কবিতাগুচ্ছ

নাহিদ ধ্রুব

অল্টারনেটিভ


জীবন লিখতে গিয়ে বারবার ভুল করি
অসংখ্য কাটাকুটি, ভুল বানান —
পাতার পর পাতা ফেলে দেই বিনে।

আবার শুরু করি প্রথম থেকে
অর্ধেক লেখার পর হয়তো ক্লান্তি আসে ;

ঘুমে চোখের পাতা লেগে যায় —
এদিকে ঘড়ি টিকটিক করে জগত জুড়ে,
সময় চলে যায়..

তখন মনে হয় বরং দুঃখ লিখি —
দুঃখ লিখতে গিয়ে দেখি কলমে কালি নাই..

বহিরাগত


আমাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ফেলে গেছে আমাদের দেহ। আমরা পরগাছার মতো তবু কোন এক প্রাচীন বৃক্ষ জড়ায়ে ধরেছি..

আমাদের কবরে মাটি নাই
আমাদের আপনতম পাখি নাই জগতে
যে ঘাস আমাদের বুকের মাঝে
কে যেন তাও কেটে নিয়ে গেছে;

আমাদের বলা হয়েছিল সমুদ্র থেকে তুলে আনতে পাহাড়ি ফুল। আমাদের আত্মায় ছিল শুকায়ে যাওয়া ঝরাপাতাদের ঘ্রাণ। বছরের পর বছর আমরা হেঁটেছি মর্গ থেকে মর্গে — যেন মৃত্যু'ই প্রকৃত পর্যটকের নাম..

পৃথিবীতে থেকে আমরা খুঁজছিলাম
পৃথিবীর কোন চিহ্ন —
কোলাহলের মাহফিলে আমরা
নীরব আগন্তুক
বহিরাগত জন্তুর মতো জগতে ছিলাম..

মৃতদের কথা


তুমি প্রার্থনায় আসো উদাস পবন
এ জগত বলে আমি হারায়েছি মন

তুমি পাতালের কাছে বসে পাও দেখা
আমি মানুষের মাঝে আমি বড় একা

তুমি আগুনের কাছে পাশে কেউ নাই
আমি পুড়ছি শ্মশানে আমি শুধু ছাই

তোমার অনেক কিছু জেনে গেছি আমি
আমার অংশ কিছু হাত পেতে আনি

তুমি বড় হতে পারো তুমি এক গাছ
আমি ক্ষুদ্র হয়ে বাঁচি মিটিমিটি রাত

জগতে আহুতি কিছু তুমি মুক্ত করো
এই তরলতা পেয়ে আমি মরি কেন?

তুমি আয়নার মতো তুমি নীরবতা —
তোমারে জেনেছি আমি মৃতদের কথা!