ম’এ মিস্টেক?

দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়

মিস টেক আর মিস্টার গিভ এর একটা মাখোমাখো স্যাঁতস্যাঁতে অথচ হাল্কা ধোঁয়া ওঠা চকচকে পলিসি চলছে । এটা কে কি “ গিভ অ্যান্ড টেক পলিসি ” বলা যাবে ? এরকম একটা খাজা লাইন দিয়ে লেখা শুরু হয়ে পড়লো ... এবং সামনে এন্তার কিছু মিস্টেক এসে পরবে ... অসংখ্য স্পিড ব্রেকার সহ গলতা ... বাইপাস নিয়ে নিন।

সমানচিহ্নের পেট কেটে দিলে অসমানচিহ্ন জন্মায় ...অসমানচিহ্ন কি তবে সমানচিহ্নের লাশ কিংবা সিসার বেবি ? ভাঁট । ইংলিশ স্যর টিন এজ কে মিস্টেক এজ বলতেন বটে, তবে আমাদের “ ভালোবাসা ” নামক ইন্সটিটিউশানে মরচে ও প্রলেপ পরেছে । এরকম অবস্থায় বেশ একটা ঝড় ঝড় ভাব । কিন্তু কোনো মিস্টেক হচ্ছিলো না । দিব্য সক্কলে টেস্ট পেঁদিয়ে টেস্ট পেপার করছি । এমন সময় ব্যাপারটা ঘটলো । সায়ন গলায় দড়ি দিলো। এই ঘাপলাটা যে হয়ে যাবে কেউ ভাবতে পারেনি । না ভাবা হয়নি বলেই হয়ত হোলো । ওর কাকা আঁশ বঁটি দিয়ে দড়ি কেটে নামিয়েছিলো । আমাকে বাড়ি থেকে যেতে দেয়নি সায়নকে দেখতে। ভয় পাবো । কোনটা মিস্টেক আমার জানা নেই । সায়ন কিন্তু টেস্টে ৮৩% পেয়েছিলো । সেই দড়িতাকে সযত্নে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিলো ।
সায়নের একটা স্বভাব ছিল... জেম্‌স কেনার। সব্বাই কে দিয়ে খেতো... আজ বুঝি, ও আমাদের জিভে দিনের পর দিন থাপ্পর মেরে গেছিল ... আমাদের ভোগবাদের নোলা কে । ভোগবাদ আমাদের ডিএনএ গত, কমিউনিজ্‌ম মস্তিষ্কজাত কাউণ্টার ...
ডিএনএ - র প্রতি কাউণ্টার ... and we cherish the battle of DNA and brain.


“ স্যার নেপোলিয়ান ক্যানো রাশিয়া আক্রমণের মিস্টেক তা করলো ?”

বরফের কামড় ... রাশিয়ান ভদকা ... মৃত্যু ... মিশর ... ঊটের ক্ষুরের দাগ মৃত্যুর মুখে ... নেপোলিয়ন ঘুম থেকে উঠলেন।

নাৎসি ক্যাম্পে উল্লাস ... মৃত্যু জমকালো পোশাক পরে ক্যাম্পময় নতুন সঙ্গী খুঁজছে !

সিলি মিস্টেক । উফ । এই শব্দ দুটো আমার কোচিংবেলাটাকে জ্বালিয়ে মেরেছিলও । অই বয়সে গ্র্যামার কিংবা অঙ্কে সিলি মিস্টেক মানে কিছু একটা হয়েছে। কি জ্বালা । আমার তো বরাবর হিস্ট্রি ক্লাসে মিস্টেক নেমে আসতো । ম্যাডামের নীল আঁচল জুরে তখন একটা বাস্তিল দুর্গের পতনের অপেক্ষা।

“ তোমাকে বিয়ে করা আমার জীবনের সব থেকে বড় মিস্টেক ?” । আহা । জয় হিন্দি – সিরিয়ালের – বাংলা –ভার্সান - ও – বাংলা – সিরিয়ালের – হিন্দি – ভার্সান – ও – বাংলা – সিনেমা – ও – সমস্ত – সুখি – অসুখি –
দম্পতি - আধাদম্পতিগুচ্ছ।

“ শালা জানিস তো আমি প্ল্যান্ড চাইল্ড । দাদার থেকে পাক্কা ৫ বছরের ছোটো । যেদিনকে - এটা ভেবে
ফেলেছিলাম, প্রচণ্ড অস্বস্তি লেগেছিলো ”।

সে তার মিস্টেক্ময় জীবন নিয়ে স্নেক স্নেক গেম খেলে এখন হেব্বি ফ্রাস্ট্রু । একটা ল্যাদল্যাদ নালঝোল ক্যালেন্ডার যার সব কটাদিন একই রকমের দেখতে। এরকম চরিত্র বেশ খাসা পরিমাণে চারপাশে কমন । মিস্টেক বলে কিছুই কি হয় ? স্পেলিং মিস্টেক ? হয় ? ? মিস্টেকগুলো কি নিজেরাই একটা আলাদা ডিক্সনারি – আয়না –
দেওয়াল – ঘাতক – পাপড়ি নয় ? ল্যাদল্যাদে কমন ও শূন্য মুখগুলোর একটা আলাদা দেখতে প্রশ্নচিহ্ন –
বর্নমালা – প্যালেট নেই ? মিস্টেকের প্যারালালে ঠিক কোন ভ্রুনঅনুভুতি বা সংজ্ঞা রাখা গ্যাছে ? যায়নি । মিস্টেক অপরিহার্য ... একটা চরম মিস্টেক একটা চরম ভ্রূণ ... হোক না বাতিল কিংবা বেওয়ারিশ প্রাকটিস ...
ম্যানিকুইন ... ন্যাতা ... দগদগে মাছি ওড়া ঘা ...

“ সোভিয়েত - এর পতন ”

সারাজীবন আর্দশবাদী কমিউনিজম করেছিল । ব্রিগেড থেকে ফেরার পথে ৪০৭ থেকে পড়ে যায় । পেছনের চাকা কোনও মিস্টেক করেনি । নিখুঁত লাইন লেন্থ। তাহলে মিস্টেকটা কে করে ফেলেছিল ? একটা লাইনের প্যারালাল একটা লাইন’ই হতে পারবে এমন তো না । অসংখ্য লাইন হতে পারে । একটা সমাজ তখন ’ই প্রেগন্যান্ট হয় যখন তার জরায়ু ’ র মধ্যে দিয়ে অনেকগুলো প্যারালাল লাইন চলে যায় । অনেকগুলো লাইন যখন আর সালফার রঙের হয় । যখন অনেকগুলো মিস্টেক একসাথে হলুদ ষড়যন্ত্র করে ঝাঁপিয়ে পরে অন্তিম খাদে ।

তোজোর কুকুর ... সন্ত্রাসবাদী ... বঙ্গ ভঙ্গ ... বাবরি মসজিদ ... ওসামা বিন লাদেন ... গাজা ।
চিলেকোঠা থেকে বাথরুম ভায়া কুমারটুলি , ন্যুডিটি , গ্যাংগ্রীন । পাদানি টু ফুটপাথ । পত্তন ও পতন। প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েল । এম ৩৭০। শ্যাওলা পরা মেঘ । নতুন রঙের ট্র্যাফিক জ্যাম। সেই রঙের’ই লালা- মিস্টেক ।
মিস্টেক ... ' মোম ' বাদী মিছিল ... ছোট্টো ঘটনা ... ব্লা ব্লা ...