মৃত্যুর অধিকার

কেয়া মুখোপাধ্যায়

ইচ্ছে ! ইচ্ছে !
সেই তো ভাঙছে , সেই তো গড়ছে ,
সেই তো দিচ্ছে নিচ্ছে ।।

যুগ যুগ ধরে মানুষ ইচ্ছের বশবর্তী হয়ে আছে। ইচ্ছের কোন সীমা পরিসীমা নেই । কতকমের ইচ্ছে যে মানুষেরজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে তারও তো কোন ইয়ত্তা নেই। শুধু ইচ্ছে বললে অবশ্য সবটা বলা হয় না। ইচ্ছে হল, ইচ্ছেপূরণ হল না, সে বড় নিদারুণ, বড় যন্ত্রণার।
যা-ইচ্ছে, ইচ্ছে করি
ইচ্ছে যেন হয় পূরণ
তবেই হবে জীবন ভরে
সপ্তরঙের বিচ্ছুরণ।

তবে সেই যে অর্থনীতির গোড়ার কথায় লেখা আছে মানুষের চাহিদা অসীম !
প্রাণমন লয়ে সেই অসীমের অভিলাষী হয়ে এত দূর ধাইবার বাসনা মনে মনে পোষণ করছে মানুষ , যে তা এখন জীবনের সীমারেখা অতিক্রমকরে হাত বাড়াচ্ছে মৃত্যুর দিকে। নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে জীবনকে , এমনকি মৃত্যুর নিরিখে । চাইছে ইচ্ছামৃত্যু ।

কবে প্রথম এমন ইচ্ছে পোষণ করল মানুষ , তার অন্বেষণে তন্ন তন্ন করে বিশ্বজুড়ে পরিক্রমা করার ইচ্ছে হতেইমনে পড়ল ভীষ্মর কথা । হ্যাঁ, আমাদের মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম । পিতা শান্তনুকে বহুদিন ধরে চিন্তামগ্ন দেখে খোঁজ নিয়ে দেবব্রত জানতে পারলেন ধীবররাজের কন্যা সত্যবতীর চিন্তায় আচ্ছন্ন তিনি । দেবব্রত নিজেই ধীবররাজের সঙ্গে দেখা করলেন । ধীবররাজের শর্ত , তাঁর কন্যার সন্তানকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার দিতে হবে। দেবব্রত কথা দিলেন , তিনি সিংহাসনের দাবী করবেন না । তাতেও খুশী না হয়ে ধীবররাজ বললেন , তুমি না হয় বসবে না , তোমার উপর এ বিশ্বাস আমার আছে । কিন্তু তোমার পুত্রেরা যদি সিংহাসনের দাবী করে ? তখন দেবব্রত চরাচর সাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করলেন যে কোনদিন তিনি বিবাহ করবেন না । এই ভীষণ প্রতিজ্ঞার ফলে তাঁর নাম হল 'ভীষ্ম '। পিতার অভীপ্সিতা কন্যা সত্যবতীকে তিনি নিয়ে এলেন হস্তিনাপুরে । পুত্রের এই কাজে আপ্লুত পিতা শান্তনু কৃতজ্ঞতা জানাতে পুত্রকে দিলেন অনায়াস
মৃত্যুর বর , ‘ ইচ্ছামৃত্যু ’ - র অধিকার । মৃত্যু অমোঘ , মৃত্যু একদিন আসবেই , কিন্তু যখন তখন দুম করে এসে পড়বে না । যখন সত্যি সত্যি মনে হবে এবার জীবন থেকে ছুটি নেওয়া যায় - তখন মৃত্যুকে ডাক পাঠালে সে এসে দাঁড়াবে । ইচ্ছামৃত্যু বর পাওয়ায় শরশয্যায় শায়িত অবস্থাতে ও পিতামহ ভীষ্ম মৃত্যুকে বিলম্বিত করেছেন , জীবনকে দীর্ঘায়িত করেছেন । উত্তরাধিকারীদের কল্যাণের কথা ভেবে আটান্ন দিন ধরে সূর্যের উত্তরায়নের অপেক্ষা করেছেন। যদি এত উদার আর মহান না হতেন দেবব্রত , যদি শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের জন্য পরিবারের ও জীবনের স্বাভাবিক বন্ধনকে মেনে নিতেন , ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা করে না বসতেন , তবে তো গোটা মহাভারতটাই অন্য ভাবে লেখা হত !

তা সেকালে নাহয় ইচ্ছামৃত্যুর বর পাওয়া যেত । কিন্তু একালে ? এখন আর বর দেবে কে ? তাই মৃত্যুর ইচ্ছাকরলেই আর তা পূর্ণ হয় না । অন্য নানা পদ্ধতির সাহায্য নিতে হয় সেই ইচ্ছা পূরণের জন্যে । তবে এই মৃত্যুর ইচ্ছা মানে কিন্তু আত্মহত্যা নয় । প্রশ্ন হল , একজন মানুষ মৃত্যু চাইবে কেন ? মৃত্যু মানুষ তখনই চায় , যখন জীবনটাকে বয়ে নিয়ে চলা তার কাছে খুব দুর্বিষহ হয়ে ওঠে । যখন তার মনে হয়, ‘ ফুরায়েছে জীবনের সব লেনদেন । ’ এই জগতের কাছ থেকে তার আর কিছু পাওয়ার নেই , দেবারও নেই। শুধু আছে অস্তিত্বকে বয়ে নিতে চলার তাড়নাটুকু । সেই অস্তিত্ব যদি অসহায় , অসুস্থ , অথর্ব কিংবা পরমুখাপেক্ষী হয় , তখন মৃত্যুর ইচ্ছাটাও তীব্রতর
হয়।

এ তো গেল স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা । এই স্বেছামৃত্যু আর আত্মহত্যা কিন্তু এক নয় । মানুষ যখন বহু বাসনায় প্রাণপণে কিছু চায় , তা সে যা - ই হোক , অর্থ , যশ , প্রতিপত্তি , খ্যাতি , কিংবা এইসব কিছুই নয় , চায় শুধু আর একজন মানুষকে ; আর যদি তার সেই চাওয়া - পাওয়া না মেলে , উল্টে আরো দূরে সরে যায় মরীচিকার মত , তখন সেই চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যেকার উত্তরোত্তর বেড়ে চলা দূরত্ব জন্ম দেয় ক্ষোভের । ক্ষোভের থেকে জন্ম নেয় হতাশা আর তার থেকেই মৃত্যুর ইচ্ছে বা
আত্মহনন । আত্মহননের মধ্যে কোথায় যেন একটা আত্মকেন্দ্রিকতা আছে সুনিশ্চিত ভাবে । যখন মানুষ তার নিজের লিমিটেশন নিয়ে মোটেই ভাবে না ; যা চায় , তা পাওয়ার কতটা যোগ্যতা তার আছে তা নিয়ে কোনও পর্যালোচনা করে না , শুধু অতিরিক্ত ভাবাবেগে আর ক্ষোভে হতাশ হয়ে পড়ে , তখনই জীবনটাকে শেষ করে দেবার সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেউ অনায়াসে । কখনো কখনো আত্মকেন্দ্রিকতা ছাড়া হীনমন্যতাও এসে উঁকি দেয় এইসব ক্ষেত্রে । অন্য একজন যা পেল , তা আমি কেন পেলাম না , এই প্রশ্নে জেরবার হয়ে হতাশ মানুষ জীবন সম্পর্কে চরম উদাসীন হয়ে পড়ে নিজেকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নেয় ।

বলতে দ্বিধা নেই , জীবনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা না করে দু ’ বেলা মরার আগেই মরে থাকা আর শেষ পর্যন্ত জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া একটা বড় ভুল । আর তাই আত্মহননের যুক্তি বা কারণ যা - ই থাক , আমাদের দেশে আত্মহত্যার অধিকার স্বীকৃত নয় । আবার আত্মহননের ইচ্ছা আর মৃত্যুর ইচ্ছা বা ইউথ্যানাশিয়া – এরা কিন্তু পরস্পরের থেকে আলাদা । এই সবের থেকে আলাদা ইচ্ছামৃত্যুও । ইচ্ছামৃত্যু হয়েছিল পিতামহ ভীষ্মর , হত মুনি ঋষিদের । সে এক ভারি শান্ত সমাহিত ব্যাপার । কিন্তু ইচ্ছামৃত্যু নয় , আমাদের আলোচনা ইউথ্যানাশিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে ।

ইউথ্যানাশিয়া ব্যাপারটা ঠিক কী ? এর মানে কি মানবাধিকারে্র স্বীকৃতি ? নাকি এমন স্বাধিকার থেকেই স্বেচ্ছাচারের জন্ম হতে পারে ? ইউথ্যানাশিয়ার পিছনে রাজনীতি নেই তো? ধর্মই বা কী বলছে ? ইউথ্যানাশিয়া নিয়ে এরকম নানা তর্ক - বিতর্ক ,
যুক্তি - পাল্টা যুক্তি গোটা বিশ্ব জুড়ে চলছে দীর্ঘ দিন । ইউথ্যানাশিয়ার পক্ষে যেমন যুক্তি আছে তেমনি বিপক্ষেও যুক্তি কম নয়। আমরা তো আর ভীষ্ম নই কেউ ; তাই আমরা জানি না কবে কীভাবে মরব । অথচ মৃত্যু হল জীবনের সব চেয়ে অমোঘ সত্য । আমরা সকলেই চাই সে মৃত্যু যেন যন্ত্রণাদীর্ণ না হয় । যে মানুষ নিরাময়হীন রোগে জর্জর , যে রোগভোগে বোধশক্তিহীন , কিংবা যার অস্তিত্ব শুধু জড় বস্তুর মত , তাতে মানুষের শরীর আর মন - দুইয়েরই বড় কষ্ট হয় , বড় অমর্যাদা হয় । আসলে জীবন যখন কারো কাজে লাগে না , এমন কি নিজের কাজেও লাগে না ; উল্টে নিজেকে প্রতিদিনের জীবনে পরমুখাপেক্ষী হয়ে অসহায় যাপন করতে হয় , তখন রোগীর ইচ্ছায় , তাকে সসম্মানে পৃথিবী থেকে বিদায় জানাবার ব্যবস্থাই হল ইউথ্যানাশিয়া । এতে যেমন যন্ত্রণাদীর্ণ মানুষটিকে সসম্মানে বিদায় জানানো গেল ; তেমনি তার আত্মীয় - পরিজন - পরিবারও ওই নিদারুণ যন্ত্রণা প্রত্যক্ষ করা থেকে বেঁচে গেলেন । এর আবার একটা অন্যদিকও আছে । অনেকসময়ই মানুষটি হয়তো এমন শারীরিক অবস্থায় চলে গেছেন যেখান থেকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা আর সম্ভব নয় । বোধহীন শরীর জীবিত আছে শুধু যন্ত্রের মাধ্যমে , উদ্ভিজ্জ - প্রায় প্রাণ - ধারণ আর তার জন্যে পরিবার প্রায় সর্বস্বান্ত হতে বসেছে । তখন কি কাম্য নয় তাঁর জীবনের অবসান ঘটিয়ে পরিবারটিকে বাঁচানো ? সেই সিদ্ধান্ত তো ভুল নয় ! না হলে এই রকম ‘ লস্ট কজ ’ এর জন্যে একটা জীবন বাঁচাতে গিয়ে তো পরিবারের বাকি জীবিত সদস্যদের শান্তি , সুস্থিতি , ধৈর্য , আর্থিক নিরাপত্তা সব বিঘ্নিত হতে পারে ! কিন্তু সেই অসুস্থ , বোধহীন মানুষটির জীবনাবসানের অনুমতি কে দেবেন ? পরিবারের নিকটতম আত্মীয় ? না কি ডাক্তার ? না কি আইনজ্ঞ ? না কি তাঁর উত্তরসূরী? এটা আর এক বিতর্কিত বিষয়। অর্থই অনর্থের মূল। তাই অর্থ লোভে বা সম্পত্তির লোভে অসুস্থ মানুষটির উত্তরসূরীরা ইউথ্যানাশিয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার । আসলে স্বেচ্ছামৃত্যু বা ইউথ্যানাশিয়া নিয়ে এসব বিতর্ক আজকের নয় । এ বিতর্ক চলে আসছে কয়েক শতাব্দী ধরে । ঐতিহাসিক কেম্প এর মতে উনিশ শতকের শেষ দিকে এর সূচনা । যদিও প্রাচীন গ্রীস বা রোমে এর অনেক আগে থেকেই স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রচলন ছিল ।

‘ ইউথ্যানাশিয়া ’ শব্দটি গ্রীক । ‘ ইউ ’ অর্থ ভাল , আর ‘ থ্যনাটোস ’ অর্থ হল মৃত্যু । শারীরিক ব্যথা - যন্ত্রণার উপশম যখন আর কোনও ভাবেই সম্ভব নয় , তখন সেই যন্ত্রণা মুক্তি ঘটাতে স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণই হলই ইউথ্যানাশিয়া । ইউথ্যানাশিয়ার সূচনা কবে আর কোথায় খুঁজতে গিয়ে দেখি গ্রীসের কিয়া দ্বীপে আর মার্সেইলিসে হেমলক ব্যবহার করে ইউথ্যানাশিয়ার চল ছিল । সক্রেটিস স্বয়ং হেমলকের মাধ্যমে ইউথ্যানাশিয়ার প্রচলন করেন এথেন্সে। আবার সক্রেটিস , প্লেটো বা সেনেকার মত গ্রীক দার্শনিকরা জীবনাবসান ঘটাতে ইউথ্যানাশিয়ার পক্ষপাতী হলেও হিপোক্রেটিস কিন্তু এর ঘোর বিরোধী ছিলেন ।

ইউথ্যানাশিয়া তিন রকম । ভল্যান্টারি , নন - ভল্যান্টারি আর ইনভল্যান্টারি । অসুস্থ ব্যক্তির সম্মতিতে স্বেচ্ছামৃত্যু হল ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া । রোগীর সম্মতি ছাড়া ইউথ্যানাশিয়া হল নন - ভল্যান্টারি । আর স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিতে সক্ষম , এমন ব্যক্তির সম্মতি না নিয়ে বা তার অসম্মতিতে ঘটানো ইউথ্যানাশিয়া হল ইনভল্যান্টারি । এই তিন ধরণের ইউথ্যানাশিয়াকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা যায় - অ্যাক্টিভ ইউথ্যানাশিয়া আর প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়া ।অ্যাক্টিভ ইউথ্যানাশিয়াতে কোন প্রাণঘাতী ওষুধ বা ইঞ্জেকশন সরাসরি প্রয়োগ করা হয় । প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়াতে জীবনদায়ী ওষুধ , যেমন অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় ।

বিভিন্ন দেশে ইউথ্যানাশিয়া কার্যকর করার আইনও বিভিন্ন রকম । ব্রিটেনের হাউস অফ লর্ডস - এ মেডিক্যাল এথিকস সিলেক্ট কমিটির মতে ইউথ্যানাশিয়া হল অপরিসীম রোগ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য ‘ ডেলিবারেট ইন্টারভেনশন ’ । আবার নেদারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী ইউথ্যানাশিয়া হল রোগীর অনুরোধক্রমে ডাক্তারের মাধ্যমে তার জীবনাবসান ঘটানো । এই মুহূর্তে নেদারল্যান্ডস , বেলজিয়াম , লাক্সেমবার্গ , সুইজারল্যান্ড , এস্তোনিয়া আর আমেরিকার ওয়াশিংটন , ওরিগন আর মন্টানা রাজ্যগুলোতে ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া আইনানুগভাবে স্বীকৃত । ২০১৫ থেকে কানাডার কিউবেকেও ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া আইনী স্বীকৃতি পাবে । নন - ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া কোনো দেশেই আইনী স্বীকৃতি পায়নি আর ইনভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া তো খুন করার সামিল ।

আমাদের দেশে প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়া সম্প্রতি আইনী স্বীকৃতি পেয়েছে । ২০১১-র ৭ই মার্চ সুপ্রীম কোর্ট জানান যে ‘ পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট ’ - এ দীর্ঘদিন থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘ লাইফ সাপোর্ট ’ প্রত্যাহার করে পরোক্ষে স্বেচ্ছামৃত্যুকে ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। এর পিছনেও এক নিদারুণ যন্ত্রণার কাহিনী রয়েছে । ১৯৭৩ সালের ২৭ শে মার্চ মুম্বাইয়ের এডোয়ার্ড কিং মেমোরিয়াল হসপিটালের নার্স অরুণা শানবাগকে যৌননিগ্রহ করার সময় ওই হসপিটালের ওয়ার্ডবয় চেন দিয়ে অরুণার শ্বাসরোধের চেষ্টা করে । ব্রেনে সাময়িকভাবে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে অরুণার ব্রেন - স্টেম আর সার্ভিক্যাল কর্ড মারাত্মক জখম করে , তাকে অন্ধ করে দেয় । তখন থেকেই ‘ পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট ’ - এ অরুণা । তাঁর বন্ধু সাংবাদিক পিনাকী বিরানী মার্সি কিলিং-এর আবেদন করেন ২০১০ - এ । মার্সি কিলিং এর আবেদন নাকচ করে দিলেও ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রীম কোর্ট প্রথমবার ভারতে প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়ায় সম্মতি দেন । বলা হয় , কোনো রোগী যদি দীর্ঘ দিন কোমায় থাকেন , তবে তাঁকে খাবার খেতে না দিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য পরোক্ষে ইন্ধন দেওয়া যেতে পারে ; কিন্তু অবশ্যই পরিবারের লোক আর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে। ‘ খাবার খেতে না দিয়ে ’ স্বেচ্ছামৃত্যুর এই ধারণা হিন্দু ও জৈন ধর্ন থেকে গ্রহণ করা হয়েছে । এই দুই ধর্মেই না - খেয়ে মৃত্যুর অধিকার স্বীকৃত । সুপ্রীম কোর্ট বলেছেন - ‘ omission of support to life ’ কখনোই ‘ act of killing ’ নয় ; তাই এভাবে পরোক্ষে মৃত্যুর ইন্ধন দেওয়া কখনোই ভুল সিদ্ধান্ত নয় ।

মনে পড়ছে র্যাষমোন স্যাম্পেদ্রোর জীবন নিয়ে তৈরি স্প্যানিশ ছবি ‘দ্য সি ইনসাইড’-এর কথা । ১৯৬৮ সালে মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে একটা ড্রাইভিং অ্যাক্সিডেন্টের পর কোয়াড্রিপ্লেজিক শারীরিক অবস্থায় চলে যান র্যা মোন । স্পেনের উত্তরে গ্যালিসিয়ায় বাড়ির কাছেই সমুদ্রে ঝাঁপাবার সময় জলের গভীরতা আঁচ করতে পারেননি র্যারমোন । সমুদ্রের তলার পাথরে গিয়ে ধাক্কা খায় তাঁর মাথা । সেই আঘাতে স্পাইনাল কর্ডে ভয়াবহ জখমের জন্য ঘাড় থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে যায় । সেই পঁচিশ বছর বয়স থেকে শুরু করে জীবনের পরবর্তী ২৯ বছর র্যা মোন লড়াই চালিয়ে গেছেন মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকার পাওয়ার জন্য । জীবন যখন এমন দুর্বহ আর পরমুখাপেক্ষী , তখন ইউথ্যানাশিয়ার মাধ্যমে তার শেষ সীমাটুকু নির্ধারণ করে নেওয়ার অধিকার চাওয়া কি মানুষের ভুল ?

আসলে অন্য যে কোন বিষয়ের মতই ইউথ্যানাশিয়ার ব্যাপারেও ঠিক না ভুল - এই বিতর্ক বারে বারেই উঠে আসে । ১৯৩৯ সালের ২৪শে জুলাই জার্মানীতে হিটলারের নির্দেশে কয়েক লক্ষ জার্মান -ইহুদিকে মারা হয় , যাঁরা শারীরিক বা মানসিক ভাবে অসুস্থ। হিটলারের এই প্ল্যানটির নাম ছিল ‘ অ্যাকশন টি - ৪ । ’ এই প্ল্যান রূপায়নের দায়িত্বে ছিলেন ফিলিপ বোহলার এবং ডঃ কার্ল ব্র্যান্ড । অসুস্থ আর অকেজো মানুষদের দায়িত্ব নিতে পারবে না রাষ্ট্র - এই যুক্তি দিয়েই সাজানো হয়েছিল কুখ্যাত অ্যাকশন
টি - ৪ - এর কর্মসূচী । দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুব নাক - উঁচু ছিলেন
হিটলার । ‘ নীচু জাত ’ হিসেবে ইহুদি আর জিপসিদের চিহ্নিত করে তাদের হত্যার পাশাপাশি ‘ মানসিকভাবে অসুস্থ ’ আর্যদেরও হত্যা করে হিটলারের এই অ্যাকশন
টি - ৪ প্ল্যান । বিবিসি এই প্ল্যান কে বিবৃত করেছিল প্রথম ‘ স্টেট - স্পনসর্ড ইউথ্যানাশিয়া ’ বলে । ১৯৩৯ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত প্রায় ষাট হাজার জার্মানকেও গোপনে ইঞ্জেকশন দিয়ে হত্যা করে অ্যাকশন টি - ৪ প্ল্যান । এর অন্যতম হোতা , অধ্যাপক রবার্ট জে. লিফটন বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বলেছিলেন , ‘ রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হত্যা করা । সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ আর সুস্থ রাখার জন্য রাষ্ট্র হত্যা করতে পারে। ’ নিঃসন্দেহে এই স্টেট-স্পনসর্ড ইউথ্যানাশিয়া এক বিরাট ভুল । এর মধ্যে কোনও
‘ মার্সি ’ নেই , শুধু চূড়ান্ত আত্মশ্লাঘায় যথেচ্ছাচারী ‘ কিলিং ’ ব্যাপারটাই আছে । কোনও অবস্থাতেই এটা সমর্থনযোগ্য নয় ।

মানুষের জীবনে বার্ধক্য , জরা , অসুস্থতা খুবই স্বাভাবিক । তার থেকে ছুটি চাওয়ার প্রশ্নই নেই , কারণ তা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ । কিন্তু দেহ আর মন যদি মানুষের মত অবস্থায় আর না থাকে , বোধহীন আর যন্ত্রচালিত হয় ; তখনও সে জীবনকে প্রলম্বিত করাতে অর্থ , মর্যাদা , উত্তরসূরীদের ধৈর্য - সবেরই ক্ষতি । সেখানে ইউথ্যানাশিয়ার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণভাবে জীবনকে শেষ করা কি ভুল ? নিশ্চয়ই নয় ! অরুণা শাহবাগের কথা ভাবুন । সুদীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে কি নিদারুণ জীবন ! সেই জীবনের একটা মর্যাদাপূর্ণ ইতি টানতে চাওয়া তো ভুল হতে পারে না ! তাই দীর্ঘদিন ধরে সেই অধিকারটুকু পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন তাঁর বন্ধু-পরিজনরা ।তবে আশঙ্কা ও থেকে যায় , আমাদের দেশে প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়ার আইনী স্বীকৃতি পাওয়া,ইউথ্যানাশিয়ার ‘ভুল’ প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আসবে না তো ? রোগী যদি নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম হন , তাহলে তাঁর নিকট - আত্মীয় বা বন্ধু কি উত্তরাধিকারী্র দুরভিসন্ধিতে সম্পত্তি হস্তগত করতে খুন খারাপি শুরু হবে না তো ? এইসব ভেবেই আমাদের দেশে প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়ারভুল বা অপব্যবহার ঠেকাতে সুপ্রীম কোর্ট গাইডলাইন ঠিক করে দিয়েছেন । বলেছেন , লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিয়ে অসুস্থ মানুষটিকে পরোক্ষে মৃত্যুর ইন্ধন দেওয়া হবে কিনা , সে ব্যাপারে অসুস্থ মানুষটির
পরিবার - পরিজন , বন্ধু এবং ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হবে । হাইকোর্টে আবেদন করার পর , অন্তত দু ’ জন বিচারপতিকে নিয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করে প্রধান বিচারপতি সব খতিয়ে দেখবেন , আত্মীয় - পরিজন ডাক্তার এবং রাজ্যের মতামত জানবেন আর তারপরে সিদ্ধান্ত নেবেন । এ ব্যাপারে শেষ কথা বলার দায়িত্ব হাইকোর্টের । আশা করা যায় এভাবে ইউথ্যানাশিয়ার ভুল প্রয়োগ ঠেকানো যাবে ।

স্বেচ্ছা মৃত্যুর ব্যাপারে আর একটা মাইলস্টোন হল ‘ মরণ পর্যটন ’। মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে অন্য লোকে বেড়াতে যাওয়ার যে পৌরাণিক ধারণা , ভাষার সামান্য পরিবর্তন করে সেটাই হয়ে দাঁড়ালো মৃত্যুর জন্যে বেড়াতে যাওয়া ,যাকে বলে 'মরণপর্যটন।'এ ব্যাপারে ও অগ্রণী সুইজারল্যান্ড , জীবন যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি পেতে যারা স্বেচ্ছামৃত্যু
বা ইউথ্যানাশিয়ার অধিকার কে ইতিমধ্যেই বৈধ করেছে । নিজেদের দেশে অধিকার না পেলে স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে আবেদন করতে পারেন ।অনুমতি পেলে , পরবর্তী দায়িত্ব নেবে সেখানকার পর্যটন সংস্থা গুলো একেবারে শেষ নি:শ্বাস পরিত্যাগ করা পর্যন্ত । অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা বাস্তব ।খবর হল , হালে এই ২০১৩ সালেই ইউরোপের নানা দেশ থেকে মরণ পর্যটনে শামিল হয়েছেন প্রায় ৯০০ - র কাছাকাছি মানুষ । 'এমন চাঁদের আলো , মরি যদি সেও ভালো ,সে মরণ স্বর্গ সমান '- বলেছেন ডি.এল.রায় ।ভাবুন একবার ,সুইজারল্যান্ডের ওই অলোক সামান্য শুভ্র বরফাস্তীর্ণ নিসর্গ দৃশ্য দেখলে তিনি কী বলতেন ! এটাও ঠিক,অমন নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখতে দেখতে জীবনকে চিরবিরাম দিতে নয়ন মুদে ফেলার তৃপ্তিই আলাদা ! ঠিকই তো- ‘ মেজাজ টাই তো আসল রাজা , আমি রাজা নয় । ’ দু’দুটো স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকারে সাহায্যকারী সংস্থা আছে সুইজারল্যান্ডে । তাদেরই অন্যতম 'ডিগনিটাস । ' শুধু মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া আর তার বৈধতার অনুমোদন পাওয়া । তারপর জুতো সেলাই করা থেকে চন্ডীপাঠ - সব করে দেবে 'ডিগনিটাস । ব্রিটেনের স্যর এওয়ার্ড ডাউনস তাঁর পত্নী জোন - এর সঙ্গে এককথায় সহমরণেই তো গেলেন ! নিজে দুরারোগ্য ব্যাধির শিকার না হলেও স্ত্রীর ক্যান্সার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল সারা শরীর জুড়ে । ২০১০ এর জুলাইতে সহমরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুগলে চলে গেলেন জুরিখে , মরণ পর্যটনে । আবার সম্প্রতি আমেরিকার পিবিএস টিভিতে দেখা গেল এক তথ্যচিত্র , ‘ দ্য সুইসাইড ট্যুরিস্ট । ’ সেখানেই পর্দায় ফুটে উঠল অধ্যাপক ক্রেগ ইউয়ার্ট-এর পরিবারের গল্প । দুরারোগ্য ALS রোগে আক্রান্ত অধ্যাপক কীভাবে সুইজারল্যান্ডে মরণ পর্যটনে গিয়ে ' ডিগনিটাস ’ -এর সহায়তায় মরণ বরণ করলেন । সবসময়েই সব কিছুর বিরোধিতা করার জন্যে তো আর লোকের অভাব নেই । এখানেও কিছু লোক জুটে গেল । মরণ পর্যটন আর সহায়ক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে শোরগোল তুলল তারা । মামলা গড়াল ভোটাভুটি পর্যন্ত । একেবারে ফুটিফাটা হয়ে গোহারান হেরে গেল বিরোধীরা । মরণ পর্যটনের স্বপক্ষে ৮৫ শতাংশ ভোট বিরোধীদের নাক কেটে দিল ঘচাং করে । এর মানে দাঁড়াল এই , মানুষকে ইউথ্যানাশিয়া বা স্বেচ্ছা মৃত্যুর অধিকার দিতে মরণ পর্যটন ভুল নয় কিছুতেই । এবার ভাবুন , নিজের দেশের ইমিগ্রেশন দপ্তরকে ‘ বেড়াতেযাচ্ছি ’ বলে সুইজারল্যান্ড গেলেন কেউ , সেখানে গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করলেন , আর ফিরে এলেন না ।যতক্ষণ তাঁর দেশে ব্যাপারটা না জানানো হচ্ছে , ততক্ষণ খাতায় কলমে নিজের দেশে তিনি জীবিত ! ঠিক বা ভুল - সব কি রকম গোলমাল হয়ে যাচ্ছে না ?

এ সব তো গেল আমাদের জীবনের কথা । আমাদের শরীরের কোষেও রয়েছে আর এক স্বেচ্ছামৃত্যুর কাহিনী ।আমাদের মত সব বহুকোষী প্রাণীর শরীরে ঘটে চলেছে এই স্বেচ্ছামৃত্যু , যার পোষাকী নাম ‘ অ্যাপোপটোসিস । ’ গ্রীক শব্দ অ্যাপোপটোসিস-এর অর্থ ঝরে যাওয়া ; বিজ্ঞানের পরিভাষায় এ হল ‘ প্রোগ্র্যামড সেল ডেথ। ’ ভ্রুণ থেকে শুরু করে আমাদের পূর্ণাঙ্গ দেহে এই ঝরে যাওয়া প্রকৃতির নিয়মে খুব প্রয়োজনীয় । একটি কোষের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হাবার মুহূর্তে জিন বার্তা পাঠায় কোষের নিউক্লিয়াস থেকে- ‘ সময় শেষ । এবার তোমার ঝরে যাওয়ার পালা । ’ সেই বার্তা পেয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে আত্মহননকারী প্রোটিনের দল । প্রকৃতির নিখুঁত নিয়মে স্বেচ্ছামৃত্যু হয় কোষটির । এই স্বেচ্ছামৃত্যুও কিন্তু তার আপনজনের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ।কিন্তু কোষ যখন ভুল করে , তখন ? যখন ভুল করে জিনের বার্তাকে নাকচ করে , অ্যাপোপটোসিসের ডাকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ওঠে কোষ - তখন এই ঝরে যাওয়া ব্যহত হয় । সেই স্বেচ্ছাচারী কোষগুলো তখন অমর হয়ে ওঠে ,নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে বাড়তে থাকে শরীরে । সেটাই ক্যান্সারের সূচনা ।কোষ স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করলে , তা শরীরকে ঠেলে দেয় ক্যান্সারের অনিবার্য পরিণতির দিকে ।

আজ থেকে বহু বছর আগে তৈরি এক সায়েন্স ফিকশনের কথা মনে পড়ে গেল ।
‘ সয়লেন্ট গ্রীন ’, মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন চার্লটন হেস্টন । ছবির ঘটনাকাল ২০২২
সাল , স্থান নিউ ইয়র্ক । জন বিস্ফোরণের ফলে নিদারুণ সঙ্কট খাদ্য আর বাসস্থানের । এমন সময় একটি কোম্পানী ঘোষণা করল তারা ‘ সয়লেন্ট গ্রীন ’ নামে এমন এক বিপুল এনার্জেটিক খাবার তৈরি করেছে এক বিশেষ ধরণের সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটন থেকে , যা একবার খেলে পরের কয়েকমাস না খেলেও চলবে । কেউই জানে না তার উপাদান কী । এমন সময় নিঁখোজ হয়ে গেলেন নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিসের গোয়েন্দা ফ্র্যাঙ্ক থর্নের বৃদ্ধ বন্ধু সলোমন বা সল । জানা গেল শহর জুড়ে আরো কিছু বৃদ্ধ মানুষ নিখোঁজ । গবেষকরা থর্নকে জানালেন সয়লেন্ট গ্রীনের উৎস কোন সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটন নয় , ওতে আসলে আছে মানুষের শরীরের অংশ । শেষমেশ রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর থর্ন পৌঁছে গেলেন সেই
ডেরায় , যেখানে জীবন সম্পর্কে বীতস্পৃহ বৃদ্ধ মানুষদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য , বাজছে মধুর সঙ্গীত আর তা দেখতে দেখতে একইসঙ্গে শরীরে ঢোকা মারণ - ওষুধের প্রভাবে ‘ ইউথ্যানাশিয়া ’ - র মাধ্যমে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়ছেন চিরদিনের মত । আর তাঁদের শরীর থেকেই তৈরি হচ্ছে ‘ সয়লেন্ট গ্রীন । ’ ইউথ্যানাশিয়ার কি ভয়ঙ্কর ভুল প্রয়োগ ! আশঙ্কায় শিউরে উঠেছিল মানুষ ।

২০২২ আসতে বেশি দেরি নেই। কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি পৃথিবীতে তৈরি হয়নি । আজকের দুনিয়ায় পিতামহ ভীষ্মের মত আজীবন সব আনন্দ থেকে বঞ্চিত থেকে নিজেকে মহান প্রমাণ করলেও আরইচ্ছামৃত্যুর বর পাওয়া যাবে না । প্রবল সুনামির মত অন্ধ ভাবাবেগে তাড়িত হওয়া বিবেচনাহীন আত্মহননেরও যুক্তি নেই কোনও । তাহলে জীবন নিতান্তই দুর্বহ হয়ে উঠলে , থাকল শুধু স্বেচ্ছামৃত্যুর অপশন । এখনকার পৃথিবীতে ব্যক্তির যখন জীবনকে আর কিছু দেবার নেই আর জীবনেরও ব্যক্তিকে আর কিছু দেবার নেই অপরিসীম যন্ত্রণা ছাড়া , তখন জীবনের শেষ প্রান্তসীমাটুকু নির্ধারণ করে দেয় ইউথ্যানাশিয়া । তাহলে ইউথ্যানাশিয়া এক অর্থে স্বেচ্ছাজীবনও । যতদিন ইচ্ছা জীবিত থাকার পর মৃত্যুর আবাহন । প্রকৃতি আর পৃথিবী তার অপরূপ নিজস্বতা নিয়ে বয়ে চললেও মানুষের মন ও শরীর সব শক্তি হারিয়ে ফেলে তার সঙ্গে আর ছন্দ মিলিয়ে চলতে না পারলে , জীবনের প্রান্তরেখা বেঁধে দেওয়ার এই স্বাধীনতা এবং অধিকারটুকু চাওয়া তো মানুষের ভুল নয় !