যাপনের ভাষা ~ ক্ষমতা // প্রতি ক্ষমতা

রাহুল গাঙ্গুলী

যাপনের ভাষা ~ ক্ষমতা // প্রতি ক্ষমতা
(১টি লজিক্যাল্ রি-ইনভেস্টিগেশন)
------------------------------------------------------------ ---------
এইমাত্র বৈজয়ন্তীরা সপরিবারে এসে পৌঁছাল, নতুন জায়গাটিতে।ধরা যাক, নতুন জায়গার নাম কলকাতা; যা এককালে কলিকাতা নামে পরিচিত হতো।ইংরাজিতে বলা হতো ক্যালকাটা।এখানে, গড়পড়তা কেউই বৈজয়ন্তী'র ভাষা বোঝে না সেভাবে; কারণ ~ বৈজয়ন্তী এবং এই জায়গাটি ~ উভয়ের মাতৃভাষা আলাদা।বৈজয়ন্তী'র ভাষা শুনে, নতুন জায়গার গড় জনগণ ~ কেবলমাত্র ফ্যালফ্যাল করে চেয়েই থাকেনা; এরা সজোরে ও সদর্পে প্রকাশ করে বৈজয়ন্তীরা সপরিবারে কেউই, এই পৃথিবীর নয়, বরং ভিনগ্রহ থেকে আগত।অতএব, আপাতত প্রথমপ্রথম ইশারাইঙ্গিত, তারপর টুকটাক করে নতুনভাষাটিকে অন্ততপক্ষে কাজ চালানো গোছের, শিখে নেওয়ার চেষ্টা।আর তারপর, অর্ধশতাব্দী পার করে, বৈজয়ন্তী'রা যখোন কলিকাতার আদি মানুষ ~ তখন তাদের উত্তর প্রজন্মের চলতি ভাষা ~ দুটি মাতৃভাষার সার্থক সমষ্টিগত পরিণতি।অবিশ্যি, এখানে উল্লেখ করা উচিৎ, যে ~ বৈজয়ন্তী নামটি অনেক নিরাপদ এ দেশে বর্তমানে; অন্ততপক্ষে নামটি "সালমা খাতুন" বা "আয়েশা পারমার"র থেকে।যেখানে, ভাষাপ্রবাহের মূল নিয়ন্ত্রক 'সভ্যতার অগ্রগতি' ফ্যাক্টরটি ছেড়ে, ক্ষমতাশীল্ রূপায়িত 'নয়া-ধর্মীয় আচার ব্যবহার' ফ্যাক্টরটি মুখ্য।অবশ্য একথায় আসবো পরে, তার আগে ভাষার সংকরায়ন বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা।

আসলে, ভাষার শুদ্ধতা বলতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটি না চাইলেও ওপরের মতোনই।আর তা কতোটা প্রকট / প্রচ্ছন্ন ~ সেটি একটা সহজ গাণিতিক সমীকরণের সাহায্যে বোঝানো যায় :: (ভাষা '১') + (ভাষা '২') ⇌ (ভাষা 'X')।অর্থাৎ, ভাষার এই নতুন সংকরায়ন; কেবলমাত্র একাধিক ভাষার ভিতর অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বিক্রিয়া নয় // সমান্তরালভাবে বিক্রিয়াটির একটি স্থায়ী প্রভাব।যার ফলস্বরূপ, সংকরায়িত ভাষাটির ভিতর একাধিক বিক্রিয়ক ভাষার অস্তিত্ব ~ বিশ্লেষণ পরবর্তী, কখনো পাওয়া যাবে / কখনো নয়।ভাষার এই শুদ্ধতমো থাকার চরিত্র প্রবণতাটিকে বুঝতে গেলে, আমাদের ফিরে যেতে হবে ভাষা সৃষ্টির উৎসে; অর্থাৎ আদিম মানুষ এবং ভাষার জন্মকথায়।যদিও, একথা মনে রাখা উচিৎ ~ এই ব্রহ্মান্ডের অন্তর্গত যেকোনো উপাদানের নিজস্ব একটি অন্তর্মুখী ভাষা আছে; আর তা মৃত বা অধুনালুপ্ত উপাদানাগুলির ক্ষেত্রেও।

ব্রহ্মান্ডের এই মহাজাগতিক প্রকৃতি অন্তর্গত, যেকোনো উপাদানের নিজস্ব একটি ভাষা আছে।আর ভাষা হলো এক থেকে একাধিক যাপন চিহ্নের সমষ্টিগত প্রভাব।সহজ কথায়, একটি নির্দিষ্ট উপাদানের ভিতরে, তার সর্বসম্মতিক্রমে ব্যবহৃত বৈশিষ্ট্যজনিত চিহ্নগুলির প্রভাবসমষ্টি হলো ভাষা।য্যামোন ~ ওপরের গাণিতিক সমীকরণটি থেকে 'ভাষা ১' হলো; একটি নির্দিষ্ট উপাদানের ভিতর '১'চিহ্নিত বৈশিষ্ট্যগুলি বা উপাদানটির ভিতর সর্বসম্মতিক্রমে ব্যবহৃত বৈশিষ্ট্যগুলির মাধ্যম ১চিহ্নিত // এরকমই ভাষা ২ থেকে আরেকটি উপাদানের বৈশিষ্ট্যগুলির মাধ্যম ২চিহ্নিত।অবশ্য, এখানে উল্লেখিত উপাদানগুলি কোনো মিশ্র নয়, বরং একেকটি মৌলিক একক ~ একথা আগে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।আদিম মানুষ রচিত সভ্যতার নিরিখে একটি উদাহরণ নেওয়া যাক : "সূর্যের লাল আভা যতো গাঢ় হয়ে উঠছে, চারপাশের ঔজ্জ্বল্য বাড়ার সাথেসাথে জল হয়ে উঠছে বাষ্প"।এখানে, 'সূর্যের লাল আভা গাঢ়' একটি প্রবণতাময় চিহ্ন ~ আমরা বলতে পারি, এটি সূ্র্যের নিজস্ব ভাষা; 'চারপাশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে' ~ এটি একটি দৃশ্যমুহূর্তের ভাষা এবং 'জল হয়ে উঠছে বাষ্প' ~ এটি জলের ভাষা; আর এসবের যুগ্ম বিক্রিয়ায়, সংকরায়িত নতুন প্রবণতাময় চিহ্নটিকে যে ভাষায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রকাশ করা যাচ্ছে ~ তা হলো 'ক্রমবর্ধমান তাপ / উষ্ণতা'।অবশ্য এই উদাহরণটিতেও একটি অন্তর্নিহিত প্রবণতা / চরিত্র রয়েছে ~ তা হলো, 'লাল' বিশেষ্যটি সূর্যের নিজস্ব ভাষা আদৌ নয় // বা 'বাষ্প' শব্দটিকে কখনোই বলা যায় না জলের নিজস্ব ভাষা ~ কারণ, তারা কখনোই এই কথাগুলির প্রত্যুত্তর দিতে পারেনা।অতএব, ভাষা একাধারে বিমূর্ত এবং অপরদিকে মূর্ত'ও।আরো সুন্দরভাবে বলা যায়, ভাষা হলো বিমূর্ততাকে একটি সম্ভাব্য মূর্ততায় প্রকাশের নির্দিষ্ট মাধ্যম।সহজ কথায় ~ প্রকৃতির বিভিন্ন বিমূর্ত ক্রিয়াবিক্রিয়াগুলি জনিত উপলব্ধিসমূহকে নিজের মতো কোনো সর্বসম্মতিক্রমে ব্যবহারিক চিহ্নগুলি দ্বারা প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা।আর উৎস থেকে একে বিবর্তনের পথে নিয়ে যাওয়ার দশায় প্রতীকী উৎসেচক হলো সৃষ্টির আদিম পর্ব থেকে ক্রমশঃ সভ্য হতে থাকা মানুষ।যদিও মানুষের মতো বাকি উপাদানগুলিরও এই প্রবণতা রয়েছে; যেহেতু মানুষ সৃষ্ট ভাষাটির বিবর্তন আপাতভাবে সবচেয়ে বেশী; অতএব আমাদের পরবর্তী আলাপচারীতা এই বিষয়কেন্দ্রিকই থাকবে।

এই অবস্থান থেকে একথা য্যামোন স্পষ্ট ~ ভাষার মৌলিক একক হিসেবে দুটি ইউনিট সমান্তরালভাবে প্রধানত :: ধ্বনি এবং দৃশ্য; ত্যামোনই ~ আরেকটি প্রশ্ন উঠে আসে :: মানুষ কতৃক ভাষা সৃষ্টি ও সেটির বিবর্তন কি কেবলমাত্র যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন সংক্রান্ত? না কী এই ঘটনা, তার একটি সুবিশেষ স্বতোঃপ্রণোদিত প্রবণতা? প্রশ্নটি ওঠার নেপথ্যে স্বাভাবিক কারণ হলো এই যে ~ বর্তমান সময়ে চর্চিত তথ্য ও ব্যবহারিক জ্ঞানের দ্বন্দ্ব এবং বিবর্তনটি কিভাবে স্বাভাবিক প্রবণতাধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাষ্ট্র ও ক্ষমতাশীলের একটি মৌলিক হাতিয়ারে পরিণত হলো; এই বিষয়গুলির সূত্রপাত ও যাত্রা শুরু।

বিভিন্ন ইতিহাসবিদ/পুরাতত্ত্ব িদ/ভাষাবিদ'দের অভিমত অনুযায়ী এবং কিছু যুক্তিগ্রাহ্য অনুমানের ওপর নির্ভর করে, বিষয়টিকে এভাবে সাজানো যায় :: প্রকৃতিগত বিভিন্ন ঘটনাবলি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, আদিম মানুষ সর্বপ্রথম ধ্বনি নির্গত করার বায়োলজিক্যাল ফাংশনকৃত কৌশলটি শেখে।সে বুঝতে পারে ~ ধ্বনির প্রকাশ/প্রকার/প্রকৃতি/ চরিত্র/ইত্যাদি।য্যাম ন ~ বজ্রপাত / উষ্ণতা পরিবর্তন / বৃষ্টিপাত / আলোর তীব্রতা ও দিনরাতের স্বাভাবিক পার্থক্য / ইত্যাদি।এমনকি এই ঘটনাগুলি, প্রকৃতির সাথে সহাবস্থানে তার শ্রবণ প্রক্রিয়া দ্বারা অনুপ্রাণিত, এমন হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।আবার যেহেতু মানুষের সৃষ্টি প্রাণীজগৎের একটি আপাতপক্ষে সর্বশেষ স্তর; অতএব অন্যান্য বিপদসংকুলগ্রস্ত প্রাণীদের থেকে দূরে থাকা বা তাদের থেকে আত্মরক্ষার জন্য সর্বপ্রথম ব্যবহারিক অস্ত্র হিসেবে ধ্বনি প্রয়োগ ~ ভাষা ব্যবহারকারী মানুষের প্রথম প্রজন্মটির ক্ষেত্রে, এভাবেও হতে পারে।পরবর্তী পর্যায়ের ব্যবহারিক দিকটি হলো ~ একে অপরের সাথে সংযোগ রক্ষা বা যোগাযোগব্যবস্থা/কমিউ িকেশন; যা ধ্বনির পূর্বে ইশারাইঙ্গিতের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হতো।এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রথম ভূমিষ্ঠ শিশুটি পরিবেশের পরিবর্তনে কিভাবে প্রথম ধ্বনিটি নির্গত করে ~ যা বলা যেতে পারে তার পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলির সমষ্টিগত প্রতিবর্তক্রিয়ার ফল।ধ্বনি ব্যবহার করে যোগাযোগব্যবস্থাটির প্রাথমিক রূপটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ~ দুপক্ষের সম্যক অস্তিত্ব।কিন্তু বহুক্ষেত্রে তা সম্ভব না হওয়ার ফলশ্রুতিতে ধ্বনি'র পরিবর্তে তার লিখিত রূপ ~ গুহালিপি।যদিও, পুরাতাত্ত্বিক গুহালিপিগুলির প্রাথমিক পর্যায় ছিলো ~ অস্তিত্বের পরিবর্তে থাকা অদৃশ্য সংকেতগুলিকে দৃশ্যমান; সহজ কথায় এমন কিছু চিহ্ন লিপিবদ্ধ করে রাখা, যাতে করে পরবর্তী সময়ে এসে যেকেউ বুঝতে পারবে পূর্ববর্তী কারুর অস্তিত্ব থাকার নিদর্শন।ধ্বনির আরেকটি অপরিহার্যতা হলো ~ সাময়িক মুহূর্তের প্রকাশ; অর্থাৎ যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বা বলা ভালো পরবর্তী সময়ের জন্য সংরক্ষিত না থাকা।বরং গুহালিপি সেই অপরিহার্যতা'র শর্তটি সম্পূর্ণভাবে পালন করতে পারে।

সুতরাং, কেবলমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা'ই নয়; বরং উপলব্ধির স্বতোঃপ্রণোদিত প্রকাশের চরিত্রটিই ~ আদিম মানুষকে ভাষা আবিষ্কারের প্রতি বেশ কয়েক কদম এগিয়ে দেবার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।আর এখান থেকেই সম্ভবত 'তথ্য' বা 'ইনফরমেশন' বিষয়টির সম্ভবতো শুরু।অর্থাৎ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পূর্ববর্তী প্রজন্মের রেখে যাওয়া কোনো আদিম মুহূর্তের যাপনকথার ইতিহাস ~ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তথ্য; যেখানে প্রকৃতির সাথে কাটানো স্বযাপনের প্রতিটি বর্তমান মুহূর্ত কাটানোর সম্যক শিক্ষাই হলো ব্যবহারিক জ্ঞান।এবার আসি, প্রশ্নটির পরবর্তী অংশে :: অর্থাৎ, ভাষা এবং ক্ষমতার প্রসঙ্গটিতে।মানুষ যেদিন থেকে গোষ্ঠীর ধারনা লাভ করলো, সেদিন থেকে সে চাইলো তার জীবনকে সুরক্ষিত করার জন্য ~ প্রকৃতি অন্তর্গত সম্পদগুলির ব্যবহারের একচেটিয়া অধিকার।সে শুরু করলো সীমানা এবং তার দখলদারি।ডারউইনবাদ এবং ফ্রয়েতীয় মনস্তত্ত্ব দ্বারা, একথা প্রমাণ করাই যায় ~ একদিকে য্যামোন প্রকৃতির বিপদসংকুলতার মধ্যে যোগ্যতম হয়ে টিকে থাকা, মানুষের স্বাভাবিক / সহজাত বৈশিষ্ট্য।আরেকদিকে বহুগোষ্ঠীর ভিতরে তার যোগ্যতম হয়ে টিকে থাকা, মানুষকে এগিয়ে নিয়ে গ্যাছে ক্ষমতার লোভের প্রতি; যদিও প্রাথমিকভাবে তার কারণ অভাব হলেও // পরবর্তী সময়ে তা স্বভাবে পরিণত হওয়া।সহজ কথায় ~ একটি অঞ্চলে একাধিক গোষ্ঠী থাকলে, সবচেয়ে বলশালী গোষ্ঠীটির ঐ অঞ্চলের প্রাপ্ত যাবতীয় সুখসুবিধা ও প্রাকৃতিক সম্পদকে বাকিদের তুলনায় সবচেয়ে বেশী ভোগ করা; এবং ঐ বলশালী গোষ্ঠীর ভিতর সবচেয়ে বলশালী মানুষটির গোষ্ঠীপতি হওয়ার মাধ্যমে, ঐ গোষ্ঠী অধিকৃত সকল সম্পত্তিকে বাকিদের তুলনায় সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত করার একচেটিয়া অধিকার।

একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দ্বারা অপর গোষ্ঠীর ওপর এই বল প্রদর্শন পরবর্তী পর্যায়ে সৃষ্টি করে ঔপনিবেশিক ধারনার ~ যার একটি অন্যতম শর্ত হলো অপর গোষ্ঠী ব্যবহৃত ভাষার ওপর বলশালী গোষ্ঠী ব্যবহৃত ভাষার নিয়ন্ত্রণ।যদিও এই বিষয়টি সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে গতো শতকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে।কারণ হিসেবে, সরাসরি ঔপনিবেশিকতা টিকিয়ে না রাখতে পারার পরিবর্তে অবশেষ হিসেবে ভাষা/ইত্যাদি দ্বারা যতোটা সম্ভব ঔপনিবেশিক অঞ্চলটির মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ।য্যামোন ধরা যাক, ব্রিটিশ আমাদের দেশ ছেড়ে গ্যাছে বহুদিন, তবুও আমরা সভ্যতার নাম দিয়ে তাদের তৈরি করা এলিট্ বা অভিজাত সম্প্রদায়কে অস্বীকার করতে পারিনি।কথাটি প্রমাণ করা যায়; কিন্তু অতিরিক্ত দীর্ঘতার কারণে আপাতত সে আলোচনা এখানে রাখছি না।তবে একথা বলাই যায় ~ ফলশ্রুতি হিসেবে সর্বপ্রথম ভাষার দুটি স্তরের ঔপনিবেশিক ভিন্নতা সৃষ্টি :: মিশ্র/অশুদ্ধ/চলিত ভাষা (যা ধ্বনি নিয়ন্ত্রিত কথ্য/মৌখিক ভাষা; সহজ কথায় ~ যে ভাষায় আমরা কথা বলি) এবং বিশুদ্ধ/লিখিত ভাষা (ধ্বনি পরিস্রুত ও তার ব্যাকরণসম্মত লিখিত রূপ; সহজ কথায় ~ যে ভাষায় আমরা লিখিত আদানপ্রদানে মধ্যে থাকি)।এছাড়াও, অভিজাত শ্রেণী কতৃক এলিট্ রুচিসম্পন্ন নির্দিষ্ট ভাষার নিয়ন্ত্রণ, যা কে তথাকথিত সভ্য ভাষা বলা হয়ে // আঞ্চলিক শব্দার্থ বিশিষ্ট ভাষা ব্যবহারের প্রতি নিষেধ, ফলতঃ তাদের ক্রমশঃ অবলুপ্তি // আঞ্চলিক শব্দকোষ বা ব্যাকরণের অভাব // নিজস্ব রুচিসম্মত যা নয়, সেইসব ব্যবহার্যের প্রতি কটাক্ষ // ইত্যাদি।আসলে, ভাষা একটি মুহূর্ত যাপনের চলমান ধারাবাহিক ছবি; অতএব তা সেই যাপনটির সংষ্কৃতি এবং ইতিহাস সংরক্ষণের উৎস; অতএব ~ ভাষার ওপর ক্ষমতাশীনের আঘাত তথা যাপন প্রক্রিয়াটির ওপর আঘাত ~ যার অর্থ যাপনটিকে অস্বীকারের মাধ্যমে, একটি জনজাতির সংষ্কৃতি ও ইতিহাসকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেওয়া; তথা সেই জনজাতির শেকড়টিকে আঘাত করতে করতে জনজাতিটিকেই একসময় মুছে ফেলার মনস্তত্ত্ব।একথা খুবই সূক্ষভাবেই ঔপনিবেশিক অবশেষ দ্বারা পরিচালিত।প্রসঙ্গক্রম ে উদাহরণ হিসেবে বলতেই পারি হিন্দি ভাষাটির কথা // ইংরেজি ভাষাটির কথা ~ যাদের অস্তিত্ব শুরুই হয়েছে একাধিক আঞ্চলিক ভাষার ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে।

যেকোনো ভাষাই ~ স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট নদীস্রোত প্রবাহের মতোই বিশুদ্ধ।যদিও, এই প্রবাহটিকে বহন করার দায়িত্ব মানুষের'ই।যদি, একাধিক ভাষা সমান্তরালভাবে থাকে; তখোন ভাষার সংকরায়ন স্বাভাবিকভাবেই ঘটে ~ যা কে আমরা স্বাভাবিকভাবেই ভাষার বিবর্তন বলে থাকি।কিন্তু এই বিবর্তনটিকে স্বাভাবিক ভাবে না ঘটিয়ে, যদি স্বার্থান্ধ কারনবশতঃ করা হয় ~ তা ইতিহাসের প্রতি অপমান // অন্য জাতিগোষ্ঠীর প্রতি আঘাত।অতএব চিরাচরিতভাবে বলা বিকাশ সংক্রান্ত সেই প্রশ্নটিই ওঠে ~ "বিকাশ কার স্বার্থে" বা "ডেভেলপমেন্ট ফর হুম"।ঠিক যেরকমটি বর্তমান ভারতবর্ষে সর্বভারতীয় ভাষার একতা বিষয়ক বলা হচ্ছে ~ "হিন্দী /হিন্দু/ হিন্দুস্তান; যেখানে একটি ধর্মান্ধ আবরণকৃত ইতিহাস দ্বারা মুছে ফেলা হচ্ছে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাসকে বা বলা ভালো বিকৃত করা হচ্ছে ভারতবর্ষের সার্বভৌমত্ব বিষয়ক ইতিহাস এবং যার ফলশ্রুতিতে আগামী সময়ে ~ শাসকের কাছে অন্যান্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর একপ্রকার বাধ্যতামূলক আত্মসমর্পণকেই সূচিত করার প্রবণতা।