তিনটি সনেট

কাজী নাসির মামুন


খুকিদের পাশের বাসায় বাতাসের সিটে বসে
খবর দিয়েছে মুখ চালাচালি অনেক মৃতের।
প্রাইভেট প্রেকটিসে বেলা গেলো কত ডাক্তারের;
রেলের স্লিপার যেন লাশগুলো, গতির রম্বসে
মানবতা জ্যামিতি শেখায় বুকে চাকা ঘষে ঘষে।
রোগের অনতিদূরে হাহুতাশ, রুগীরাই ফের
শরীর জড়িয়ে থাকে মৃতপ্রায় হাসপাতালের;
স্টোর রুমে ঔষধ এখনো গিলে উদ্বায়ু রাক্ষসে।

ইমার্জেন্সি খোলা রেখে জেগে থাকে সারি সারি রাত;
জীবন এখানে নয় সাদা সাদা নার্সের এপ্রোন;
অন্ধকার ফাটাফাটি, গলাকাটা দেশের স্বজাত;
ডেটল গন্ধের পাশে তোমাকেই ডেকে আনি বোন।
ওয়ার্ডের নানান ব্যাসে ফ্লোরে শোয়া ব্যাধির সার্কেল;
ক্ষমতাও ন্যাড়া মাথা, প্রেম এসে তেল মারে, তেল।



ন্যাড়াদের বেলতলে অবারিত মানুষ ঘুমায়।
বেল তবু ভালো নয়; জীবনের চালচুলোহীন
নিজের মাথায় বারবার পড়ে; তবু কত দিন
ঘুমাবার অনেক আগেই স্বপ্ন নদী হয়ে যায়।
রোদের বোরখা পড়ে কলেজের ফলিত শিক্ষায়
সূর্যের নিকটে গিয়ে আলো নেবে, এমন রঙিন
ভাবনা গড়িয়ে গেলে মেয়েটির মোহপাখি ঋণ
বয়ে আনে; প্রাইভেট টিউশনি দু'হাত বাড়ায়।

শত শত ফুটো করে গরিবের টিনের চালেও
কোচিং সেন্টারে উবু হয়ে শিক্ষা যেভাবে নাড়াও
পণ্যের প্রগতি ভেবে হেঁটে আসি, তুমি আমাকেও
প্রাইভেটে ডেকে নিয়ে হৃদয়ের কত প্রেম দাও!
প্রেমের অনতিদূরে মরা জলে নদীটির নাম
প্রেম নয়, জেগে আছে মেয়েটির বুকভরা গ্রাম।



নদী নেই। মাছের খামারে ভরা গ্রাম তুলতুলে
জলের বালিশ; তাতে মাথা রেখে সোহাগির লাশ
আমিষ গন্ধের বন্যাকরি বিলে নিজের সুবাস
ছড়িয়েছে। গিয়াস মেম্বার আর তার ছেলেপুলে
ক্ষমতার ডিঙি নিয়ে সমবেত ইথারের কূলে।
বাতাসে চাবুক মেরে জনতাও বায়বীয় ত্রাস;
হৃদয়ে ক্যাবল টিভি, নাচে গানে করে বসবাস।
সোহাগির পেট বড়; কে ছিলো ভ্রমর ফুলে ফুলে?

ফুলের ওপারে কত গাছেদের মরা দুনিয়ায়
পল্লী বিদ্যুতের ক্ষীণকায় তারে আলোর মেশিন;
চাঁদের নিচেই তবু অতিশয় ভালো দেখা যায়;
গিয়াস মেম্বার যেন সোহাগির পেট ভরা দিন।
তোমার ইউনিয়নে প্রেমরস মাটিতে গড়ায়;
অন্ধকারে সূর্য এঁকে পরিষদ চেটে চেটে খায়।