চতুর দশপদী

উমাপদ কর

২১
শেফালী গাছের বাড়ি ব্যালকনি থেকে
দ্যাখা গেলে দু-চারটে পাখিপালকের
ঘ্রাণ বাতাসে বাতাসে আপনার স্নান
পর্বের সমাধা করে দিতে পারে। নেয়ে
আপনি তখন নীলাকাশে কুচি মেঘ।

নিজেকে তুলনা করুন গাছের সঙ্গে।
আপনি নদীর কাছে নিজে যান, গাছ
নদী ডেকে আনে। ফুলেরা দেয়ালা সারে,
আপনি তখন গুটি সুতোর ভেতরে।
কাছেই তো, ঘুরে আসি ও-বাড়ি, চলুন—
২০-০৭-২০২০।

২২
শার্টের পকেটে দেমাকি বেরিয়ে ফুল,
গোলাপ হলে-তো দিলখুশ উড়ুউড়ু।
কোথায় যাবেন কোন দেশ কোন বিশ্ব
ভেবে ভেবে তিলমাত্র মাটি খুঁজে নিন।

জাদুকর মাটি নিয়ে সেই থেকে খেলা,
আঙুলের ফাঁক থেকে জিভে, সরাসরি
আপনার বুক পকেটের ফুল কবুতর,
সেখানে মাটির নতমুখ, ভেজা চোখ।

খেলা চলতেও পারে, মাটির চোখটা
যতক্ষণ-না পাথর করে জাদুদণ্ড!
২১-০৭-২০

২৩
কত আর ফেলে দেবে ফুটনোটে শুধু?
ছিলাম না, নেই, থাকব না, যায় আসে?

আনকোড়া জামা পরে কুনজুম-পাস
পেরিয়েছি। লাচুংয়ে জিরো-পয়েন্টে পা
রেখে শরীর গরম রাখতে অচেনা
মহিলা সম্বল। কন্যাকুমারির রকে
হুইস্কি পানের ইচ্ছে ছিল, না-মেটার।
চিলাপাতার জঙ্গলে মলিন মশারি।

এরা কেউ ফুটনোটে রাখেনি কখনো,
না-থাকলে রাখা কেন, গাদা ফুটনোটে?
২২-০৭-২০২০।

২৪
সময় ধারণা মাত্র, সাবানের ক্ষয়
আমাদের ছোটু জানে, জানে ‘কালা হিট’
আরশোলা মারে আর শেষ হয় কৌটো।

হাতপাখা থেকে আঁকা প্রজাপতি মুছে
যায়, ঠাকুরমা দেখে যাননি অবশ্য।

তরুদি কী সুন্দরই না ছিল, এখন
বেডসোরের গন্ধটা হিমানি-সুবাস
ছাড়িয়ে শ্মশানমুখী। হেমন্ত প্রয়াত।

সেকেন্ডের-কাঁটা মাপকের সূক্ষ এক,
ছোটুর তালের সঙ্গে চলেন, এই-যা!
২৩-০৭-২০২০