বৃন্দাবনী কবিতাগুলি

বিকাশ গণ চৌধুরী


এক পশলা বৃষ্টি শেষে
তিনি লিখলেন
রামধনু
আগুনের চাকার মধ্যে বাঘ লাফ দিল



অবশেষে বুদ্ধ এসে বসলেন
নদীতীরে শেষ তপস্যায়
বোধি লাভ হ’ল
সেই নদীর খাত জুড়ে এখন ধূ ধূ বালু



আধশোয়া লোকটির চোখের সামনে
গাছ থেকে
আপেল পড়ল
ইভের আপেলে কামড় বসাল আদম



আকাশ জুড়ে বর্ণালীর রেণু
মেঘের ফাঁকে
কাটা কাটা রোদ
শব্দরা আকাশের দিকে উড়াল দিল



ধীরে বয়ে চলেছে বাতাস
পৃথিবী মধুময়
ঘুঘুরা ডেকে চলেছে
অশোকের হাতে নিহত হ’ল তার নয় ভাই



চরাচর জুড়ে কাল-ধীবরের জাল
প্রেম স্বপ্ন আলোর গান
লোভ রক্ত যুদ্ধ
মায়াডোর খুলতে খুলতে মানুষ চলেছে



তিন-চার দিন একটানা বৃষ্টির পর
রোদ উঠল
সব গাছ ঝলমলে সবুজ
হৃদয় খুঁড়ে কে আজ বসন্তবৈরী পাখিটিকে জাগালো



সেতার বাজিয়ে চলেছেন রবিশঙ্কর
রাগ চলেছে অনুরাগে
স্মৃতির অতল থেকে
কালো টেলিফোন উঠে এলো


সোহাগে-আশ্লেষে বদ্ধ ক্রৌঞ্চমিথুন
শিকারীর তীর বিদ্ধ করলো হৃদয়
শোক থেকে হ’ল শ্লোক
প্রমিথিয়ুস স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে আনল


১০
পরকীয়া নয়
পরের দোয়াতে রাখা নিজের কলম
পরকীয়া মানে
বিনা শর্তে মন সমর্পন


১১
ভালোবাসা কী’র উত্তরে
তুমি দু’হাতে তুলে ধরলে
আকাশ ভরা গোলাপ
বাতাস লেগে মনটা শান্ত হ’ল


১২
তোমার কাছে পৌঁছাতে গিয়ে দেখি
রাস্তা জুড়ে আগুন জ্বলা জল
ডুব সাঁতারে পেরোতে গিয়ে পথ
দেখি সরোজিনী শুয়ে আছে জলের ভিতর


১৩
কুরুক্ষেত্রে ঘোড়া ছোটালেন সেনাপতি
খুলে গেল নরকের দ্বার
ক্লান্ত শ্রান্ত ঘোড়ার পদক্ষেপে
সমুখে বিছানো শান্তির পারাবার


১৪
মাঝপদ্মায় ঝড় উঠল
পানিতে বাতাসে পাকিয়ে উঠল চরাচর
দুয়ারে ভীষণ আঘাত বারংবার
দাঁড়িয়ে কি তুমি প্রাজ্ঞ জ্যোতির্ময়


১৫
গোল থালার মতো চাঁদ উঠল
গুঁড়ি মেরে এগিয়ে চললো আততায়ী
স্নাইপার থেকে ছুটে গেল তীক্ষ্ণ শিস
শিশিরে ভেজা স্বপ্নের কোলাহল