ধন্ধ

নাহার মনিকা



জীবন বিশ্বাসের এক চোখ অন্ধ। সে রথ দেখতে পায় না, কিন্তু কলা বেচে।
আর সবার মত প্রথমদিকে আমিও ওকে জীবন নামে চিনেছিলাম। পরে সে নাম ঝেড়ে ফেলেছি। তবে সে বিশ্বাস কি না তা নিয়েও অনেক ধন্ধ তৈরী হয়েছে।

একটা কাজে এক আত্মীয়ের অফিসে পর পর বেশ ক’দিন যেতে হয়েছিল। (না, চাকরীর জন্য না। আমি মাত্র এইচ এস সি পাশ ঘরের বউ, আর চাকরীর আক্রা বাজার)। প্রথমদিন আত্মীয় চা আনিয়ে খাওয়ায়। তার আরো আরো ক্লায়েন্ট আসে, তাদের সঙ্গে পরিচিত হই। তাদেরই একজন জীবন। একহারা গড়নে খাড়া নাক, সুদর্শন ত্বকের জেল্লা, কথাবার্তায় গেরেমভারি। বেশ জমিয়ে আড্ডাবাজ। আমিও জমে গেলাম।
বললো- ‘আমার নামে দুইটাই পাবেন, জীবন এবং বিশ্বাস!’
তারপর যখনই গিয়েছি, জীবন সেখানে উপস্থিত।

যেদিন কাজ শেষ, তাড়াহুড়ো করে বের হচ্ছি, দেখি জীবন তার মোটরবাইক নিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে। ভনিতা করে না, সরাসরি বলে যে সে ফ্রি আছে, আমি চাইলে বাসায় পৌঁছে দিতে চায়।
আমার ছোঁয়াচ বাঁচানো রোগ নেই। আমার সিঁথিতে বিবাহিতের সাইনবোর্ড, বাসায় তিন বছরের মেয়ে হয়তো ক্ষিদে পেয়ে কাঁদছে। কাঁধে হাত রেখে বাইকে উঠে বসলাম। জীবন আর বিশ্বাস একযোগে এসে আমার বাসা চিনে গেল।
আমার মেয়ের বাবা দূরের শহরে থাকে, শারিরীক মানসিক দুই অর্থেই, সে কিছু টের পেল না।

জীবনকে চিনে আমার মনে হলো- শুরু হওয়ার জন্য কোন প্রস্তুতি দরকার নেই। অথবা উৎকীর্ণ প্রস্তুতি ছিল আগে থেকে, আমি টের পাইনি।
নিজেকে দেখার আলো-অন্ধকারে ক্রমাগত জীবনকে দেখলাম। সে আমাকে আদৌ দেখছে কি না তা আমলে নিইনি। নিজের এই স্বভাব আমার অগোচরে ছিল।
একদিন আবিস্কার করলাম যে আমার পিরিয়ড বন্ধ। টেষ্ট ষ্ট্রিপ দিয়ে দেখলাম যে একটা মায়াবী রাজহাস নদীতে অলস সাঁতার দেয়ার মত ভাসতে ভাসতে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমার মনে হলো ঐ হাঁসের মধ্যে আমার প্রাণ। সেই মুহূর্তে জীবনকে ছাড়া আর সবকিছু অবিশ্বাস্য ঠেকলো আমার।
লম্বা কাহিনী ছোট করি।
কিছুদিন বাদে। টিন শেডের এল শেইপের চারটা ঘরের একটা। সে ঘরের মেঝেতে আমি মেয়ের হাত ধরে, ব্যাগ স্যুটকেস নিয়ে হতভম্ব দাঁড়িয়ে আছি।
জীবন গাড়ির ভাড়া মিটিয়ে ভেতরে ঢুকে হৈ হৈ করতে গিয়ে থমকে যায়। -‘হুম, পছন্দ হওয়ার কথা না। কিন্তু তাড়াহুড়ায় এরচে ভালো আপাতত পাওয়া গেল না। মাত্র কয়টা দিন একটু কষ্ট কর, এখন কত ভালো ভালো ফ্ল্যাট, একটা না একটা যোগাড় হয়েই যাবে’।
তখন শীতকাল। অন্ধকারের তুলট কম্বল জড়িয়ে নিচ্ছে সন্ধ্যাবেলা। আমার হাত ধরা শিশুকন্যা, পেটের ভেতরে আরেকজনের অস্তিত্ব বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ভেতরে উপনিবেশ গড়ার শক্তিতে সে আমার অস্তিত্ব গ্রাস করতে শুরু করেছে। জীবনের সঙ্গে বিশ্বাসের নাটাই দিয়ে খেলছি। সেদিনই মাত্র দুপুর বেলায় আমার মেয়ের বাবার সঙ্গে বিচ্ছেদের অনুষ্ঠান শেষ করে দিয়ে এসেছি। শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্লান্তি জানান দিচ্ছে।
-‘একটা মানানসই ভাড়া বাসা এখনই কেন যোগাড় হতে পারলো না?’ এই প্রশ্ন করতে গিয়ে থেমে যাই। জীবনের হাতে নিজেকে দিয়ে দেয়া ছাড়া মাথা কাজ করছিল না।
চৌকিতে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে মেঝেতে তোষক পেতে রাতের বিছানা হলো। রাধাকৃষ্ণ’র প্রেমকাহিনী কাটছাট করলে যেমন হয় আমাদের দুজনকে নিয়ে তেমন গল্প তৈরী করে কল্পনার স্রোতে ভেসে বেড়ালাম। তাৎক্ষণিক সীমিত যাপনকে অদূর ভবিষ্যতের বিশালতায় ছেড়ে দিয়ে নির্ভার থাকার চেষ্টা করলাম।
ওহ, এত কথা বলছি অথচ এতক্ষণ আমার নামটাই বলা হয়নি। ঠাকুর্দার দেয়া আমার নাম মলয়া। একদিন জীবন কানে কানে গেয়ে শুনিয়েছিল- ‘আমরা মলয় বাতাসে ভেসে যাবো শুধু কুসুমের মধু করিব পান’। হুম, কুসুমের মধু!
আমার মেয়ের ভালো নাম সুপর্ণা। এই প্রথম ওর নিজের চেনা বাসার বাইরে রাতের ঘুম। চৌকির ওপরে ঘুমের ঘোরে ও কেঁদে উঠলো। আধশোয়া থেকে উঠে ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে গিয়ে মেরুদণ্ডে টান লাগলো আমার। ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলে জীবন আমার পিঠ হাতিয়ে দিতে দিতে ফিস ফিস করে বললো-‘ শোন, এ বাসাটায় প্রাইভেসী একটু কম, দেখতেই তো পাচ্ছো আমাদেরকে বাথরুম আর রান্নাঘর শেয়ার করতে হবে। তোমাকে কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে মলয়া বলো না’।
- ‘তাহলে কি বলবো?’
- ‘বলবে- আলেয়া’- মুহূর্তের দ্বিধামাত্র নেই। জীবন আগে থেকে ভেবে রেখেছে!
- ‘আর সুপু?’ – আমি এবার হতচকিত।
- ‘ওকে বাইরের কারো সঙ্গে মিশতে দিও না’।
জীবনের কথায় ঘাপলা খুঁজবো এমন বিদ্যা আমার কই? জীবনকে আমি তখন জীয়নকাঠি হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য ছাত্রীর মত মুখস্থ করে চলছি।
বাইরে ভোরের মানুষের চলাচল সরব হচ্ছে। একটু পরে দিনের ফর্সা আলোয় আমি আর আমার মেয়ে কোথায় লুকিয়ে থাকবো!
তবে পুরোপুরি লুকিয়ে থাকতে হলো না। দিনেরবেলা আলেয়া, আর যেসব মোহময় রাতে জীবন আমার সঙ্গে থাকে তখন মলয়া হয়ে থাকি।

পরদিন থেকে এ বাড়ির সচল জীবনতরঙ্গে আমার নিশ্চল বসবাস শুরু হলো।
আগের সংসার ভেঙ্গে তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে মলয়ার ভেতর থেকে বেরিয়ে আলেয়া হতে চাই। বিশেষ করে যখন চার মাসের বিশ্বাসে আমার অন্তস্বত্তা পেট। চারপাশে কৌতুহলী অথচ নিস্পৃহ চোখ।

টিনশেডের ঘরে যখন বাতাস কুজো বুড়ির মত নিচু হয়ে কোঁকাতে কোঁকাতে ঢোকে, তখন ঘুম থেকে জেগে প্রতিদিন স্ফীত পেট নিয়ে দেয়ালে ঝোলানো বেতের আয়নার সামনে দাঁড়ালে দেখি জীবনের চেহারা থেকে একটু একটু করে কৃষ্ণভাব উধাও হচ্ছে। তার নাম থেকে জীবন ছেঁটে শুধু বিশ্বাসটুকু রাখতে চাই। যদিও হঠাৎ কেউ খোঁজ করলে বলি-‘বিশ্বাস বাড়ি নেই’।
বাড়ি সে সবদিন থাকেও না। কানাঘুষায় শুনি বিশ্বাসের আমিই প্রথম না। সম্ভবত আমি শেষও না।

ধীরে ধীরে মলয়ার মেয়ে, মানে আমার সুপু পাঁচ বছরে পড়ে। আর আলেয়ার ঘরে যে জন্ম নিলো তার নাম বিশ্বাসভরে রাখা হয়েছে সাফিয়া। সাফিও তর তর করে দুই বছর পূর্ণ করে ফেলে। দু’জন খলবল করে হাসে, নাচে, স্কুলেও যায়। জীবনকে নিয়ে আমার ধন্ধ ওদেরকে স্পর্শ করতে দেই না।
মলয়ার ভেতরে থেকে বেরিয়ে আসা আলেয়া বাজারের ফর্দ বানায়, কন্যাদের স্কুলের টিফিন, অষুধের নাম। বিশ্বাস করে বসে থাকে যে বিকেলে ফর্দ মোতাবেক সব জিনিস ঘরে আসবে। কিন্তু সবদিন আসে না।
আমার মধ্যেকার মলয়া তখন ক্ষ্যাপাটে হয়ে ওঠে। অনটন তার ভালো লাগে না। তার প্রচন্ড ইচ্ছে করে যে বিশ্বাসের বিপরীতে যত শব্দ আছে সেসব পৃথিবীর কাছে প্রকাশ করে দেয়। কিন্তু আলেয়া সেগুলো লুকিয়ে রাখতে চায়, তার কালো জোড়া ভ্রু এবং ততোধিক কালো চোখের মণিতে ছাইমাখা বিষণ্ণতা ফুটে ওঠে। সে শান্ত, বিনীত থাকতে চায়। তবু তাদের নধর শিশুর মত সুখের দেয়াল দূর থেকে ধেয়ে আসা ঝড়ো বাতাস এসে এফোঁড় ওফোঁড় করে।
অতিষ্ট হয়ে আমি নিজেকে নিয়ে বের হতে শুরু করি। বাজারে, রেস্তোরায়, ফার্মেসীতে।
একদিন বাজারে জীবন বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তার একটা চোখে পট্টি বাঁধা।
অবিশ্বাস্য দ্রুততায় সে আমার হাত আঁকড়ে নিয়ে গেল তার কলা বিক্রয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। এ বিষয়ে আমার কোন ধারণাই ছিল না! মানে ঘুণাক্ষুরেও এতদিনকার একত্রবাসে সে আমাকে এইসব বলেনি!
দরজায় বিশাল সাইনবোর্ড- ‘এখানে উত্তমরূপে কলা পাকানো ও বিক্রয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়’। তারপর নিচে কোর্স ফি, মেয়াদ ইত্যাদি উৎকীর্ণ করা আছে’।
তার সাজানো অফিস, রিভলভিং চেয়ার, টেবিলে ল্যাপটপ। সে আমাকে অচেনার মত বলে-‘ আলেয়া, বাজারে এসেই যখন পড়েছ, কলা বেচার কোর্সে নামটা লিখিয়ে ফেল’।
বুঝতে পারলাম যে একচক্ষু’র কারণে সে আর মলয়াকে দেখতে পাচ্ছে না। অগত্যা আমি কেবল আলেয়া, যে কি না কেবলি স্বপন করেছি বপন, হুতাশে!
তারপর কলা বেচা বিষয়ে নানান নয়ছয় কথাবার্তা, এই বেচায় রথ দেখা নেই। যেন মানুষের আর কিছু বলার না থাকে, বিশ্বাসকে সে অনুযায়ী শেষ বাক্যটা বলতে হবে।
ততদিনে অবশ্য আমিও আর নিশ্চিত নই, আমি কে অথবা কি? এই ট্রেনিংটা কে করবে? মলয়া, নাকি আলেয়া?
তবে এখন বিশ্বাস শুধু আলেয়াকে চেনে। অতএব আলেয়াই সই।
আমি তিনমাসের ট্রেনিং সাফল্যের সঙ্গে শেষ করলাম।
মিথ্যে বলবো না, বিশ্বাসের কলা শুরুর দিকে বেশুমার বিক্রি হতো। গাছপাকা, অর্গানিক, কেমিকেলমুক্ত ইত্যাদি বাজারজাতকরণের বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। ভেজালবিহীন এক নির্ভরতার নাম বিশ্বাসের কলা।
মাঝে মাঝে আলেয়ার ভেতর থেকে মলয়া উঁকি দিলে, তার চুল ঝাড়ার ভঙ্গীতে, আঁচল দিয়ে মুখের হাসি চাপায় (কান্নাও), সিঁথির কাছে ঘষটানো সিঁদুরের আবছা একটা ছায়া থেকে মলয়া বের হয়ে এসে যখন আলেয়ার ঘাড়ের কাছে অদৃশ্য পরীর মত লটকে থাকলে, যখন আলেয়ার প্রদ্যুৎপন্নমতীত্বে ঘাটতি দেখা দিলে, তখনও যদি সে সন্তর্পণে বের হয়ে আসে, তার লাস্যময়ী হাসির গমকে শরীর কাঁপে, ভ্রু’র ভঙ্গীতে পুরাতনী কোন গানের লাইন থমকে দাঁড়ায়, তখন তাকে আমি গলা টিপে ধরি।
হঠাৎ হঠাৎ আলেয়ার ঘাড়ের কাছে মলয়া উঁকি দিয়ে গলা জড়িয়ে ধরে, তখন সুপু- সাফি’র কথা মনে থাকে না। ওরা ‘মা’ বলে ডাক দিলে আমি হকচকিয়ে আশপাশে অন্য কোন নারীর খোঁজ করি। বলতে গেলে বিকেলের পর, সন্ধ্যের মুখে মুখে আমার দেহ থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে মলয়া প্রকাশ্যমান হয়, তারপর তা রাত্রি অব্ধি গড়ায়, তখন অতটা নিষ্ঠুর হতে পারি না। অন্ধকারে আমিও জড়িয়ে ধরি তাকে। তবে খুব গোপনে মনে করিয়ে দেই- ভোরে আর সবার ঘুম ভাঙ্গার আগেই কিন্তু আবার আলেয়া হয়ে উঠতে হবে।
খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে আলেয়ার হাতে তৈরী গুড়ের চা খেয়ে মনে চিতাশাবকের শক্তি জুটিয়ে রওনা দেই গ্রামগঞ্জের দিকে। গ্রামে কোন কোন ভিটেবাড়ির পেছনে অমৃত সাগর কলার গর্ভবতী গাছ। তাদের কাদি কেটে নিলে পাতারা দুলে ওঠে, গাছেদের নাড়িছেঁড়া ধন।
মানুষের কাছে বিশ্বাসের ট্রেনিং এ পাওয়া কথাবার্তা রিপিট করি। ভালো আয়ত্ব হয়ে গেছে।
এভাবেই চলে, গ্রামের কলা এনে শহরের ফলের দোকানে শোভা পাওয়ার আগেই ক্রেতারা অমৃতসাগরের সন্ধানে হাজির থাকে।
রীতিমত ঘড়ি ধরে ঘুম ভাঙ্গলে তড়াক করে উঠে পড়তে হয়। তারপর সকালের ট্র্যাফিক জ্যাম ভেঙ্গে দৌড়াই। সেদিনও দৌড়ে যাচ্ছি, আচমকা সকাল বেলার রোদ লুকিয়ে আকাশ কালো হয়ে গেল। প্রচন্ড ঝড়ের মুখে পড়ে গেলাম । এমন ঝড়ে আম কুড়োতে হয়, নইলে ছটফটিয়ে শিল কুড়োতে হয়, অথচ এই ইট কাঠের শহরে কিনা তীব্রগতিতে এক পশলা ধারালো বালি এসে ঢুকে গেল আমার ডান চোখে। যন্ত্রণায় বসে পড়েছিলাম। ঝড় থেমে গেলে কাছের ডাক্তারখানায় গেছি। আলোর দিকে তাকাতে পারি না। চক্ষু বিশেষজ্ঞ বললো কর্ণিয়ায় মারাত্মক আঘাত। আমার ডান চোখ অন্ধ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
এক চোখ নিয়ে জীবনযাপন খুব পক্ষপাতময়। পক্ষপাত কিন্তু ভালো। নিরপেক্ষতার বালাই নেই। নির্দ্বিধায় কাঁচা’কে পাকা বলে চালিয়ে দেয়া যায়।
এক চোখে জীবনকেও মাঝে মাঝে দেখি। জলদস্যুর মত বিশ্রী আগ্রাসী লাগে।

এতসব কিছু পরেও একান্ত কিছু সময় কি আমার থাকে না? আছে, থাকে। ঐ যখন দিনের শেষে ম্রিয়মান সরব ভীড়ের ভেতর দিয়ে এক থোক কালো কাকের উড়ে যাওয়া দেখি। ঐটুক আমার নিজস্ব সময়। মহাকালের হিসেবে গুণলে সে মুহূর্তমাত্র, কিন্তু আমার বাস্তবতায় প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোকে একটা সুতোয় গেঁথে দিলে সপ্তাশেষে ভালোই দীর্ঘ। সেটুকুও আজকাল আমার সুপু-সাফির জন্য রাখা থাকে।
আমিও রথ দেখতে পাই না, কিন্তু কলা বেচি।
জীবনে বিশ্বাস নামের শব্দ এখন রীতিমত অবিশ্বাস করি আমি।
তবে আমি মলয়া, নাকি আলেয়া তা স্থির করতে পারি না। ঐ ধন্ধ এ জীবনে মিটবে বলে মনে হয় না।