কবিতাগুচ্ছ

কৌশিক দত্ত

আড়াল


সামান্য অন্ধকার পড়ে আছে ঘরের কোণায়,
অবশিষ্ট ওটুকু আশ্রয়।
বাকি সব ক্ষয়ে গেছে যাপনের তীব্র আলোকে,
কোথায় লুকাবো মুখ? নিজে হাতে মুছেছি আড়াল।


লুপ্তি


আত্মা নেই
সম্পৃক্ত নই কারো সাথে,
রেখে যাব, দিয়ে যাব, এমন সঞ্চয় কিছু নেই।
কখনো পারিনি বেঁধে দিতে কোনো বাবুইয়ের বাসা...
সৃষ্টি নেই, দুই হাত যেন শুধু নিতেই শিখেছে!
বুক নেই, কেবলি উদর।


ছুঁতে না পারার গ্লানি সন্ধ্যা সেজে দিনকে ঢেকেছে,
আগামী পতঝর এলে ঝরে যাওয়া প্রাকৃতিক হবে।


আ রুম অভ হার ওন


স্বপ্নটা আজকাল দেখি আমিও বারবার। হয়েছে
তোমার ঘর… নিজের, সুন্দর। তোমার একান্ত ঘর…
অনুপ্রবেশমুক্ত, নির্মেদ, দাবিদাওয়াহীন।
আমার জিনিসপত্র অগোছালো পড়ে নেই তার কোল জুড়ে,
স্থানের কার্পণ্য নেই, সময় স্বাধীন। ঘর জুড়ে পনেরো অগাস্ট।
তোমার নিজস্ব ভূমি ক্লিষ্ট করিনি আমি উপস্থিতি আগাছার জালে…

প্রশ্ন নেই, কাঁটা নেই, মেলোড্রামা পর্দা ফেলে শেষ।
গোল্ড ফ্লেক ঠোঁটে চেপে তুমি ভাবছ,
তুমি লিখছ, তুমি পড়ছ যা কিছু জানার।
দেওয়ালের কান নেই, ভাতের গরম গন্ধে অল্প অপমান
মিশে নেই… পেয়ে গেছ স্বপ্ন পরিসর।


তোমার আলমারি তাকে পুরনো ঘ্রানের মতো থেকে যাব
লোভ ছিল, সেও আত্মরতি… কেবল নিজেকে ছাড়া আর
কিছু চিনিনি কখনও, তাই। ওমের চাদর হয়ে
শীতরাতে জড়িয়ে রাখতে হবে তোমাকে ভাবতাম। অহংকার!
শুধুমাত্র সরে গিয়ে মানুষ করতে পারে জীবনের একমাত্র কাজ,
সেকথা মানুষ জানে, পৌরুষ জানে না।