উৎসব

আসমা চৌধুরী

১.
বাবা বোনাস পেলে হাসিভরা চাঁদ খুলে দিতো ডানা
মায়ের হাত নাড়ু বানাতে গিয়ে লাল হয়ে উঠতো
ভাই-বোন চুমু খাওয়ার পর সেই হাত উপুর হতো বাসনে।

ছুটোছুটি করে মাপ-ঝোপ করা নতুন পোশাক
কী সুন্দর গন্ধভরা পূজোর বাতাস ।

২.
গল্প খুলে যায়,বাড়ি ফেরা স্মৃতির শহর
ঘুম ভাগ হয়ে শৈশব খেলা করে
সবুজ আশ্বিন শিশিরের জলে
মন ভরা তারার আঁচল।

সব তারা সাঁকোয় ওঠে না
স্নান করে ঘুমিয়ে পড়ে সন্ধ্যারাত
মাতাল হাওয়া কারে বলে গোপন চিঠির ঘ্রাণ
টিনের চালের ফুটো গলিয়ে কষ্ট নামে জ্যোৎস্নায়
একজোড়া চোখের ইশারা।ঢাক,বাঁশি
রাধার মতন কেউ কান বন্ধ করে,পাহারায় পদাবলী
দূর থেকে এসেছে পূর্বপুরুষের বাড়ি
ট্রেন চলে গেলে বাকি রাত ভেজা বালিশে।

স্টেশন ছেড়ে যায় বাবার বদলি চাকরি
মনে থেকে যায় ইছাকাঠি গ্রাম।

৩.
ঠেস দিয়ে বসে যায় সংসার
মাটির উনুনে শুকনো আমডাল
ভাত ফুটছে।
দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়ে লুঙ্গি-গামছা
বাবা বসে আছেন খাবেন।
ভাত ফুটছে।
এই ছবিটা সাদা হয় না।

ভাত ফুটছে।
মা জানেন এর ইতিহাস।