শোয়ানো রয়েছে ক্রাচ

সৌমনা দাশগুপ্ত


বাতিল একটি এলইডি টিউবলাইট
জংধরা রক্তের শিরস্ত্রাণ, দোফসলি মাথা
আলমারির ভেতর লাফিয়ে উঠল অন্ধকার

এসময়ে খুব গান পায়, জলতেষ্টা বেড়ে যায়
আর ফ্রিজের ভেতর থেকে ডেকে ওঠে
দেশি মোরগ

এখন কি ভোর হচ্ছে, এখন কি এক ফর্মা
দু ফর্মা করে খুলে যাচ্ছে রাত

মোনোক্রমে রং চাপাতে চাপাতে ডুবে যাচ্ছে
কথা

রে রে করে তেড়ে আসছে একটি গান
রে রে করে তেড়ে আসছে ফুটন্ত চাঁদ
পূর্ণিমা তিথির রাত। মেঘে মেঘে ছবি

মেঘের ভেতরে আমি দেখি এক হাঁস
হাঁসের নাভির থেকে উড়ে যাচ্ছে রক্তাক্ত বেলুন

স্বেচ্ছাচারী ডুমোমাছি। ওই আসে ওই আসে
চারটি দেয়াল এসে ঘিরে ধরে
দেয়ালে গানের ছবি, দেয়ালে ধোঁয়ার ছবি

গল্পের বুকে-পিঠে কিছু থুতু কিছু আঠা লেগে আছে


শোয়ানো রয়েছে ক্রাচ, চেয়ারটি আনমনা
গান হেঁটে চলে গেল ঝিঁঝিঁর জঙ্গলে

স্তরে স্তরে দুপুর লিখছে ঘুঘুপাখি
দোলনায় ঘুম রাখা আছে – অস্তমিত

মাথার ভেতরে নয়, মাথার ওপর দিয়ে
উড়ে যাচ্ছে বৃষ্টিভেজা বুটজুতো

আমি কি ফিতে বাঁধব আমি কি
তরাইয়ের গাছে গাছে মেলে দেব

চালচুলোহীন এককাঠের নৌকো
মরাইঘরের থেকে শুধু চুল ওড়ে


আমিও তাকিয়ে আছি জলের দিকে
মাছও তাকিয়ে আছে জলের দিকে
শ্যাওলামাখানো দিন ভেসে যায়
গানটি আমার

চুপচাপ গান শোনে পুঁটিমাছ
ঈষৎ সোনালি আঁশ, রূপসী মাছটি
হাসে, ঠোঁট টিপে হাসে। আমি বলি
চুপ। এভাবে হাসে না; তবু মাছ খলখল হাসে

হারমোনিয়াম থেকে খুলে যায় শাদা কালো রিড


ফসল সভ্যতার দিন যন্ত্র সভ্যতার দিন

গাধা ও খচ্চরে কোলাকুলি। হাতে হাত
গাছেদের বিচারসভায় মহামতি জজ
বলে উঠলেন, এবার আগুন হোক

কান্না থেকে বেজে উঠুক আদিরতি, ঋতুচিৎকার

ঝলসানো গান থেকে হাকিনি ডাকিনি
ওরা সব বসে আছে আগুনের চারপাশে

সেদিন এপাড়া জুড়ে কী নাচ কী নাচ

প্রাকৃত রৌদ্রের মুখে চুষিকাঠি ভরে দিয়ে
দে দোল দে দোল, আয় ঘুম ঘুম আয়

রুজ আর লিপস্টিকে চাপা পড়ে গেছে তার মুখ