একটি অর্থহীনতার জন্য...

শতানীক রায়




বাঘ, তাকে বাঘের খিদেয় ফুটে উঠতে দাও।
— উৎপলকুমার বসু

একটি কচ্ছপকে হেঁটে বেড়াতে দেখি। যেদিন খুব বৃষ্টি হওয়ার পর আকাশে জলের গন্ধ লেগে থাকে আর মাটির ত্বক জুড়ে ঘাসের গন্ধ। কেউ কেউ বেঁচে ওঠে সে-সময়। কেউ একজন পৃথিবীর যে-কোনো জায়গায় দেখতে যায় কচ্ছপের হেঁটে বেড়ানোটুকু। তারপর সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। এ-ঘুমকে কোনো মন্তব্যে বাঁধা যাবে না। শুধু ঘুমোবে বা যে ঘুমিয়ে আছে তাকে দেখবে। তার সরু হাতদুটো অদ্ভুতভাবে বুকের সঙ্গে জড়ো করে রাখা। এত কিছুর পরেও সে ঘুম নিয়ে ভাবতে ভাবতে আরও কাতর হবে।

কচ্ছপটির হাঁটার থেকেও ধীরে সময় প্রবাহ যেন জলাশয় চিরে বেরিয়ে যাবে— কোন সে দূর যার ভেতর থেকে আরও অনেক পবিত্র দূরত্বের যাত্রা শুরু হয়। আমি কাউকে বোঝাতে পারব না অক্ষরের জন্ম হয়েছিল কবে আর কবে এইসব কারণ অতিরিক্ত ফলমূল গড়িয়ে দিয়েছিল। মানুষের গড়ানো অবধি। তারা গড়াতে গড়াতে একদিন কোনো গর্তে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। পাথরের অপেক্ষায় থাকে। সে কোন যুগে পাথরেও প্রাণ ছিল, পাথরে হাত বুলিয়ে তারা কল্পনা করে স্মৃতির মোলায়েম অথচ এবড়ো-খেবড়ো— এই বিশ্বে সে-সব স্মৃতি কীভাবে এখনও বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকা থেকে বিযুক্ত হয়ে কল্পনাশক্তি, মুক্ত হয়ে কল্পনারই কোনো এক অন্ধকার আস্তরণে কীভাবে পাথরের অপেক্ষায় কাটিয়ে দেয় তারা?


ঘুমের গদ্য লিখব আজ। শুরু করেছি অনেকদিন। অপ্রকাশিত নানা উপাদানে সমৃদ্ধ। ভোররাত থেকে ঝুলে থেকে পুনরায় রাত হলে ঘরে ফিরে আসি। কাটা মুণ্ডুর সেইসব কথা। বহু সূত্র থেকে নেমে আসে গল্প। মানুষের গল্প। আর সেই মানুষের গল্প ধুয়ে মুছে আমার গল্প হয়ে ওঠে। কত ধরনের অভিজ্ঞতা হল। এক সময় নামহীন ছিলাম। এই তটভূমিতে নেমে আমাকে কেউ চিহ্নিত করল। আমি ভূমিতে পরিভ্রমণ করতে গিয়ে আবিষ্কার করি আমার কত কিছু জানার আছে। কত প্রশ্ন আছে। যে-কচ্ছপটাকে স্বপ্নে দেখেছিলাম তার হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করি। যে অবলীলায় নিজের শরীর নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। অনুভূতি বলতে চতুর্দিক থেকে জড়ো হয়ে আসা কথাগুলো জমে বাসনপত্তরে দাগ হয়ে থাকে— এ-সবের কোনো নাম নেই, অনেকটা বিষয়হীন। পৃথিবীর ভেতর কোথাও ছিল এ-সব, হঠাৎই খুলে বেরিয়ে উৎপাত করতে থাকে। দিশাহীন। অন্তিম যাত্রার দিকে তাকিয়ে আমি কচ্ছপের ভেতর বিলীন হই অন্য কোথাও অন্য দেশে।

আমি পাহাড় থেকে নেমে আসতে আসতে ঝাউবনে মিশে যাই। সেখানকার জীবজন্তুর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। ওদের ভাষা থেকে কিছুটা আমিও সিক্ত হই। ভাষার ভেতর ভাষার আবহ টের পাই। স্পর্শে শস্যভাণ্ডার ভরে আসে। মেঘের লিপ্ততা শরীরে লেগে থাকে, ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়, যুক্ত হয় আমার সঙ্গে বা কখনো অদৃশ্য হওয়ার মগ্নতায় পেয়ে বসে। যখন দিনের পর দিন কোনো কথা থাকে না স্বরলিপি থাকে না ক্রমাগত সেইসব কথা উঠে আসে। ঝাউবন ভেঙে ঘুম আসে। হাঁস চলেফিরে বেড়ায়। হাঁসের অনুভূতিতে তারপর জীবন শুরু হয়। ক্রমাগত আমি শব্দ দিয়ে ভরিয়ে তুলি যেন অনেকদিন শূন্যস্থান ছিল আমি তার ভেতর এলোমেলো থাকি আলুথালু হারিয়ে যাই। অথচ সব অস্বীকার করে থাকি। অস্বীকারের ভেতর গৃহ তৈরি করি। ঝাউবনে কচ্ছপ হেঁটে চলে বেড়াতে থাকে। কোথাও একটা সমগ্রতা আছে আমি তার শাখায় শাখায় ঘুরে বেড়াই। শেকড় খুঁজি। শেকড় দেখার জন্য মাটি উপড়ে দেখি।

এত কথা এত চলাফেরার পরে কিছুই স্মরণে থাকে না। কচ্ছপের চলাফেরায় নিস্তরঙ্গ প্রতিভা কাজ করে। পাথরের ঢালু নেমে আসতে গিয়ে কখনো টালমাটাল অবস্থায় গিয়ে পৌঁছায় কিন্তু কোনো এক অজানা যাদুবলে আয়ত্তে চলে আসে। দিনের প্রখর তাপ সে ভেঙে ভেঙে দেখে। দেখতে থাকে ক্রমচলমান তীব্র পৃথিবী। কোনো কোনো সময় পাথর মনে হয়— শুধুই পাথর। বা অসমান শিলাখণ্ড। প্রকৃতই একটা ডিম। ডিমের ভেতর আমি নিজেকে কল্পনা করি দিনের পর দিন। অন্ধকার ঘর, খুব অন্ধকার নয় আধো আলো। আজ বাবা বলল, এত ঘর অন্ধকার করে রাখি কেন। বাবা নিজের পৃথিবীর গল্প শোনাল। পৃথিবীর ভেতর এই যে আমরা বেঁচে আছি তার আলো ও অন্ধকার আছে, ফুলফল আছে, পশুপাখি, গঙ্গাফড়িং, ঝাউবন আছে— কোনো একদিন বিকেলে খুব বৃষ্টি হলে, হতে পারে তারপর অনেক চড়াই বুলবুলি পাখির আওয়াজ জানালার ওপারে ধান খুঁটে খায়। আমি তাদের শরীরের ভেতরেও আছি, সেই একই ঘরে আলো-অন্ধকারে মেশানো।

জীবন থেকে পার্থিব সময়কে অল্প অল্প করে ছেঁচে নিয়ে ভাবতে বসার শারীরিক নির্যাতন ও সৌন্দর্যের বিস্তারিত বললে কোথাকার কোন ধ্বংসস্তূপ উঠে আসে কেউ জানে না। না জানার ভার, নিজেকে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অর্থহীনতার দিকেই জীবন আমাকে নিয়ে যায়। একজন মানুষের চুপচাপ নদী নিরীক্ষার মতো— বয়ে চলেছে শুধু আর এই বয়ে চলার পথ সময় স্রোত ও শক্তির উপাসনা করতে বসলে সেই আদি অর্থহীনতার দর্শন ছাড়া কিছুই হাতে আসে না। হাতটি যখন ভিক্ষাপ্রার্থী, ভোর হওয়ার আগে থেকে দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা, বৃষ্টি রোদে ছিন্ন হওয়া সেই হাত শুধু পেতে রাখা থাকে, এবং এভাবেই বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকে সেটি। দুপুরের গভীর ঘুম ভেঙে একজন মানুষ পুনরায় আবিষ্কার করতে চায় চারপাশে কিছু বদলে গেল কিনা বাস্তবের বদল অল্প হলেও হয়েছে কিনা— এভাবে দীর্ঘ দুপুরের ঘুমের পর তার বিকেল আরও দীর্ঘ হয়। সেই মানুষের ভেতরেও আমি মিশে গিয়ে অপেক্ষারত ভিক্ষুক হই। তার পর একই সে-ঘরটার গল্প ও আলো-আঁধার।


বিস্মরণ

ভুলে যাই নিজের ঠিকানা।
ছোটো ছোটো বাড়ি ছিল, কিছু দূরে তালবন।
গুটিকয় তালগাছ আর নানা লতাপাতা
জড়িয়ে আমার স্থাপত্যের কল্পনা
একদল পাখি আর ভূগোলের পাঠ্যবই থেকে
নেমে-আসা হাতি ও ধূসর গাধার দলে
আমি আছি সেবাদাস
আপাতত স্থলপদ্মের বনে।

সম্পূর্ণ একটি বাড়ি ছিল। এক সময় একটি নগরী ছিল, আজ তারই ধ্বংসস্তূপে বসবাস করছি আমরা। তারই ইট পাথর জড়ো করে চাইলে আমরা সবাই আবার ইমারত গড়তে পারি। বা শুধুই বসবাস করে যেতে পারি ধ্বংসে যেখানে সৃজনের আনন্দ নেই, থাকে শুধু স্মৃতি। এক সময় ছিল এরকম এক তীক্ষ্ণ সুধাভরা স্মৃতির কাছে নত হয়ে মিশে গিয়ে বসবাস করি। আমি এরই ভেতর অনুরণন তুলি বেঁচে থাকি। গড়ে তোলার চেষ্টায় থাকি নিয়মিত, আয়োজন করি আনন্দের মুহূর্ত। সৃজনের আনন্দ। আবার বাড়ি বানাই নতুন করে আর উপলব্ধি করি আনন্দ। বেঁচে থাকার আনন্দ এখান থেকে আসে। খুব ঘন হয়ে আসে জীবন।

সম্পূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতির ভেতরেও থাকি আমি। নিভে যেতে গিয়েও জ্বলে উঠি। বহুদিন আগে প্রবল ঝড় দেখেছি তার স্মৃতি এখনও আছে। সে-স্মৃতির শেকড় দেখতে দেখতে আবার বেঁচে উঠি। আমার কোনো নিভে যাওয়া নেই। যেটুকু মনে হয় নিভে যাচ্ছি তখনই শেকড়ের দিকে তাকাই উবু হয়ে গন্ধ শুকি আর জ্বলে উঠি। এ-সবই ক্রমশ শারীরিক। আমাকে শরীর ভেবেই এগোতে হয় জীবনের কথা ভেবে সৃষ্টি বৈচিত্রের কথা ভেবে আরও বেঁচে থাকার ভেতর বেঁচে উঠতে হয়। কোনো বহু পুরোনো মানুষ রোদজলে ঝলসে গেছে, আমি তারই বুকের ভেতর আছি।


এখন শারীরিক নানারকম ভঙ্গিবদল করে বসে আছি। কখনো 'দ' অথবা 'ৎ'। জীবন যেভাবে এগোয় হিসেববিহীন অনন্ত। স্মৃতিস্তম্ভের মতো। স্মৃতিস্তম্ভ থেকে নির্গত হতে থাকে সময়। এই সময়ের বর্ণনা হয় না এককভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসে। মাঝে মাঝে ছবি হয়ে দেখা দেয়। পিঠে বুকে ক্ষত নিয়ে মানুষটা নীচু হয়ে শুয়ে থাকে। অজস্র দাগ। সময়ের বস্ত্র চারপাশে। জাল দেখি। ক্ষত জায়গা দেখে মনে হয় সে জীবিত আছে। বাকিটা চিত্রে সময়ের কাটাকুটি কচ্ছপের চলার পথের দাগ মিলেমিশে একাকার।

ঘুম ও বাস্তবের মিশে থাকা— এ নিয়ে আমি খুব বেশি লিখতে পারব না। চেষ্টা করতে পারি। গাছের শেকড় কতটা গভীর খুঁজে দেখতে পারি। গতকাল কত কী ঘটেছে আমি সে-সব আড়াল করে রাখার প্রয়াস করি। নিজের থেকে আড়াল করি। আলাদা করি আর ঘুমের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। যতক্ষণ ঘুমে থাকি। জড়িয়ে। এই 'গতকাল' ধীরে ধীরে নিজের অস্তিত্বকে আরও প্রসারিত করে এগিয়ে নিয়ে যায় আর এগোনো অর্থাৎ এখানে পিছিয়ে যাওয়া। ইতিহাস যত পুরোনো হতে পারে। ভয়াবহ। আমার বেঁচে থাকা ও অস্তিত্বের কঠিন পাথর পর্যায় অবধি যাকে কোনোভাবে আমি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি না। খুলে রাখতে পারি না টেবিলে যখন গনগনে সূর্য আকাশে। বেঁচে থাকার ভেতর উঁকি দিয়ে গুটিয়ে গিয়ে এতটাই অসহায় আমি— হাতের ভরে শরীরকে এগিয়ে নিয়ে যাই। ভবিষ্যতের কাছে এই অসহায় সমর্পণ করার প্রয়াসী হই। যে-মুহূর্তে কল্পনা করি সমগ্রের আরও পিছিয়ে যাই ইতিহাসে। যেন-বা খুব সরু ছিল দিনগুলো। রাতগুলো পূর্ণিমায় সিক্ত। কচ্ছপের অসহায় হেঁটে চলা। যেন এই রাতেও আমি পাহাড়ে ধীরে ধীরে উঠি আর নামি। নামা-ওঠার ক্রিয়া। চিত্রটা যেভাবে ধরতে পারি তা বাস্তবে আরও ধীরে যেন প্রচণ্ড ধীরে চিত্রটা বিদ্যমান থাকে চলমান থাকে। অবশেষে কি চিত্রনাট্যে পরিবর্তিত হয়? ততটাই কি বাস্তবিহীন হয়ে পড়ে?


আমি আগে যা কিছু করেছি, এখন করছি বা ভবিষ্যতে করব তার সবই একই গোলাকার বৃত্তের ভেতরে ঘুরবে কেউই পৌঁছাতে পারবে না আদিতে। অন্ত বলে প্রচলিত যে-সব ক্রিয়া আছে আমরা শরণাগত হই যেখানে সে-সব কিছু নেই। অনেকগুলো বছর অতিক্রম করে লক্ষ করি আমি— কচ্ছপটিও নেই আমিও নেই। যে-ছায়া বহন করে এসেছি এতদিন তার চিহ্নমাত্র কোথাও এতটুকুও অবশিষ্ট থাকে না, পাহাড়ে আমার ওঠা আর নেমে আসা ছিল কল্পনা আমি সেই মুহূর্তগুলোকে কল্পনা করতে চেয়েছি শুধু যেখানে মানুষের ছায়াও পৌঁছাতে দ্বিধা করে। মাঝরাতে যে-মানুষটা কখনো কখনো উঠে বসে আর নিজেরই কথা ভাবে আত্মকেন্দ্র থেকে বৃহৎ এক তন্ত্র যাকে শরীর বলে ভাবতেও কেউ কেউ ভয় পায় সংকোচ করে তার নাম ধরে ডাকতে, খুব ভোরে ঘুম ভেঙে মানুষের যেরকম ভাবগতি হয় যেভাবে বৃত্তের দিকে আকৃষ্ট হয়... এই বৃত্তই আমাকে সেই মানুষটার মধ্যে টেনে আনে পৃথিবীতে এরকম বহু মানুষের মতো আমিও একে-অপরকে অনুকরণ করি অনুসরণ করি। মাঝরাতে কখনো জানালা ধরে দাঁড়িয়ে থাকি। জানালা গলে গিয়ে আমি নদীর কাছে গিয়ে দাঁড়াই, বাতাসের কাছে তীক্ষ্ণ তুষার তুলে ধরি যেন নিজেকে নিজেই আমি উৎপন্ন করছি ছায়াহীন করছি যদিও এতদিন ঘুরে ঘুরে কোথাও কোনো ছায়ার চিহ্ন পাইনি। আমি যে যে স্থানে দৃঢ় ছিলাম আসন পেয়েছিলাম বসবার দু-দণ্ড ভেবেছিলাম এখানে সময়ের স্থায়ীত্ব অনন্তকাল, অনাদি মহাবিশ্বের ধারণার বিস্তৃত জাল ছুঁতে পারবে না হয়তো আমাকে, আমি এখানে ছায়াচিহ্ন রেখে যাব আর যে উঠে চলে যাবে সে হল পুতুল। ছায়াহীন, অবয়ব শুধু অনন্তকাল পর্যন্ত টিকে থেকে কোনো এক বিকেলের শেষ সূর্যরশ্মি ধুয়ে মুছে দেবে। আমি তখন আবার কচ্ছপটির কল্পনা করব। মাটির কাছে আশ্রয়ের সে-সব ক্রিয়া রপ্ত করে নেব যেন আমার এই শরীরের কোনো ছায়া না থাকে।


ছিঁড়ে বেরিয়ে গেল। কোথাও গোপনে আলোপাখি ছিল। ধারালো ঠোঁট আমাকে চিরে দিল। পেশীগুলো ছিঁড়ে ঝুলে আছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে আমার এই অবস্থা সর্বসাধারণের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। তরুণ হয়ে উঠবে আলো। আমার এই গ্রীবা উঁচু হয়ে তাকাবে সূর্যের দিকে। তখন আর কোনো কবিতাই আমাকে সান্ত্বনা দিতে পারবে না। আলোর ভেতর থেকে তীব্র ধারালো যা কিছু আকাশকে আলোকিত করছে। সূর্য উদয়ের মুহূর্তে আমি আর আমি থাকি না। সমস্ত গান ভুল করি। পাখির ঠোঁট ভুল করি। আওয়াজের ভেতর বসবাসরত পাখিদের ভুল করি। কবিতা বিভ্রান্ত একজন পথিকের মতো আমি হারিয়ে যেতে থাকি। সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে পারি না। অনেক বছর পর আমি টের পেয়েছি পৃথিবীর সব কিছু আদতে নিজের নিজের অবস্থানে অর্থহীন। নিজের মতোই প্রাচীন।