পত্র কবিতা : হেঁট মুন্ডের প্রতি

বিদ্যুৎলেখা ঘোষ


পুঞ্জমেঘের নকাব সরিয়ে স্মিতচন্দ্রিমা তসলিম জানায় আজও
তীরের সবুজ ছোঁয় তার বাতাসে লহর তোলা জ্যোৎস্না উড়নি
কালো কালো অক্ষরে উদ্দাম বয়ে চলা কথা-লাভাস্রোত বলে
অপরাধ না করেও কুরবান হয়েছে কত নারী রাত ভোর হলে
ভয়ানক সে কুরবানি রুখে দিয়েছিলো বুদ্ধিমতী মেয়ে,
কুন্ঠার কোন জমাট অন্ধকারে নিজেকে লুকিয়ে বাদশাহ সাহরিয়ার ?
“ হাজার রজনী ধরে যে কাহিনীর মালা গেঁথেছিলো এক আরবসুন্দরী
শুনিয়েছিলো বাদশাহ সাহরিয়ার কে” – এই অনুষঙ্গ ছাড়া
একা মনে পড়ো কি কখনও অমলিন বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল ?
প্রতি পঙক্তিতে যেখানে ঢেউ খেলতো ‘সুখসায়র’
আসিক মাসুকার সাথে পরাগ মাখতো আধফোটা কুঁড়ি
বসরাই গোলাপের পাপড়ির নির্যাস উপহার দিত প্রেমের ইবাদত,
সুরা আর সাকীর সেই কথামালা বুকে ঘুমিয়ে যেতে কি করে?
মখমলি তাকিয়ায় আয়েশে শরীর এলিয়ে যখন হুকুম দিতে
“হাজার রাতের রাণী শোনাও তোমার কাহিনী শেহেরাজাদ”
অতন্দ্র কথকতা যে বুনে গেছে জরিন সোনালী স্বপ্নের মত,
চায়নি কি সেও ছোট্ট এক কস্তিতে ঐ সুখসায়রে ভেসে যেতে দোঁহে ?

আবাল্য কৈশোর তোমার বেগম আমার প্রাণের সহচরী
কালসিন্ধু পেরিয়ে তার মধুস্বর শুনি যেমন শুনত বহিন দুনিয়াজাদ
রাত্রির তপস্যায় পরমযত্নে সেই তো জ্বেলে দিত পবিত্র আগুন
ধু ধু আগুন শুধু ফসল ফলাতো তারপর ... তারপর ... তারপর
অতিক্রান্ত প্রায় তিনটি বছরে বেগমের ভেতর খুন হল গল্প বলা মেয়ে
আলিশান মহলে তারপরের সব রাতে আর বুঝি ঢেউ ওঠেনি সুখসায়রে,
ধু ধু আগুন আর কেন বোনেনি ফসল তারপর ... তারপর ... তারপর ?
সুকৌশলে চিরবন্দী বাদশাহ সাজা কাটছো তার কাহিনীপিঞ্জরে
অমরকথার মাঝে এ সব বেওকুফি নিয়ে লুকিয়ে আছো সাহরিয়ার
ভাস্বর প্রেমের রামধনু বর্ণমালায় অপাংক্তেয় এক হেটমুন্ড অক্ষর ।