কবিতাগুচ্ছ

রিকি দাশ



আঁচড়
যতটুক যাওয়া যায় নিরবধি,দু-পায়ে যাচ্ছে গগন জলকল্লোল ঝুমঝুম।বুকে মেঘের আঁচড়,এমন!

গপাগপ তুলে নিলে,কিছুই দিলেনা ছেড়ে।পড়ে আছে কেবল জমানো ঝোপের স্তুপ,সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে এমন জীর্ণ হৃদয় নিংড়ে জ্বলে উঠে আঙুরলতা;বেয়ে চলে গভীর নদী।শীতল স্রোত কেটে নিয়ে যায় কাঠবাদামের আগুন।ফুলকি উঠে চলে যায় শ্রাবণের উদোম খোলা চুলে।চোখ-দুটো কেবল জেগে!

বুকে মেঘের আঁচড় এমন....!



খোলসের খনন
ইচ্ছে হয়,
সব দৃশ্য ফ্রেম করে রাখি।
কিশোরী ভোঁর,
পাঁপরের মতন মচমচে দুপুর,
ধোঁয়া ধোঁয়া নীল সন্ধ্যা।


কাঞ্চনজঙ্গার আকাশ,
আমার নীলনদ,
অস্পৃশ্য আয়নিক বন্ধন।
জানালার শ্রাবণ,
বিমূর্ত যত নেশা,
ফ্লেক্সিব্যাল ইমোশান।

লিখে রাখি,
আমাদের মাধ্যাকর্ষণ দুরত্ব!


ঘুমন্ত জন্ম
রগচটা আকাশে ক্লান্তি বুনতে বুনতে
ভেসে বেড়াচ্ছি নীলাভ জামক্ষেতে,
ছিড়ে নিচ্ছি টসটসে রং।
মেখে নিচ্ছি সমস্ত নিস্তব্ধ সমুদ্রে
চোখে-মুখে,পা থেকে মাথা অবধি,
ধোঁয়া ধোঁয়া বিস্ময়ের নিঃশ্বাসে।


রঙিন হলে মনে পড়ে পুরানো রৌদ
সরিষা দানার কাঁচারঙ ইতিহাস,
শাদা-সবুজের বুনো গন্ধ।
একের পর এক শ্রাবণ আসে
নিয়ে যায় সব বর্ণ নিজস্ব লতাগুল্ম,
রসালো সমুহ শীতের সুবাস।


ভুলে যাই নিম দুপুরের পদচিহ্ন
নতুন ব্লেডে সরু করে কেটে ফেলি,
তুলসীগাছের নিঃসঙ্গতা।
বৃষ্টির শব্দ সেলাই করতে করতে,
ভেসে বেড়াচ্ছি নীলাভ জামক্ষেতে,
ছিড়ে নিচ্ছি টসটসে রং।


জলপ্রপাতের গভীর মেঘারণ্যে
মেখে নিই সামনের গভীর দু-হাতে
হেঁটে যাই মাটির সোঁধা গন্ধে।