সামান্য সঞ্চারে

মেঘ অদিতি




স্পৃহা কি জিরাফের সেই দীর্ঘ শীর্ণ গলা
যেদিকে তাকালে গৃহস্থের ধানগোলার বদলে
সমস্ত পথ ঝিঁঝির ডাকে ভরে ওঠে!

ভোরের আশেপাশে ঘুম ভাঙলে
শরীরে কম্পন আর
মুছে ফেলা স্মৃতির দিকে ধেয়ে যায়
ওইসব বোমারু বিমান

কিন্তু..
এত বেলা পার করে এখন আর
অত বরফ কাটবে কে?


ভাবো, অতীত তেমন এক প্রবণতা
যেখানে বিছানো থাকে
মাকড়জাল কিম্বা লতানো উদ্ভিদ
অথচ ফি রবিবার তুমি নির্বিকার
বলেই চল, সব ঝুট..সব ঝুট..

গীতবিতানের পাতায় ইদানীং আর
পূজা থাকে না, ছাপ্পা মারা থাকে
বিষণ্ণ রবিবার ..


নিশ্চিন্তে হামা দিই বায়ুহীন সেপিয়ায়
মেঝেতে ভাসমান গোলাপবাহার, রুধিরবর্ণ
নিয়মরক্ষার জামবাটিতে
একটু একটু করে অন্ধকার মিশে যায়..
সায়াহ্নে চুম্বন করি যাবতীয় নিরাসক্তি

একটু বাদে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা জানতে চাইলে
গাছে গাছে পাখি ডাকবে, স্বয়ংক্রিয় ..


সারাদিন সেঁটে রইলাম
দেয়ালে দেয়ালে, বিপ্লবী পোস্টারের মতো..
যাবতীয় মোহ কাটিয়ে
মুখ ফিরিয়ে থাকল সংযম

কিছুই স্থির নয় আর—
তবু বালিশের নিচে যে হেঁটে যায়
মরুভূমির উটেরা, তার কি শেষ নেই!
যেন দীর্ঘ কাফেলা..

ইতস্তত ছড়ানো ধূসরতার সাথে
শেষে কি এবার পাঞ্জা লড়বে?