এক গুচ্ছ কবিতা

সুমী সিকানদার




দেউলিয়ানা
*
সুরত দেখি না তোমার মুরত দেখি না
আন্ধারে শুনিয়া ভাবো কন্ঠ চেনা চেনা
যে চেনা রে , চিনলানা রে একটা জীবনভর
অন্য সবে তোমার আপন আমিই , একা পর।

*
ডুবিতে ডুবিতে তুমি ধরো আমার হাত
বাঁচিয়া উঠিয়া সটান ছাড়ো আমার সাথ,
সাঁতার না জানি আমি বাঁচিতে না চাই
নিজেরে সঁপিয়া মরণ তোমারে বাঁচাই ।

*
নখের গায়ে সাদা পালক
রক্তে সাদা রঙ
দুগ্ধসফেদ চাদর গায়ে
ধলাসাদা মন
তুমি থাকো জলের পারদ
কাচের আবরণ
তোমারে ছাড়িয়া আমি
যাই গো আপনজন।

*
কোথাও কোনও ঘর নেই
পর নেই , অপর নেই
জোড় নেই জ্বর নেই
সুর নেই, স্বর নেই
জল নে্‌ই , ছল নেই
তল নেই , অতল নেই
ভোর নেই , দোর নেই
আমার কোনও তোর নেই ,
আমার , কোনও তোর নেই।

*
এক জীবনের এক দলা সুখ
অন্ধ বাবুই আন্দাজে খাঁজ কাটে ,
দু;খ পাওয়া ফুরিয়ে গেলে
ঠুকরে দেবো, দেউলিয়া মনটাকে।

*
চাইলে তোমার মনটা আমার হলেও পারে
চাাইলে দহন চন্দ্রগ্রহন হতেও পারে
চাইলে দেখো স্বপ্ন যত হয়নি দেখা
চিলে আঁকো বুক বরাবর বিষুবরেখা
ঘুমের ঘোরে থমকে সময় যেতেও পারে।

*
ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ বোজা চোখে চাই
আমি বন্ধু আর আমাতে নাই
কানা চোখে বানানো রথ, বিন চাকা চালাই
আমি বন্ধু আর আমাতে নাই ।



অভিসার নয়
কে যে কখন কাকে একা ফেলে যায় , ঠিক নেই ।
কাঠঠোকরাটা একটানা ঠুকে ঠুকে
গাঢ দাগ করে যায় অটবি।
চারুকলার মুখোশের এক চোখ আঁকা বাকি রেখেই
ফিরে যায় টকটক জ্বর , ঝোলা কাঁধে ফেলে।
বৈশাখ নীলে, কমলায়. আসে বৃন্দতালে
বট্মূল থেকে বেহালার সুর দূরে সরতে থাকে উদাস ।
বাদানুবাদের ভঙ্গিমায়
ফেলে যাও দীর্ঘ কবিতার ৬ খানা লাইন তোমার।
ফেলে যাও প্রচ্ছদ , আঙ্গুলের ঝড়,
যখন ঝিমানো রোদ ডিঙ্গাচ্ছিলো পাঁচিল থেকে পাঁচিল ।
উড়ছিলো বিন্দাস ধোঁয়া, মাটির ভাড় ভর্তি প্রেম
তিরতির তোমার ঠোঁট তাতে অল্প আঁকা চা, বাঁকা চা
চায়ের পর তুমি আর থাকোনি , রাতে ফ্লাইট ।
কে যে কখন কাকে একা ফেলে যায় , ঠিক নেই ,
ঠিক থাকে না ।
আজকাল কেউ ফ্লাইট মিস করে না।


পাসওয়ার্ড
আমার পাসওয়ার্ড ছিলো
''তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তান ''।
তুমি হঠাৎ উদয় হয়ে বললে ,গানে যাই থাকুক
লেখো ,আমাদের সন্তানেরা ।
আমি ঘর ভর্তি সন্তান পেন্সিল স্কেচে আঁকি
রাত জেগে তাদের নাক মুখ ,
গোল চোখে মণি বসাই , গাল টিপে দেই।
দিনভর ছুটে কানামাছি , হাত মাখা ভাত
''আয় খেয়ে যা , সোনা বাচ্চারা'...
সবই পেন্সিলে।
তোমার অন্তর্ধানের পর ,
সন্তানেরা একে অন্যকে ইরেজার দিয়ে ঘষেঘষে
মুছতে থাকে মুছতে থাকে ...
যতক্ষণ না, তাদের বাবার চেহারাটা পুরোটা না মিলায়।।