মানে মিনু দ্বিখণ্ডিত হয়েও সম্পূর্ণ দুটো আমিতে পরিণত হয়েছি। লাল আমি আর সাদা আমি। লাল আমি বলে - অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল, পাতাল।
সাদা আমি মুচকি হাসে। চোখ টিপে বলে, তবেতালে – ভূলোক, ভুবলোর্ক, স্বলোক, জনলোক, মহলোর্ক, মহালোক, তপলোর্ক, সত্যলোক।

লাল আমির কথা

বিয়ের তারিখটা ঠিক মনে পড়ে না। শুধু মনে আছে আমার সিঁথি, কপাল ধ্যাবড়া করে ‘ও’ সিঁদুর পরিয়ে দিল আর চারপাশ আলো ফ্ল্যাশ করে বেশকিছু ছবি তুললো কারা যেন। লজ্জা আর প্রচ্ছন্ন গবে আমার রূপান্তর ঘটল। কে যেন রুপোর একটা সিঁদুর কৌটো হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, সারাজীবন যত্নে রাখিস মিনু।
ঘাড় কাত করে সায় দিই। নিজেকে নিজের দেখার ইচ্ছা এতটা প্রবল হয়ে ওঠে যে বাথরুম যাওয়ার নাম করে গিয়ে আয়নায় মুখ দেখি। একটু লাল রঙের ছোঁয়ায় এত সুন্দর দেখতে হয়ে গেছি আমি! এই রূপতো আগে আমার ছিল না। ‘ও’ দেখলাম বারবার আড়চোখে দেখছে আমাকে। একসময় টুক করে আমার কানেকানে ফিসফিস করে বলে, ‘পুচু বউ’। কচুপাতার জলের মতো টলটল করে ওঠে আমার মন।
মা আমার নতুন রূপ দেখে বুকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কাঁদতে কাঁদতে বলে, মিনু তোকে কি সুন্দর লাগছে মা। আজ যদি তোর বাবা থাকত ......!
জেঠিমা এসে মার হাত ধরে, ছিঃ ছোট ওভাবে কাঁদে না। ওতে মিনুর অমঙ্গল হবে।
সত্যি বলতে নতুন হয়ে ওঠার চেতনায় আমি এতটাই বুঁদ হয়ে ছিলাম যে মার কষ্ট আমায় সেদিন ছুঁয়ে যায় নি।

সাদা আমির কথা

আচ্ছা মাত্রতো একবছর হল আমার জন্ম। আমার সিঁদুর কৌটোটা খোয়া যাওয়ার পরেই মিনুর ভিতর থেকে এই সাদা আমির জন্ম। আচ্ছা আমার সিঁদুর কৌটোটা কে চুরি করলো বলো তো ? জন্মের শোধ হারিয়ে গেল আমার জীবন থেকে। আমার বুকের ভিতরটা সারাক্ষণ হাহাকার করে। আমিতো কত খুঁজি ...............। খুঁজি আর খুঁজি। খুঁজতেই থাকি। তবু পাই না! এত সাদাতো আমি কোনদিন চাইনি।
এই এক বছরের মধ্যে বোনের বিয়ে হল। বিয়ের আসর থেকে ছল করে আমায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বাসরঘরে আমি বোনের মুখটা দুহাতে ধরে দেখি। কিন্তু মমতার বদলে দুচোখ দিয়ে শুধু টপটপ করে কান্না নেমে আসে। মনে হয় মুখের ভিতর শিলাবৃষ্টি নামে। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। মনে হচ্ছিল হঠাৎ করে হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় হিহি করে কাঁপছি আমি। আর বাসরঘরের জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছে যে লাইটপোস্টটা অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেটা যেন তীব্র আতর্নাদ করছে। মা এসে বিরক্ত মুখেই বলে, ছিঃ মিনু ওভাবে কাঁদতে নেই। ওতে চিনুর অমঙ্গল হবে।
সাদা আমি মায়ের চোখে চোখ রাখি। এখন আমার চোখে আগুন জ্বলে। অনেক বছর আগে মায়ের চোখের জলের মানে খুঁজে পাই – জ্বলন।



মুছে গেছে রাতের যাবতীয় গণিত। নিটোল জলছবি। হলুদ উন্মাদনা। উষ্ণ জোছনা নিভে গেছে। রুগ্ন কুপির তেলে ঐ কালো মেঘের ছায়া। এখন শুধু ধারালো রুদালি দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা। হাঁকপাঁক করে খোঁজে মিনু তার সিঁদুর কৌটো। মনে হতেই পারে পৃথিবীময় ওলটপালট করা এত এত সবকিছু ঘটে যাচ্ছে আর মিনু, তুমি কিনা পড়ে আছো তুচ্ছ একটা কৌটোয় ভর করে।
ঘাড় নাড়ে মিনু - উহু তুচ্ছ কৌটো নয় গো। ওটা আমার সিঁদুর কৌটো।
লাল আমি হাসে - জড়ের বিরুদ্ধে চিৎ করেছে বিদ্রোহ ঘোষণা।
সাদা আমি কাঁদে - মন্দ্রিত হয়েছে মহাকালের ডমরু ধ্বনি।

লাল আমির কথা

বিয়ের পর থেকে আমার প্রায় নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিয়ে বেড়ানো। আর প্রতি পুজোর সময় সিঁদুর কৌটো দিতাম। তারপর সেই সিঁদুর একটু মিশিয়ে নিতাম আমার সিঁদুর কৌটোয়। ‘ও’ হাসত। বলতো, কি গো আমার প্রাণ ভোমরাকে শক্ত দড়িতে বাঁধছ বুঝি।
যেখানে যেতাম সিঁদুর কৌটোও আমার সঙ্গে যেত। একবার ‘ও’ গলায় সিঁদুরের দাগ নিয়েই কাজে চলে যায়। বন্ধুরা খেপায়। রাতে আমায় কপট রাগ দেখায়। তোমার ঐ ধ্যাবড়া করে সিঁদুর মাখা বন্ধ কর মিনু। নতুবা সিঁদুর কৌটোটা আমি দূর করে ফেলে দেবো কিন্তু।
আমি ডান হাতের পাতা দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরি। ছিঃ। এসব কি অলক্ষুণে কথা। আর কোনদিন বলবে না।
‘ও’ আমায় দুহাতে কাছে টেনে নেয়। বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে নিতে বলে, মিনু আমার সন্টা মন্টা পুচু বউ।
নারী জন্মের মানে খুঁজে পাই। গভীর আশ্লেষে আমার চোখ বুজে আসে। ঠোঁটের কোণে জেগে থাকে পরিতৃপ্তির হাসি।

সাদা আমির কথা

সাদা পোশাকে নিজেকে নিজের কাছে কি যে জঘন্য লাগে তা বলে বোঝাতে পারব না। যদিও আমার আলমারি ভতি থইথই করছে রঙিন (লালই বেশী) শাড়ির দঙ্গল। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নামে পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, এমন কি আমার স্কুলের মিতাদিও সেদিন বললো, যাই বল তোমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কিন্তু সত্যি ভালো। কেন ভালো জানো? ওর শ্রাদ্ধের দিনই ঘটা করে ঘোষণা করেছিল ওরা, তোমার কিই বা বয়েস তুমি আমিষই খেয়ো, শুধু বছরে একবার অম্বাবচি আর একাদশীগুলো করো।
তারপর থেকে এই দিনগুলোতেই আমি পাগলের মতো সিঁদুরের কৌটোটা খুঁজে বেড়াই। কেউ আমায় বিন্দুমাত্র সাহায্য করে না কৌটোটা খুঁজে বার করতে। আমার সাদা সিঁথি ক্রমশ চওড়া হতে থাকে। আমার কি কুৎসিত লাগে এই সাদা রঙ। কাউকে জিজ্ঞাসা করতে সাহস হয় না। তাই মাকেই একদিন জিজ্ঞাসা করি, মাগো তুমি জানো আমার সিঁদুর কৌটোটা কোথায়? ওতে আমার কামাখ্যা, ছিন্নমস্তা, কঙ্খালিতলা, ফুল্লরা, কিরীটেশ্বরী, নলহাটেশ্বরী, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, ঘাঘরবুড়ি, ভিরিঙ্গিতলা কতশত মন্দিরের প্রসাদী সিঁদুর আছে।
মা বলে, ছিঃ মিনু তোর মাথাটাই খারাপ হয়ে গেল নাকি?
মাকে কি করে বোঝাই সিঁদুর কৌটোটা যে আমার প্রাণের চেয়েও দামী। সত্যিই হারিয়ে গেল!






মিনুর বড় ননদের ছেলে বাতাস ছাত্র রাজনীতি করে। সে এসে মিনুকে খুব করে বোঝায় মামী তুমি আমাদের মিছিলে একবার হাঁটো। দেখবে তোমার সব হতাশা কেটে গেছে। তুমি জানো উপাচাযের জন্য এতগুলো ছেলেমেয়ে মার খেলো। আর যেই মেয়েটার শ্লীলতাহানি করা হল ...............।
মিনু বাতাসকে থামিয়ে দেয় - হ্যাঁ বাবা তোমরা তদন্ত কমিশনে শাসক দলের লোক রাখতে চাও না তা জানি।
বাতাস উৎসাহ পায় - তবে?
বাতাসের চুল ঘেঁটে দিয়ে মিনু বলে, কার জন্য এই আন্দোলন। সেই মেয়েটিই তো নিজেকে বিকিয়ে দিল।
তারপর একটা দীঘর্শ্বাস ফেলে বলে, আমারও একটা আন্দোলন আছে বাবা।
বিড়বিড় করে মিনু। স্বেচ্ছাচারী কালমিতির মুখোমুখি হতে চাই আমি। শিরায় শিরায় বাজে আমার বিদ্রোহের নহবত। আমিতো ভালবাসায় ফতুর হতেই চেয়েছিলাম গো। শুধু সে মানুষটি নেই বলে আমার সিঁদুর পরার অধিকার হারাবে, এ কেমন ধারা নিয়ম।
চোখদুটো দপ করে জ্বলে ওঠে মিনুর। পাগলের মতো বাতাসকেই শুধোয়, তোমাদের আন্দোলনের ভিড়ে আমার সিঁদুর কৌটোটা হারিয়ে যায় নি তো?
বাতাস ভয় পেয়ে যায় - কি বলছ তুমি মামী এসব।
মিনুর সূযর্হীন দিনে ধীরে ধীরে চেতনা ফিরে আসে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, সত্যি করে বলতো তোমরা কলেজে গাঁজা খাও না?
থমকে যায় বাতাস। তারপর আত্মপক্ষ সমথর্নের ভাষায় বলে, কেউ কেউ হয়তো খায়। তা বলে আমাদের দাবী .........।
তজর্নী তোলে মিনু - বেড়িয়ে যাও বাতাস। আমাকে আমার সিঁদুর কৌটোটা খুঁজতে দাও।

লাল আমি স্মৃতি খুঁড়ে বেড়াই। ...... ঘুম ঘুম চোখে দেখি নেমে আসে শুধু শঙ্খ লাগা রাত।
সাদা আমি ভেসে ওঠে – রাতের অন্ধকারে সব শব্দ অস্ত গেছে। জেগে রয় নিবীর্জ সময়।

লাল আমির কথা

পরপর দুটো মিস্ক্যারেজের পর ডাক্তার আমার মা হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিল। ‘ও’ আমাকে বোঝাতো, মিনু আমরা দুজন দুজনকে এতো ভালোবাসি সেখানে দুঃখী থাকবো কেন? তোমার জীবনে আমিতো আছি মিনু। সারাজীবন দুহাতে আগলে রাখবো বলেই আমায় বুকের ভিতর টেনে নিত।
আর আমি ছোট্ট বাচ্চাটি হয়ে গুটিসুটি মেরে ওর বুকের ভিতর ঢুকে যেতাম। ভালোবাসার রাজপাটে আমরা যেন দুই কবুতর। মাত্র একবছর আগের পুজোর দশমীতে চওড়া লালপেড়ে গরদ, আলতা সিঁদুর, বড়ো লাল টিপে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়ে বলি, বলতো কেমন লাগছে?
‘ও’ নূপুরপরা পায়ের পাতাদুটো ওর বুকের ভিতর চেপে ধরে বলে, ত্বমসি মম জীবনম্‌ / ত্বমসি মম ভূষণম্‌ / ত্বমসি মম ভবজলধি রত্নম্‌ ।
বড় যত্নে মায়ের পা ছোঁয়ানো সিঁদুরটা সিঁদুর কৌটোয় ভরে রেখে দুগালে সিঁদুর মেখে এসে ওর বুকে মুখ ঘষে দিয়ে এক ছুটে পালাই।
‘ও’ চোখ পাকায় - মিনু ভালো হল না কিন্তু।




সাদা আমির কথা

মাত্র কয়েক মুহূত। তাতেই হারিয়ে গেল আমার লাল রঙ। হারিয়ে গেল আমার প্রিয় সিঁদুর কৌটো। ‘ও’ বলেছিল, মিনু চল তোমায় চাউ খাওয়াতে নিয়ে যাব।
টিপটিপ করে বৃষ্টিতে প্রথমটা রাজী হই না। শেষে ওর জোরাজুরিতে রাজী হতে হয়। ‘ও’ আমায় ওর উইন্ড চিটারটা পরিয়ে দিয়ে বলে, ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগলেই তো হাঁচি শুরু হবে। তারপর টুপির দড়িটা টেনে দিয়ে বলে, মিনু, তোমাকে আমার সত্যি সত্যি পুচু বউ দেখাচ্ছে।
রাস্তায় বের হতেই বৃষ্টির জগঝম্প তেরে আসে। ‘ও’ আমায় হাত ধরে নিয়ে এসে একটা বট গাছের নীচে দাড় করায়। বৃষ্টির জলে কপালের সিঁদুর ধুয়ে যায়। উল্টোদিকের চায়ের দোকান থেকে ‘চা আনি’ বলে এক ছুটে রাস্তা পার হতে যায়। আর তখনই আকাশের বুক ফালাফালা করে বাজ পড়ে। আলো আর শব্দের মিলমিলাপের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়ে রাস্তায় .................................... ।



বাতাসকে কি সব ভুলভাল বলবার পর শ্বশুরবাড়িতে আর জায়গা হয়নি মিনুর। একটা বাচ্চাকাচ্চা থাকলেও তবু নয় লড়াইটা জোরদার হত। আইনি অধিকার থাকলেও মিনু পারে নি। মায়ের কাছে ফিরে এসেছিল। মা খুব সাবধানে রাখে মিনুকে। মা খেয়াল করেছে চিনু এ বাড়িতে এলেই মিনু জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে থাকে ওর সিঁদুর কৌটোটার দিকে। মিনুর স্কুলের মিতাদি বলে, টাকাপয়সা তো তোমার ভালই আছে। একটা ওয়ান রুম ফ্ল্যাট কিনে একা থাকো না। তারপর কাউকে যদি পছন্দ হয় বা কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিয়েও করে নিতে পারো।
ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মিনু। জড়িয়ে জড়িয়ে বলে, তাহলে আমার সেই সিঁদুর কৌটোটাকে ফিরে পাবো মিতাদি?
মিতা চাপা স্বরে ধমকায়, চুপ করো মিনু।

এবার পুজোয় মা পইপই করে মিনুকে নিষেধ করেছে, খবরদার মিনু তুই কিন্তু বিজয়ার সিঁদুর খেলায় যাবি না। ভুল করে তোকে যদি কেউ সিঁদুর লাগিয়ে দেয় তাহলে অনথ হবে।
মিনু ভুরু কুচকে মায়ের দিকে তাকায়। সন্দেহের গলায় বলে, মা তুমি আমার সিঁদুর কৌটোটা ফেলে দাওনি তো! কোথায় হারিয়ে গেল বল তো?
মা ঠাস করে চড় কষায় মিনুর গালে। তারপর কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বেড়িয়ে যায়।
মিনু বিড়বিড় করে, শিলাবৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে থেকে যে মানুষটির বরফ খাওয়া হয় নি তাকে চিনতে আমার ভুল হয় নি।

রাস্তা দিয়ে মিছিলের গজর্ন শুনে জানলার কাছে ছুটে আসে মিনু। হাজার হাজার কমবয়সী ছেলেমেয়েরা ওদের ইউনিভাসির্টির উপাচাযের অপসারণের দাবীতে আন্দোলনের ঢেউ তুলে যাচ্ছে। মিনু ফিসফিস করে বলে, এই শোনো আমারও একটা দাবী আছে। একটু বল না। আমার সিঁদুর কৌটোটা কে ফেলে দিল, কেন ফেলে দিল?

জানলার গ্রিলে মুখ ঠেকিয়ে দাঁড়ায় মিনু। এই প্রথম শব্দহীন ভাবে কেঁদে ওঠে সে। কাঁদতে কাঁদতে বলে, আমার সিঁদুর কৌটোটা কোথায় হারিয়ে গেল গো – ইছামতী? কোপাই? নাগর? নাকি দামোদর?

এখন আর দুটো আমি নয়। দুটো মিলিয়েই একটা। সঙ্গমের মুদ্রায় সাদা আমিটা শুয়ে আছে লাল আমির উপর। দমকে দমকে লাল আমি কান্নার দুলুনিতে বলতে চাইছে যেন কিছু। কিন্তু সাদা আমির আচ্ছাদনের তলায় লাল আমিকে আর দেখা যায় না। খুঁজেও পাওয়া যায় নি আর সিঁদুরের কৌটোটা।