বিকেলের দিকে আলো জ্বলো ওঠো

পার্থজিৎ চন্দ



বিকেলের দিকে আলো জ্বলো ওঠো, প্রহর শেষের আলো
মায়াময় চিকেন রিপাবলিকের মাথার ওপর। ক্রমশ ভাষ্য নিয়ে
সার সার ট্রাক এসে দাঁড়িয়েছে, বহুদিন চালানোর পর ইঞ্জিন ঢুকে যায়
চালকের রোমকূপে, আত্মা হোঁচট খায় বারবার। প্রহরের শেষে সে আহত আত্মা
দাঁড়ায় খাঁচার কাছে, পুঁতে দেয় প্রতারক মাইলফলক। কারণ সে জানে
ঠিক একই ভাবে প্রতিভাষ্য নিয়ে একই মোটর-ট্রেনিং স্কুল
থেকে ঘুর পথে কেনা লাইসেন্স নিয়ে ছুটে আসছে একই পঞ্জাব-বডি ট্রাক
সেও তার মতো ইঞ্জিন অয়েলের ছলে মেশিনে ঢালবে জমানো রক্ত
বিকেলের দিকে আলো জ্বলে ওঠো, প্রহর শেষের আলো
দেখ কুক্কুটে কেমন বুঝেছে কয়েক কদম পর কালাহারি শেষ, রিপাবলিকের শুরু


বিকেলের দিকে আলো জ্বলে ওঠো, ফ্লাইওভারের কাছে
সেখানে লক্ষ্মীবাবুর সোনার দোকান, আসলি সোনার পাশে চাঁদির দোকান
সোনা ও চাঁদির পাশে লক্ষ্মীবাবুর আসলি দোকান, তার পাশে
আসলি লক্ষ্মীবাবু সোনা-চাঁদি কেনবেচা করে বহুদিন থেকে…তারও পরে
লক্ষ্মীবাবুর সন্তানসন্ততি ভারী আলমারি খুলে কণিষ্কের মাথা বের করে,
বের করে আনে রাম-সীতা মার্কা কয়েন…যদিও আদার ব্যাপারি আমি
এসবের থেকে দূরে থতমত থম মেরে থাকি। লক্ষ্মীবাবুর কাছে
বেচতে এসেছি আমার মায়ের কানের ঝুমকো, শুনেছি বাবা-মার
বিয়ের গয়না কোনও এক লক্ষ্মীবাবুর দোকান থেকেই কেনা হয়েছিল
শুনেছি আসল লক্ষ্মীবাবু সোনা-সহ খাদ কিনে নেন…ফ্লাইওভারের নীচে
আমার মুঠোতে ছটফট করছে দু-এক বিন্দু নীল ছোপ পরা
কানের ঝুমকো, বলে, খোকা বাড়ি ফিরে চল, আন্ধার ঘনায়
কার যেন কান ছিঁড়ে দুল হাতে প্রতিদিন ছুটে যায় ছিনতাইবাজ
আর লক্ষ্মীবাবুদের কাচের দরজায় রক্তের ছিটে উড়ে আসে, মুছে যায়