স্বপ্নে যখন ভুল কোনো গান

সাবেরা তাবাসসুম

পৃথিবী, সমীহ কী তা বুঝে উঠতে উঠতে
আমার হাঁটু দুটো ভেঙে চুর চুর হবে
দাঁতহীন মাড়ি বেরিয়ে আসবে হঠাৎ
চামড়া লেগে থাকবে চিমসে মেরে আর
আমার হাড় ক’ খানা গোনাও যাবে ধীরে
হাজার বছরের প্রত্নশরীর আমার চেয়ে
দেখাবে সভ্য, সুন্দর, পরিপাটি
আস্ত বলতে কিছু থাকবে না নিশ্চিত
যা থাকবে তা দৃশ্যের অতীত
যা থাকবে তা বর্ণগন্ধহীন
যা থাকবে তা স্পর্শবঞ্চিত
তবু কানকো নাড়িয়ে যাবে প্রাণ টুক টুক তালে
ধুঁকতে ধুঁকতে অচেনা গ্রহ হতে আসবে কেউ
যে তোমার মতো নয়
যে আমার মতো নয়
যে তাহার মতো নয়
এই ধরো, প্রবৃত্তি ও সমাজ তোমাকে শেখায় পুরুষ হতে
প্রবৃত্তি ও সমাজ আমাকে শেখায় নারী হতে আর
তৃতীয়জন থাকা-না থাকার মাঝে চিৎকার নিয়ে
নালায় মুখ থুবড়ে পড়ে কিছু হতে না পেরে
এইসব হতে হতে, মাংসের যোগান দিতে দিতে
একমাত্র কসাই পেশাটিকে টিকিয়ে রাখতে রাখতে
কারণে অকারণে নুনের মত বীর্য চাটতে চাটতে
শিশুদের মৃত মল ঘাঁটতে ঘাঁটতে
সমীহ কী জিনিস আর জানা হয় না তোমার
যদিও রক্তপিপাসু তবু একদার সুপেয়, সুস্বাদু পৃথিবী,
একই ভাবে সমীহ কী তা জানা হয় না আমার
সেটা কখন কাকেই বা করা যায়
তার সাথে প্রেম যায় কিনা,
তার সাথে মানুষ কিংবা ধরো ডাঁই পিঁপড়া
কিংবা ভিনধর্ম, ভিনগ্রহবাসী যায় কিনা
কোনোভাবেই জানা হয় না আমার
তবে তুমি রাখলে কেন, আমাকে রাখলে কেন ভেবে
এই হাতে রাখা, হাতে রাখা-বেঁচে থাকা দেখে
সিঁটিয়ে যেতে যেতে পাই তার সাক্ষাৎ
ভবিতব্য যদি বলো, সে ধরে এনে দাঁড় করায়
উচ্ছিষ্ট বিন্দু বলো, প্রেম, সেও মুখোমুখি করালো দাঁড়
পৃথিবীতে তখন আর কিছু নাই
আমারও যেন পৃথিবীতে আর কেউ নাই
না সন্ধ্যা-রাত-দিন
না যুদ্ধ-শান্তি-কাম
না প্রজন্মের দোষ-গুণ
আর তখন, ঠিক তখন, সে যত দুঃসময়ই হোক,
দুর্বিনীত প্রেমিকের "না"আঁকড়ে এ্যায়সা খাবি খাই
আর সে এমন বিচিত্র লীলা করতে থাকে নির্বিচারে!
খঞ্জর! খঞ্জর চেয়েও মুক্তি নাই!
তবু মন তাকে সর্বদা আশীর্বাদ করে,
সৌম্য সন্ধ্যার মত, থাকো, তবু তুমি থাকো
তবু তুমি একটু বেঁচে-বর্তে থাকো!
যখন মুঠো ভরা দুঃসময় নিয়ে আমরা মুখোমুখি
যখন পৃথিবীতে সমীহ বলতে আর কিছুই থাকে না।