তিনটি কবিতা

সুবর্ণা গোস্বামী

বোবার ডায়েরি -১
মদের গ্লাস শেষ হয়েছে নিকোলাস। চল শুই একে অন্যের শরীরে । চল শুই পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষকে একা রেখে।
অথচ ঘুম আসবেনা।
এখন ঘুম বলতে আমরা বুঝি একটা চেরি গাছ আর শতশত বিপন্ন চেরি কেউ যাদের তুলে নিচ্ছে না।
এখন ঘুম মানে দোলনার অপূর্ব দুলুনি যেখানে রোপিত আছে অন্যজন্মের স্মৃতি।
নিকোলাস, চলো শুয়ে শুয়ে হাঁটি বিচ্ছেদ ও বিহঙ্গের ভেতরে। আমাদের চোখ চিৎকার করবে কাঁদার জন্য আমরা ঠোঁটে ফুটিয়ে রাখবো হাস্নাহেনার হাসি।
ঠিক এই নামে পাশের বাড়িতে যে থাকে তার কাছে আমি যাই অসৎ মৃত্যু নিয়ে। মৃত্যুর নিখুঁত অভিনয় করে আমি ফিরে এসে শুয়ে পড়ি বেঁচে থাকার ভেতর।
তুমিও হয়ত -
হয়ত সবাই-


বোবার ডায়েরি -২
মন শান্ত। কিছুটা সরোবরের মত। যার যাত্রা শুরু তো হয়েছিল, কিন্তু শেষের আগেই দেয়ালগুলো থামিয়ে দিল। নিকোলাস, আমাদের কেটে ফেলা মাথাগুলি কোথায় রেখেছ? বাগানে রোপণ করতে পারো কিংবা সবচেয়ে ভালো হয় তাদেরকে যদি কথা বলা পাখির মত খাঁচায় রাখা যায় বিনোদনের জন্য। নাড়াবে ঠোঁট গল্পের সাথে। উন্মাদ রাজা হাসতে হাসতে খুলে নেবে মুখোশ থেকে নিজের মুখ। ঠিক তখনই আমরা শিখে নেব ঠোঁটের সর্বোত্তম ব্যবহার অদ্ভুত চুম্বনে।
পরিকল্পনা করো, পালিয়ে যাওয়া ও ধরা পড়বার মাঝখানে কিভাবে তুমি লাঙ্গলে শান্ত করবে মাটি, কীভাবে মন্থনে, রোপণে জন্ম দেবে বৃক্ষ আমার গোপন গাঙে। নিকোলাস, পাখিদের মৃতদেহে ঢেকে আছে সবুজের কত্থক।তুমি ডাকবে বলে সহস্র অধীনতা জুড়ে অপেক্ষায় আছি।

বোবার ডায়েরি- ৩
পেঁচা এক রাত্রিখেকো আর আমি খাই ঘুম। আমাদের সখ‍্য হলো।নিকোলাস, মৃত শিশুটির নাম কী রেখেছ?
তূনীরে শুয়েছিল কোমল শিশির তবু তীরে বিঁধিয়েছ চোখ!
ঝনঝন বেজে উঠেছে ধ্রুপদ মুদ্রা রক্তের ভেতর
হাহা স্বরে হেসেছে হাহাকার-
তবু জেগে আছি। আহা সূর্যমুখী!
তোমার আলোতে তবু খুন হয়ে যেতে রাজি।
একটিমাত্র স্মৃতির জন‍্য যদি যেতে বিস্মৃতির শহরে,আমি যাবো।অতএব,দেয়ালের নকল বাগান মুছে নাও ইরেজারে
নিকোলাস, মৃত শিশুটিকে আঁকো।