না প্রেমের গল্প

সাঁঝবাতি


ষষ্ঠী
না ঘুমিয়ে কাটানোর মত সময়ে; মুখে রোদ পড়ার মত তুমি এসে পড়লে। হেসে পড়লে আমায়। আর হাসি দেখে আমার জন্মের ঘুম পেল। আত্মহত্যার জন্যে আজ আর ঘুমের ওষুধ খেতে হবে না আমাদের। ওটা প্রেমের মত নাটুকেপনা। ‘সাথিয়া’ যেভাবে বিষ’ণ বলিউডি। প্রত্যেকটা প্রেমের শুরুতে ও শেষে একটা শ্লেষ ও শ্লেষ্মা দিয়ে ঢাক বাজছে। আমাদের ঘুম পাচ্ছে। তুমি আমার মধ্যে ঢুকে ঘুমাতে একটুও ভয় পেলে না, এইটুকুন একটা...! এতগুলো ওয়্যারউল্ফ কুন্ডুলি পাকিয়ে শুয়ে আছে আমার মধ্যে। ওয়্যারউল্ফ মাঝরাতে মাথা তুলে দেখলো যার বুকের পর মাথা রেখেছে সেটা আসলে একটা সিংহ !

কোথায় আমি ঢাকের আওয়াজে ঘুম ভাঙাতে চাইলাম।
আর আমার আওয়াজে ঢাকের ঘুম ভাঙল, সাথিয়া।


সপ্তমী
এত ভোরে কোথায় যাবো ভাবছি। সাইকেলে করে কাশফুলের বাগানে বা চাতরার ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। হাওয়া নেই। দম নেই। সাইকেলের। গতি এমন একটা ইয়ে যার জন্যে হাওয়া লাগে। আমরা কোনো প্ল্যান ছাড়াই কি হাওয়া হয়ে পারি? আমরা এমনিই বেরিয়ে পড়লাম। বুঝতে পারছিনা কোথায় যাবো। এমন সময় ভুল করে একটা মিথ্যে মিথ্যে জঙ্গলে ঢুকে পড়লাম। কি লোক বাবা কি লোক। না না এইগুলো গাছ! আসলে গতি পেয়ে গেছে। না হতে পারছি মানুষ না হতে পারছি গাছ। না যেতে পারছি পালিয়ে না ফিরে আসতে পারছি। এই মুহূর্তে সে বলল- গেট লস্ট। আমি বললাম কোথায়। সে বলল- হুইখেনে! আমি দেখলাম লোকগুলো সারি সারি লম্বা রডোডেনড্রন হয়ে কি আলোয় সেজেছে, আমি তাদের থেকে বেঁটে হয়ে পায়ের কাছে পড়ে আছি। মাথা দেখা যাচ্ছে না তাদের। শুধু মাত্র অন্ধকার আকাশ! আবার একটা ধাক্কা খেতেই সে মুখ ঝামটালো- বললাম না, মাথা তুলে দেখো। ওই কালো আকাশটা। গো, গেট লস্ট ওভা দেয়ার।


অষ্টমী
সাদা লাল শাড়ি পড়ে দেখতে চেয়েছিলে বলে গায়ে আগুন লাগিয়ে এলাম। এবার তুমি নিজের গায়ে কতটা কেরোসিন ঢালবে তোমার ওপর নির্ভর করছে। দেখো আসেপাশে কেমন হুহু দাবানল লাগছে। বারনল শব্দটা বাংলা না ওষুধ ভাবতে ভাবতে ভেসে গেলাম। সন্ধিপুজো। ১০৮ স্বরসন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধি অং বং কিং কং করার পর তিনি বলেই বসলেন- একি! এত টিপিকাল সনাতনী সাজে ব্যাভারে আচারে অঙ্গে... আমি যে জানতাম তুমি লেসবিয়ান’শিপে বিশ্বাস করো!

আমরা পড়েছিলাম ক্লাস নাইন বা টেনে ‘টাইটানিক ইস আ বিগ শিপ দো ইট সাংক’
মাই গড, দো মানে দুজন। মাই গড, আমরা জাস্ট ডুবে যাচ্ছি।
‘লিঙ্গ থেকে আলিঙ্গনের’ দিকে!

আপনার বিশ্বাস একদিন সাহস পাবে, সৎ পাবে, শক্তি পাবে, চোখ পাবে এবং আপনাকেও খুঁজে পাবে বলে বিশ্বাস রাখি। আপাতত আপনি বারনল খুঁজতে শুরু করুন।

নবমী
মিষ্টির দোকানে, সুসির স্টল যাই কিনি, আই সি ইউ আই সি ইউ। এর মানে তুমি জানবে না জানি। তুমি অনেক মুভি দেখনি। তুমি দেখতে পাচ্ছো না, কেমন মুভি মুভি ওলা নোটবুক সিনেমা থেকে টুকে নেওয়া দুপুর। সব্বার গালে খুশির চুমু চুমু গন্ধ আর আমাদের চুমুগুলো অমর হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে বেলুন হয়ে। এইভাবেই মানুষ না মরে বেঁচে থাকে। আমি ছবি তুলছি, তুলে রাখছি তোমার না দেখাগুলোকে। তুমি তো আর দেখবে না। আসলে চোখে জল আসুক বা না, বৃষ্টিতে কলকাতা ভাসুক বা না, কিছু জিনিষ মেনে নাও, যেমন কয়েকটা বেলুন মনে ই থেকে যায়। জীবনে থাকে না।
আমি কি বিরক্তিকর ইমোশনাল ফুল!
ফুলের নাম বুনো...

দশমী
আমার খিদে তখনও কিছুটা বাকি
তেষ্টা আরো কিছুটা ছিল...
মাগো; এত স্পটলাইটে হঠাৎ করে পড়তেই বুঝলাম বিসর্জন! বিষ... তাই মুখে জোর যার করে মিষ্টি কথা ঠুসে দিয়ে ভাগিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করছো।

তুমি কি করে গেলে বুঝে ওঠার আগে সুখ আমায় ছেড়ে গ্যালো। ঘুম ও!

অন্ধকার করলাম প্রেমটেম।
একটা বিষাক্ত অসুস্থ কাঠামো
লাইট টাইট নিভিয়ে একাই তো শুতে হবে যখন

এইবার ঘুমো!