ছবি বিশ্বাস

সোমনাথ ঘোষাল



ছবিকে বিশ্বাস করা খুব সোজা নয়। আমি যা দেখছি , তা নাও হতে পারে! অথবা ছবি যা বলছে তার সঙ্গে অনেককিছুই আলাদা। মানে একটা মানুষ ফুটপাতে বসে বিড়ি খাচ্ছে। ছেঁড়া জামা। খুব ময়লা। সে কি পাগল? ভিখারি? না কি ছবির চরিত্র! দেখা মানে আমি কী বিশ্বাস করতে চাই।
ছোটবেলায় পেয়ারা গাছে পাখি আসত। সব পেয়ারা খেত। আমাদের বাড়ির চন্দনা খাসির মাংস খেত। রবিবার। মানে যেটা বিশ্বাস করতাম আসলে ওটা অভ্যাস। কিছু বিশ্বাস জন্মগত। বাবা মা দাদা দিদি কাকা কাকী মামা মামী। পাড়া। আমাকে বলে দেওয়া হল। এরাই তোমার নিজের! নিজের কী? শৈশবকাল থেকে সেই তালা খোলার গল্প। ইস্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আবাল ছাড়া কিছুই মনে হয়নি।
আলো দেখলেই হাঁ করে ফেলি। সূর্য হয়ে যাবো। হাতেটানা দিনগুলোতে কীভাবে পেকে গেলাম জানা ছিল না! ফেল্টু থেকে ফেকলুর মতন থুতু দিয়ে বেলুন বানাতাম। হ্যাঁ, আমি হাতঘামা তোতলা রোগা বচ্চন... বিশ্বাস করতাম মাথার ওপর মেলা নিয়ে গঙ্গার ঘাটে নৌকা ওড়াবো। ঘাড় উঁচু করা বন্ধ কারখানার চিমনি দেখে প্রেমিকারা চুমু খাবে। বাল... কবিতার নাড়িভুঁড়ি কুকুরের খুব প্রিয়। কারণ শ্মশান ফেরত যে সকল কুকুর মাঝরাতে রতনবাবুর ছোট ছেলের কাছে শব্দের তলানি চেটে রেখেছে, তারাই আজ কবিতার নিহত দেয়াল।
বরানগরে মৃতকবি রামকৃষ্ণের পাড়ায় জন্ম নিয়েও গোপন ছাপাখানার ইতিহাসে পাতিহাঁস না লিখে ঈশ্বরের শব্দমৈথুনে অক্ষর রেখে গেছে। বিশ্বাস। কুটিঘাটের বুক চিরে নদীর জানলা দরজা অঞ্চল জুড়ে যে সমস্ত নাগরিক স্লোগান লেগে আছে তাদের ঘাম রক্তের ভেতর চুল্লির পোষা স্বপ্ন জেগে থাকে। এই বিশ্বাস এক ভূত! মায়াতুর চাদরে মোড়া। জন্মের পর থেকেই শব্দের প্রতি বিশ্বাস রাখতে রাখতে মায়ের যোনির ভেতর থেকে যে লম্বা প্রতীক্ষালয় দেখা যায়, সেইখান থেকেই আমি শিবকে দেখি। শিব আমার বাবা? না কি আমি? আমিও নিজেকে শব ভাবি। শিব ভাবি। শব্দের মাসিক হলে পাঁচদিন ন্যাকড়া জড়িয়ে রাখি অক্ষরে অক্ষরে...
প্রতিটা উচ্চারণে জমিয়ে রাখি নিজের জন্মান্তর। আমি জানি আমার আমাকে কেউ জন্ম দিয়েছে। আমি জানি আমাকে মরতে হবেই। আমি জানি আমি যে যোনি থেকে বেরিয়েছি তাকেই আমি মা বলি। কারণ সে আমাকে বলেছে। আমি বিশ্বাস করি সেই আমার মায়া। সেই আমার মা। বিশ্বাস।

আলোটে ঘুমে বেঁচে আছে যে গলি, তার শেষ ঘরে তোমার জন্মদিন। তুমি জানো কে তোমার মা? কার লিঙ্গ স্পর্শে তোমার জন্ম? ওহে, কবিতা ...