অ্যান্টেনা

দীপ্তিপ্রকাশ দে


ওই তো
দ্যাখা যাচ্ছে এখনও
তোমাকেই

অগুনিত ফুলের টব
আর জলঘর পেরিয়ে
স্কুলছুটি পায়চারী করছে ওড়নায়

সাইকেল শেখা ফেলে
এসব লুকিয়ে উঠে পড়া বিকেলের
কোনও সাক্ষী ছিল না একদিন
ছাদে
অ্যান্টেনা ছাড়া

পালকিপাড়া

পূর্বে এপাড়ার সকলেই পালকি বহন করিত । ডাক আসিলে দর হাঁকাইয়া জানান দিতে হইত – কাহার দাম কত ! তারপর শিবিকার হাল দেখিয়া , অন্দরসজ্জা চাক্ষুষ করিয়া , বেহারাদিগের গঞ্জিকা সেবনের ইতিবৃত্ত জানিয়া বায়না চূড়ান্ত হইত । রায়বাড়ির বনেদি গৃহিনী হইতে ঘোষ পরিবারের দাপুটে মেজকর্তা পর্যন্ত ওই বারো পায়ের জাদুর উপর ভরসা রাখিয়াই নতুন জীবন শুরু করিয়াছিলেন একদিন । সে-কাল গিয়াছে । দামোদরে জল বইয়াছে অনেক । এখন এপাড়ার ছেলেরা মোবাইল লইয়া মনোপলি বিজনেস করে । কেহবা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি হাঁকাইয়া থার্ড হ্যান্ড মহিলার পাশে ফোর্থ হ্যান্ড পুরুষকে বসাইয়া গোপনে বকখালি লইয়া যায় ।
পালকিপাড়ার মেয়ে-বউরা আগে চাটাই বুনিত । হাসিত , খেলিত , ঢলিয়া পড়িত এ-ওর অঙ্গে । মরদ গৃহে ফিরিলে রসুন-তেল গরম করিয়া শুশ্রূষা করিত পায়ের । এখন তাহারাই বালিসে মাথা রাখিয়া দিদি নম্বর ওয়ান দেখিয়া কাটায় । আর ফোঁপাইয়া ফোঁপাইয়া কাঁদে – এ জীবন লইয়া কী-করিব , এ জীবন লইয়া কী করিব …