গুচ্ছ কবিতা

ফরিদ ছিফাতুল্লাহ

ফরিয়াদ
অন্যায্য ভীষণ অন্যায় প্রকৃষ্টরূপে এই প্রবঞ্চনা।
আমার কাছে উৎকৃষ্ট উৎস থেকে প্রাপ্ত
পরিপক্ক খবর আছে
পৃথিবীর আর কোথাও কোনখানে
গোপনে বা প্রকাশ্যে বা অন্য কোন বেশেও
বৃষ্টি হচ্ছে না।
প্রকৃতির সকল বৃষ্টি থেমে গেছে। বৃষ্টিশেষে রামধনু
উঠেছে সকল আকাশে।

শুধু এক খণ্ড কালো মেঘ এখনো বৃষ্টি ঝরিয়েই চলেছে।
অবিরাম তপ্ত বৃষ্টিধারা। এতটুকু তার কমে না উত্তাপ।

মি লর্ড
আমি তাকে মিথ্যাবাদিতা, ছলনা আর চাতুরীর
অভিযোগে অভিযুক্ত করছি।

শহর আবাহন
ধ্যানে বনে শহরটা ঢেকে যাক
ইট সুড়কিগুলো গুড়ো হয়ে
পলি জমে যাক এয়ারপোর্ট রোডে।
বৃষ্টিতো এখনো মুক্ত স্বাধীন
শৃঙ্খলবিহীন-
উর্বরতার গর্ভ সঞ্চার করবে শহরে।
ধ্যানে বনে শহরটা ঢেকে যাক।
সবুজ মেট্রোপথ ঝুলে থাকুক
শহরের এমাথা ওমাথা।

কেঁচেগণ্ডূষ
যেভাবে বীজ রোপিত হয়েছিলো
সেভাবে বৃক্ষটি জন্মায়নি।
ভুল জার্মিনেশন
শীতকালে তো আম্রফল ফলে না।

উৎকৃষ্ট বীজে সর্বদা
উত্তম উদ্ভিদ জন্মে না।


নিকলি
পদভারে ধুলো ওড়া মৃন্ময় পথজুড়ে সাদা সাদা দুপুর।
সামান্য সোনালি রঙ ধরতে না ধরতেই মৃত্যু এসে
ছিনিয়ে নিয়ে যায় বিকেল। সদ্য মৃত বিকেলের সমাধির উপর রচিত ঝিঁঝিঁর মিউজিকে সায়াহ্ন। উঠোনে উঠোনে মাটির চুলো। চুলোয় আগুন। আগুনের উপর মাটিলেপা হাঁড়ি। অন্যদিকে আকাশ থেকে ঝরে পড়া মাতৃহীন জোছনার স্রোত লেপ্টে থাকে অন্ধকারের উপর জড়াজড়ি।

বর্ষায় পিতৃহীন আকাশের অশ্রুজলে ভরে ওঠে বুকের সব খাঁজ। ঘোলা ঘোলা আলুনি জল। নতুন সঙ্গীর সাথে খোশ গল্পে মেতে ওঠে নরসুন্দা। সাদা সাদা জলের শাড়িতে ঢেউ ওঠে বাতাসে। আনন্দে নাচে ঘোড়াউত্রা আর রূপালি অলঙ্কারে সেজে ওঠে বোনেরা।

হেমন্তের বাতাস ভারী হয়ে থাকে আনন্দ নাচনে। সোনা সোনা দানা দানা আনন্দ চারপাশে। জমিনের বুক খালি করে মানুষ কেটে আনে বাতাসের দোল। শুকনো চোখে জমিন জল জল করে। সমব্যথী শীত প্রাণান্ত চেষ্টায় ফোঁটা ফোঁটা জল দান করে প্রদীপের মতো সাদা শিখায়।
রাগে অভিরাগে বাতাসেরও জল শুষে নেয়। রাগ পড়ে এলে কণ্টকিত বৃক্ষের শিরায় শিরায় ফেরত দেয় সুপেয়।

কতদিন আর বাঁচবে নরসুন্দার মাসী ঘোড়াউত্রার পিসি
কেউ জানে না। জেগে থেকে হা হুতাশ করে। তার ঘুম পড়ে থাকে নিম কাঠের শক্ত বিছানায়।