তিনটি কবিতা

সুদীপ্ত মাজি

অসমাপ্ত গানের খাতা : ৪২
গান নয়, পাহাড়ি অর্কিড ।
ঝুঁকে আছে হৃদয়ের নির্জন টিলায়...

মেঘ-কুয়াশার দেশে রহস্য সচরাচর
অফুরান হয়ে থাকে বলে
পাকদণ্ডী বেয়ে বেয়ে উঠে আসা পথিকের
নির্জন ঝোলায়
রক্তকরবীর মতো মাঝেমধ্যে উদ্ভাসিত হয় !

ইচ্ছুক শ্রোতার কানে সেই মূর্চ্ছনার শব্দ
সহজে পৌঁছোয়...

জলতরঙ্গের মধ্যে জেগে ওঠা ভোরবেলা হয়ে
মাথা তোলে রঙিন অর্কিড ।

রঙেরও যে সুর আছে , ঈড়া-পিঙ্গলার মধ্যে
জেগে ওঠা ধ্বনির ভুবনে
সেই সত্য জাগরিত হয়...

অর্কিডের আলো থেকে মাথা তোলে
অজ্ঞাত, অপরিমেয়
গানমাখা নতুন উদ্ভিদ !


অসমাপ্ত গানের খাতা :৪৩
অগমলোকের রাস্তা পিচ নয়, কুয়াশায় ঢাকা...

বার্চ, স্প্রুস, দেবদারু, ফার
অজানা গুল্মের কত বিচিত্র পাতাবাহার —
ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দেখেছি !

এই রহস্যের রাস্তা পূর্ণিমারাতের
কণিকা বন্দ্যোর মতো, কিন্নরী দাঁড়িয়ে থাকা
রহস্যরোমাঞ্চে ভরা কুহকে জড়ানো

অবিরাম কাছে ডাকে, কাছে টেনে নেয়...

তারপর
সুরের সমগ্র দিয়ে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করে !

সুরে খেয়ে নেওয়া দেহ আজীবন
সমুদ্রের নানা তীরে
ভবা পাগলা হয়ে ঘুরে মরে !


অসমাপ্ত গানের খাতা : ৪৪
গানের তুফান থেমে গেলে
শামিয়ানা জুড়ে সারারাত
অসংখ্য শবদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে !

যতক্ষণ না পরবর্তী পূর্ণিমা এসে
নর্তকীর মতো ফের
সুরাপাত্র ভরে ভরে দেয়...

অজ্ঞাত গায়িকা এসে আগামী ভোরের সুর
কানে ঢেলে যায়...

বিষ থেকে বিশল্যকরণী — নির্ধারিত এই রুটে
যতক্ষণ না গন্ধমাদনের দিকে
যাত্রা শুরু করে সেই বাস —

মৃতদেহ আগলে থাকে ঊর্বশীর দল !