অবিশ্বাসের কবিতা

শানু চৌধুরী



১.
পাথরকে ঠেলে দিতেই চিহ্নিত হল আমাদের বিশ্বাস। পতাকার নিচে যে নামের মন্ত্রণা ছিল, সেখানে ডুবে যায় জলপরীদের ছ্যাঁকা লাগা হাত! সেইসময় কুপির তলায় দীর্ঘ কালি দিয়ে আমাদের শেখানো হল- আমার দ্বারা ক্ষয় হওয়া তোমার মাংসের সেই নির্ভুল তর্জনী ও করুণ সভ্যতার মস্তিষ্ক। তবু হেরে যাই, পটভূমির চাকায় লাগানো রূপোলী ঘুঙুর আর মিনে করা সচল কারুকাজ দেখে। আর সংশয়হীন ভাবে বলি, শজারুর কাঁটায় গেঁথে রেখো ফুলবন। যেখানে ঘোটকের পথকে আততায়ী বলে ভুল করবে না কেউ।

২.
আক্রোশের আগে নতুন হল গালিবের মুখ। এতদিন পর প্রসাধন ঘেঁষে দাঁড়িয়েছি, অবিশ্বাসের মুদ্রায়। অথচ জানি না,কেমন হয় অর্থ ও মদের প্রশ্বাস। আমাকে গভীর ঘুম থেকে তুলে আনে ভাঙা মূলাধার আর অধরের ফারাক! চক্রের ফুটিফাটা ভুলে দেখি আজও খামারের আগে দাঁড়িয়ে হাসছে একপাল নিস্তব্ধ ভেড়ার ঘেন্না। আমি বুঝতে পারি না মোহনার ভাসমান লিপি ও গুরুদায়িত্বের দীনতা। হেঁটে যাই। পরম্পরাকে ধরে। যেখানে বকেদের ভিড় সন্ন্যাস নেবে বলে চেয়ে আছে রাষ্ট্রের দিকে।

৩.
ভিখিরি হাওয়া কুড়িয়ে আনার পর দেখা গেল খর্বকায় মানুষের এক লোকানো পাঁচিল। হে গেরুয়া দানব! তোমার ক্রীড়াঙ্গন থেকে উড়েছে সাত-সাতটি পারাবতের নকল ছবি। আর সারাক্ষণ প্রফুল্ল বৃষ্টির ওপর নুইয়ে রেখেছ তোমার সেই ময়ূরপ্রিয় হাত। এত চূর্ণ প্রত্যাবর্তন! শস্যায়ত মানুষের ভিড়ে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় মাতৃচেতনার সারি। মানুষ ঠাহর করে তার চোখের রূপ। অথচ অতিবিহ্বল হয়ে যাওয়া ম্যাজিক নিয়ে মানুষ জড়িয়ে আছে অনীহায়, সেখানে প্রবৃত্তির চেয়ে ধারালো কিছু নেই।

৪.
সামান্য প্রাদুর্ভাব থেকে, দূরে দাঁড়িয়ে আছে শান্তির ছায়ামূর্তি। আকাশ কয়লা হয়ে গেলে প্রভাব বাড়তে থাকে কেরোসিনের আলোর। মানুষ বিদ্যুৎ থেকে চুরি করে নিজস্ব রক্তের শুকিয়ে যাওয়া ডালিম। অথচ বর্ণে কেন ঢুকে যায় প্রগত স্বরাগম? হে প্রাদেশিক চঞ্চলতা! আমাকে ধরে নাও। ঘোড়ায় টানা অনুভব থেকে নিজে ছুটতে পারি না রোজ।