আবিষ্কার

রঙ্গন রায়


- স্যার , একটা কথা ছিল।
- বলো।
- স্যার , বলছি যে আমার থিসিস টা কি পড়েছেন?
- হ্যাঁ।
- কিছু জানালেন না যে!
- কী জানাবো?
- মানে কী মনে হলো আপনার - মানে -
- যেটা মনে হয়েছে সেটাই বলবো ?
- একদম স্যার। আমি ভীষণ এক্সাইটেড , এটা স্যার লজিক্যলি সবার কাছে পৌঁছলে হৈচৈ লেগে যেতে পারে। আফটার অল ঈশ্বর নিয়ে সব রহস্যের একটা খোলশা হবে।
- পিটু , তুমি একজন ভালো টেকনিশিয়ান কে দেখাও। ।
- মানে?
- তুমিই তো বললে যা মনে হয়েছে তা জানাতে। তোমার মাথার নাট বল্টু ঢিলে হয়েছে।
- কিন্তু স্যার আমি ভুলটা কোথায় করেছি?
- এসব আজগুবি থিসিস দিয়ে তুমি গবেষক দের নাম ডোবাচ্ছো পিটু। বিফোরের থিসিস টা দেখো। থান্ডার স্ট্রোম কে ধরে রাখার একটা উপায়। এরকম কিছু ইনভেন্টে মন দাও , তাহলে আমাদের রো ১ সভ্যতার সত্যি সত্যি উপকার হবে।
- স্যার আমি তো বলছি আমাদের সৃষ্টিকর্তাদের সম্পর্কে গোটা গ্রহ উৎসুক। আপনি স্যার জানতে চাইবেন না আমরা কোত্থেকে এলাম?
- অবশ্যই জানতে চাই। এই কৌতুহল সক্কলের রয়েছে। কিন্তু তুমি তো গাঁজার কল্কে নিয়ে হাজির হয়েছো হে।
- স্যার নিটারসন যখন প্রথম আমাদের এনার্জি সোর্স যে ইলেকট্রিকই এটা আবিষ্কার করে তখন কিন্তু সবাই সেটাকে গাঁজার কল্কেই বলেছিল।
- তুমি কি নিজেকে বিজ্ঞানী নিটারসন এর সমান ভাবো নাকি হ্যাঁ? সেদিনের ছোকরা। অতবড় বিজ্ঞানীর সাথে নিজেকে তুলনা করছো?
- স্যার আমি কি এর জন্য লজ্জা পাবো?
- "লজ্জা!" সেটা আবার কী?
- স্যার রিসার্চ করে এটাও পেয়েছি যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরদের 'লজ্জা' নামক ফিলিংস টা ছিল।
- জানি। প্রাচীন গ্রন্থে সব অর্বাচীনের দল লিখেছে যে ঈশ্বর নাকি পোশাক খুলতোনা। লজ্জা না কি সব পেত! যত্তসব বোগাস।
- ওরা আসলে ঈশ্বর নয় স্যার। ভীনগ্রহী। এলিয়েন। বলছি তো ওরা আমাদের তৈরি করে গেছে। নাহলে প্রাচীন রো ১ রা ওরকম জিনিস বইয়ে লিখলো কেন? আমরা যা দেখি তাইই লিখি। ঈশ্বর দের নাকি কল্পনা করার ক্ষমতা ছিল। আমাদের তো আর নেই! তাহলে যা নেই তা লিখলো কেন?
- হ্যাঁ এখন আমাকে এটাও শুনতে হবে যে ঈশ্বর আসলে এলিয়েন।
- আপনি বিশ্বাস করছেন না?
- শোনো হে ছোকরা , আমি হচ্ছি বিজ্ঞানী। ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটা ইললজিকাল। আমাদের কেউ সৃষ্টি করেনি। আমরা প্রকৃতির দ্বারা সৃষ্ট।
- স্যার যে প্রমান গুলো আমি থিসিসে দেখিয়েছি ওগুলোও ইললজিক্যাল? আমার সব কটা রিসার্চই তো স্যার প্রমান ও ছবি সহ।
- তাতে কিছুই প্রমানিত হয়না।
- স্যার অ্যাটিনা পাহাড়ের কাছে আকাশযান দেখতে পাওয়া নিয়ে চারিদিকে যে লেখালেখি হচ্ছে , এত এত মহা রো , ধর্ম রো রা যে ঈশ্বরের সাথে তাদের যোগাযোগের কথা বলেন সব ভুল? এত এত রো সকলেই গাম্বাট?
- দেখো পিটু , এটা বিজ্ঞানের যুগ , চারিদিকে এত অশিক্ষিত ধর্ম রো এ দেশটা ভরে যাওয়াতেই তোমার বিজ্ঞানী সত্ত্বাটা নষ্ট হতে বসেছে।
- কিন্তু স্যার এই প্রমান টাকে কী বলবেন?
- কোনটা?
- এই ছবিটা।
- এরা কারা?
- দেখুন ভালো করে। যেখানে আকাশযানটিকে সবাই দেখেছিল সেখানেই এই ঈশ্বরের দল কে ঘুরতে দেখা গেছে। ওই গ্রামে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। আজ সকালেই ওদের দেখা গেছে। আমি ইন্টারনেটে ছবিটা পেয়েছি।
- হুম। এতো একদম ঈশ্বরের মতই দেখতে। গায়ের রঙ সাদা মাথায় কালো কালো চুল। চোখে ওটা কী যেন বলে?
- চশমা স্যার।
- কেন পরে ওটা।
- স্যার ঈশ্বরেরা বেশি বই পড়লে নাকি তাদের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
- এই তোমাদের ঈশ্বর!!! যার নিজের চোখই ভালো নেই!!! আমাদের দেখো এসব খারাপ ভালোর কোনো ব্যাপারই নেই। আর ঈশ্বর নাকি আমাদের সৃষ্টি করেছে! দেখো এগুলো কেউ ফ্যান্সী ড্রেস পরে রো দের কে ভরকে দিতে চাইছে। সদ্য সদ্য আকাশযানের গুজবটা ছড়িয়েছে তো!
- স্যার ওই ঈশ্বরের সাথে আমাদের ধর্ম মহারো দায়ুস থ্রী এর যোগাযোগ হয়েছে। আমাদের প্রাচীন ভাষা মানে দেবনগরী ভাষা যাকে বলে আর কি , সেই ভাষায় ওরা কীসব যেন বলছিলেন। দায়ুস থ্রী জানিয়েছেন ওরা বলছিল , "পুরানো সেই দিনের কথা , ভুলবি কি রে , হায় ও সেই ..."