একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুদির গড়

সঞ্জয় সাহা

যখন আমি একলা থাকি /তখন কী আর একলা থাকি... সত্যিই তো থাকিনা, সঙ্গে থাকে আমার ফেলে আসা যাপিত জীবন lশৈশব, কৈশোর, তারুণ্য l শৈশবের খেয়াল, কৈশোরের দস্যিপনা, আর তারুণ্যের হ্রেষা l থাকে ময়ূরপুচ্ছ বিকেল, বাঘের গর্জন, নদীর স্রোত l আবার কখনোবা পাহাড়ের গাম্ভীর্য l মরুভূমির বালি এসে ফাঁকফোকর দিয়ে যে ঢোকে না, তাও তো নয় lশুধু কি পুরনো দিন, ফুরনো দিন ! থাকে নাকি অনাগত ! থাকে নাকি 'ব্যাক টু ফিউচার' - এর মতো কোনো প্রকল্প ! সব থাকে l থাকে এবং একমাত্র এখানেই পরকীয়া স্বকীয়া নির্লজ্জের মতো হাত ধরাধরি করে থাকে l সবার অজান্তে মিলে যায় সিপিএম কংগ্রেস তৃণমূল বিজেপি l নিজেকে নিয়ে জানতে চাওয়ার শুরু ও শেষ তো এই একাকীত্ব l একাকিত্ব এক ধরনের আয়না, বাথরুমের লার্জ সাইজ আয়না l যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমি খুলতে থাকি আমার অর্জিত আলখাল্লা, আমার ছৌ মুখোশ, আমার অন্তর্বাস আমার নকল দাড়ি গোঁফ l যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমি ভাবি দিনের কোন মুহূর্তে আমি লাল কে লাল আর নীল কে নিল বলে ভেবেছি lএকাকীত্ব আমাকে রং শেখায় ক্রমাগত লাল নীল সবুজ হলুদ l একটা বিচিত্র ভিবজিওর এর সামনে দাঁড় করায়, হয়তো বা আরো কিছু রঙ যা এখনো মানব সভ্যতায় আবিষ্কৃত হয়নি l শুধু কি রং, আকৃতিও তো শেখায়- বৃত্তাকার, বর্গাকার, আয়তাকার, ষড়ভূজ, পঞ্চভুজ বা এন সংখ্যক বাহুবিশিষ্ট কোনো জ্যামিতিক চিত্রাবলী বা ঘন জ্যামিতি l একাকীত্ব সেইসব অ্যামিবয়েড নেবুলাস চলন ও গমন আশ্রিত ভাবনাচিন্তার যুগপৎ সমাপতন এবং বেশিরভাগ সময়ই কার্যকারণহীন এবং উপসংহার হীন তো বটেই l যার মধ্যে,, হ্যাঁ, ঠিক যার মধ্যেই থিক থিক করে সৃষ্টির প্রোটোপ্লাজম, শিল্পের নিউক্লিওলাস l তুমি বলবে এ কবির বাণী নয়, আমি বলব এ সত্য, তাই এ কাব্য l

যেদিন পিতার ঔরস হয়ে ঢুকেছিলাম মাতৃ জরায়ুতে সেদিনও এই অমোঘ উচাটন স্রোতের মধ্যে অলঙ্ঘণীয় এক পারমাণবিক যুদ্ধ ছিল l হাউ টু এক্সেল আদার্স lলক্ষ-কোটি শুক্রাণুর ভেতর বেঁচে থাকলাম, সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট l.কেউ কি সাহায্য করেছিল এতোটুকু! আমার লক্ষ-কোটি সংখ্যাতীত সহোদর, সহোদরা ! কেউই না l সেই থেকেই তো যুদ্ধের শুরু, একার যুদ্ধ lএক বোবা যুদ্ধ l তারপর ঊষর গর্ভে একটু একটু করে আমার বেড়ে ওঠা, কোষ কলা প্রত্যঙ্গ হয়ে একদিন পরিপূর্ণ মানব শরীরে গোলাকার ও ঈষৎ চ্যাপ্টা সূর্যের এই তৃতীয় গ্রহে প্রসব বেদনায় নীল হয়ে যাওয়া মায়ের যোনি পথ বেয়ে আমার ল্যান্ডিংl এইসব আমি একাই করেছি, মায়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে lতারপর এসে দেখলাম, কেউ বাবা, কেউ কাকা কেউ পিসি কেউ ঠামা, কেউ দিদি l.মায়ের ভূমিকা ছিল ব্যাংকের পাস বই খোলার জন্য ইন্ট্রোডিউসারের lএকটা সম্পর্ক যেন একেকটা পাসবুক lসারাজীবন ধরে যাতে দেনা-পাওনার ক্রেডিট-ডেবিট এর হিসাব লেখা হবে l বিশ্বাস বা ধর্মবিশ্বাস বলে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে এই মানব জন্মl আর অবিশ্বাসীরা বলে --এই জন্ম একবারই, এক কার্যকারণ সূত্রে গ্রন্থিত, এর কোন পূর্বাপর নেই l আমি কোন শেষ কথা বলার জায়গায় নেই বা আমার নিজের বিশ্বাস আমার কাছেই স্পষ্ট নয় l আমি বরং আমার জীবন, জন্মানো, পরবর্তীকালে যাপনকে উপভোগ করে চলেছি প্রতিমুহূর্তে প্রতিপলে অনুপলে l জন্ম নিয়ে আমার কোনো ক্ষোভ নেই l নেই, কেননা আমার প্রত্যাশা নেই, আমার জন্য কেউ সাজিয়ে রাখবে কিছু lআমি ধরেই নিয়েছি আমি একা এবং সেভাবেই চলছি সাড়ে চার দশক l তাই কখনো মনে হয় না "জন্মের পাঁচ মিনিট আগেও যদি আমি জানতাম আমি জন্মাচ্ছি, তাহলে শালা আমি জন্মাতামই না l" বরং আমি খুব কম বয়সে জেনে গেছি" আমি রবীন্দ্রনাথ নই, আমি রঘু ডাকাত নই l" আমি যৌনতা ঘেরা এক বিষাদপুরুষ, কিছুটা লম্পট ও বটে l ইন্ডিয়ান পেনাল কোড সবটা জানে না l.

আর জন্মের পর যখন নির্জ্ঞান স্তর থেকে সজ্ঞান স্তরের দিকে যাচ্ছি তখন কবে কোথায় কখন প্রথম একা হয়ে ছিলাম মনে নেই সেই ক্ষণ অনুক্ষণ সাল কিংবা তারিখ l তবে মনে আছে মা যেদিন প্রথম স্কুলে ভর্তি করেছিল শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ প্রাথমিক বিদ্যালযয়ে, মৌখিক প্রশ্নোত্তর পর্বের পর যখন আমাকে ক্লাসে বসতে বলা হলো সেই দিনই বোধহয় প্রথম একা হলাম lপরে শুনেছি নাক থেকে বের হচ্ছিল ক্রমাগত লাভা l যখন যাচ্ছিলাম সেই ভয় ও উৎকণ্ঠা জর্জরিত মুহূর্তটাকে প্রথম একাকী মুহূর্ত বলে মনে করতে পারি lতার অনেক অনেক পরে প্রায় চার দশক পরে যখন হিমোগ্লোবিন নেমে গিয়েছিল মাত্র পাঁচে তখন যখন অ্যাম্বুলেন্সে আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আর আমি অনুভব করছিলাম আমার ভেতরে সরীসৃপের শীতলতা ঠিক তার সাথেই তুলনা চলে সেই একা হওয়ার মুহূর্তটার l মাঝখানে চারদশক মুখ টিপে হাসে, মুখ টিপে হাসে আমার মাধ্যমিক হায়ার সেকেন্ডারি বিএ এমএ বিএড ম্যানেজমেন্ট ডিপ্লোমা গুলি, যাবতীয় মানপত্র উত্তরীয় এমনকি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড টাও l বুঝি একক আমি কতটা অসহায়, তখনো, এখনো ! এবং আঙুর ফল টকের শিয়ালের মতো কতটা নিবেদিত, কতটা আশ্রিত বায়বীয় ধারণার বেদীমূলে l সব পেলে নষ্ট জীবন l আমি নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছি l
পেঁয়াজের খোসার মতো নিজের একাকিত্বের খোলস খুলতে খুলতে ফ্রয়েড ও বোধ হয় এক স্তরে লজ্জা পাবেন lনিজের মাকে জড়িয়ে ধরি নি বড় হবার পরে অথচ মায়ের কাছে সন্তান কখনো বড় হয় না l আত্মজা বড় হচ্ছে ক্রমে আমি শামুকের খোল এর ভেতরে ঢুকতে থাকি l বিমল করের 'আত্মজা' গল্পটির কথা খুব মনে পরে, শিঁউরে উঠি l ইডিপাস, ইলেক্ট্রা আরো কত কত কমপ্লেক্স ! বা ঠিক কমপ্লেক্সও নয়,পড়েছি যত হজম করতে পারিনি সেভাবে তাই বদহজমের চোঁয়া ঢেকুর অথবা এক ধরনের ওভার স্মার্টনেস l এসবকে সরিয়ে রেখে যদি নিপাট একটা পরিসংখ্যান তৈরি করি তবুও তো দেখব নিজের দিকেই ঝোল টানা l একা আমি একক আমির দিকেই আমার অভিমুখ, আমার দায় ও দায়বদ্ধতা lএকাডেমি অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনাদের পত্রিকার সাথে কে কে যুক্ত আছেন এবং কতটা আমি মুচকি হেসেছিলাম lকেননা একা না হলে আঠারো বৎসর অবিরাম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না lআমার কাজে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোন জায়গা নেই lফলে আমার বোধ ও জ্ঞানের সীমাবদ্ধতায় কিছু কিছু জায়গা হয়তো উত্তোরণে সেই মানে যায়নি কিন্তু টিকিয়ে রাখতে পেরেছি অবিরাম lএকা হওয়া ই আমার দুর্বলতা, আবার একা হওয়াযই আমার শক্তি l ভাঙ্গনের ভয় নেই, ক্রম উত্তোরনের ইতিহাস আছে lআর আছে নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক দূর্মর ইচ্ছা l
' কিং লিয়ার' আর 'সাজাহান 'নাটকের মধ্যে আমি এক ধরনের মিল খুজে পাই lহয়তো অনেকেই পেয়েছেন l কেননা ফরমের দিক দিয়ে তো মিল অনস্বীকার্য মানে পর্ব দৃশ্য (act scene ) মিলিয়ে, বা কেন্ট ও দিলদারের উপস্থিতি তো অনেকটা সে কথাই প্রমাণ করে l কিন্তু এসব কে ছাপিয়ে যায় আমার কোন কোন জায়গায় বিষয়গত মিল l.বিষয়গত কথাটা ঠিক নয় আসলে মেলে তাদের একাকীত্ব তাদের অসহায়তায় l দুজনেই বৃদ্ধ, দুজনেই রাজা l একার সাথে অতীতের সাথে কথা বলা মানুষ তারা l মানুষ যতটা একার সাথে বা নিজের সাথে কথা বলে সারা জীবনে বাকি পৃথিবীর সবার সাথে সমস্ত কথোপকথন ও তার সমান নয় lএক অর্থে সারা জীবন ধরেই তো চলে আমাদের মনোলগ l ড্রামাটিক মনোলগ l এমনকি আমরা গহীন থেকে যখন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাযই তখনও তো এক ধরনের পক্ষে বা বিপক্ষে ডিসকোর্স তৈরি হয় ভেতরে ভেতরে, যার বক্তাও আমি শ্রোতাও আমি l জীবন কি এক অনন্ত এক সলিলকী নয় !আমার ভেতরে প্রতিনিয়ত অনেক আমির জন্ম হয় l না, আমি যে সব সময় রবীন্দ্রনাথের 'বড় আমি',' ছোট আমি' তেমন নয় l অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামতলিক, অসামতলিক আমি lএক বিরাট আয়না যা ছড়ানো মাত্র চৌচির হয়ে যায়, তার সামনে দাঁড়ালে যে খন্ড খন্ড আমি তার যোগফলইতো প্রকৃত আমি lচিরকুমার কবি হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে জাগাতে লে খেন.. 'একা মানেই তো অনেক, একথা ভেবে এখন আর একাকী হইনা কখোনোl' কবি বেঁচে থাকেন তার স্মৃতিতে l পার্কে বসে ঘাস ছেড়ার স্মৃতি, সিনেমার অন্ধকারে হাত ধরার স্মৃতি, প্রথম চুম্বনের স্মৃতি, প্রথম শারীরিক মিলনের স্মৃতি lসেইসব স্মৃতি সুধা বিন্দুগুলি তাকে সরিয়ে নেয় এক মুহূর্ত থেকে অন্য মুহূর্তে lকবি মরে যায় না কেবলই দৃশ্যের জন্ম হতে থাকে l আর এই সব খন্ড খন্ড দৃশ্যের খন্ড খন্ড অভিনয় করা মানুষটিই তো সমগ্র কবি l এই টুকরো গুলোই ভরিয়ে দেয় সমগ্র একাকীত্ব l কবি আর একাকী হন না কখনো l.

গিলোটিন নেমে আসবে গর্দানে l মুহূর্তে শেষ হয়ে যাবে এই জীবনের স্বপ্ন, সাধনা এবং বিপ্লব প্রচেষ্টাও l ট্যামব্রিল নামক গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বধ্যভূমির দিকে l অনেক সিনেমাতেই এ দৃশ্য এসেছে তবে আমি বোধহয় প্রথম পড়ি 'এটেল অফ টু সিটিজ 'এ lযাই হোক তখন একজন মৃত্যু পথযাত্রীর যে একাকীত্ব তারই কিছুটা আঁচ পেয়েছিলাম দু'বছর আগে মধ্যপ্রদেশের এক হাসপাতালে এন্ডোস্কপির উদ্দেশ্যে বেড থেকে একা একা সেই ঘরে যাওয়ার সময়টুকুতে l এখানে ছিল হুইলচেয়ার আর গিলোটিনের বদলে ছিল ক্যামেরা লাগানো একটি নল যা আমার ভেতরে প্রবেশ হবে কিছু পরে , আর 'গোপন কথাটি রবে না গোপনে' l সেইসব একক মুহূর্তেরা এখনো স্মৃতিধার্য হয়ে আছে l

মানুষ বেসিকালি একা এবং সে একাই থাকতে চায় l সে নিজের অজান্তেই এক লোনলি ক্লাউড এর অংশ lএকটা সময় কলকাতার গড়ের মাঠ, ভিক্টোরিয়া সহ কোচবিহারের রাজবাড়িমাঠে দুপুর দুপুরের পর থেকে কপোত-কপোতীর মত প্রেমিক প্রেমিকারা বসে থাকতো lকারো কারো মাথায় উঠত ছাতা আর শীতে যৌথ চাদর l এখনো বসে এবং ইত্যাদি ইত্যাদি.... l কিন্তু অবাক হয়ে আবিষ্কার করি, হয়তো পাঠক আপনিও দেখেছেন তাদের একটি হাত অবধারিত মুঠোফোনে এবং তারা হয় কিছু দেখছেন, না হয় ফেসবুক -হোয়াটসঅ্যাপে অন্য কারোর সাথে কথা বলছেন l না, শুনতে খারাপ লাগলেও তাদের মধ্যে কোন কথা নেই l অবধারিত তৃতীয় বা চতুর্থ জন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ lআসলে তাও না, কেউ কারো কাছে সামান্যতম গুরুত্ববহও নয় আর l একাকীত্ব আড়াল করার চেষ্টায় মানুষ আরো বড় একাকিত্বের কৃষ্ণগহ্বরে পা ফেলে দিয়েছে তার অজান্তেই, যার থেকে আর তার মুক্তি নেই l.

তবু একাকীত্ব মানুষের অর্জন lএকাকীত্ব মানুষকে অহং দিয়েছে, স্বপ্ন দিয়েছে, সম্ভাবনা দিয়েছে অস্তিত্ব দিয়েছে l আর না চাইতেও দিয়েছে আত্মহত্যা প্রবণতা l ঘরে তার সুখী স্ত্রী-সন্তান, অর্থ ও বাঁচার যাবতীয় গঠনমূলক আয়োজন থাকলেও উটের গ্রীবার মতো মৃত্যু ডেকে নিয়ে যায় একাকিত্বের কোন হাত ধরে, আমরা জানি না l তবে একাকীত্ব আছে বলেই কবিতা আছে, মধ্য রাতের মালকোশ আছে, চৌরাশিয়ার বাতাস কাঁপানো সুর আছে, কুড়ি বছরের গবেষণাপত্র পুড়ে গেলে নিউটনের ডায়মন্ডকে আদর করা আছে একটা ডিমের কুসুমে মাধুরী দীক্ষিতের মুখ আকার স্বপ্ন আছে মকবুল ফিদা হুসেনের, আছে কবিতার জন্য অমরত্ব তাচ্ছিল্য করার স্পর্ধা l অবজ্ঞার মতো একা না হলে ক্রোধ জমে না lআজিজুল হক বলবেন ' মহতী ক্রোধ ' l. আর মহতী ক্রোধ না হলে কি করে লেখা হতো "কারার ওই লৌহ কপাট "l বা কি করে হত 'গোল্ড রাশ ' বা 'টাইম মেশিন' l মহান শিল্পী মাত্রই একা l সে এসে ঠাকুরনগর স্টেশনের নির্দিষ্ট চেয়ারে বসেন আর জনগনের হাঁটাচলা ব্যস্ততা দেখেন আর লেখেন.. "আমি ভালোবাসা দিতে পারি তুমি কি গ্রহণে সক্ষম? "

মিছিল করে বিপ্লব হতে পারে শিল্প নয় l মিছিল করে সমষ্টি বদ্ধ হয়ে যুদ্ধজয় হতে পারে কিন্তু একটা 'চাঁদের অমাবস্যা 'লেখা যায় না lকিংবা কোমল রে কে আরো কোমলতর করা যায় না l আবার এটাও ঠিক এই মিছিলই বলুন বা যুদ্ধ শুরু কিন্তু একক ভাবনা থেকেই l কেউ তো একজন থাকে যে প্রথম স্বপ্ন দেখে তারপর দেখায় l.বা যে প্রথম অপমানিত বোধ করে এবং তার সেই অপমান বোধ সুকৌশলে সঞ্চালন করতে থাকে তার সঙ্গী সাথী বা গোষ্ঠীর প্রত্যেকের লোহিত কণিকায় l. তার একাকীত্ব আর একক ভাবনাই কালক্রমে সমষ্টির অভিমুখ হয়ে ওঠে হয়ে ওঠে l হয়ে ওঠে সমষ্টির অর্জন l ব্রাডম্যানের 99.96 হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তীকালে বিজয় ডাক -স্মারক l লেনিনের একক ভাবনা 19 17 তে সূচনা করে রুশ বিপ্লবের lপৃথিবী দ্বিখণ্ডিত হয় l নিউটন আর আপেল বাগান না হয় উহ্যই থাক বা ভীম সেন যোশী, রবিশঙ্করের তান সমৃদ্ধ রাগ-রাগিনী প্রচেষ্টাl


একাকীত্ব মানুষকে সরবিট্রেটের কাছে নিয়ে যায়
একাকীত্ব মানুষকে বিলাবল এর কাছে নিয়ে যায়
একাকীত্ব মানুষকে পটচিত্রের কাছে নিয়ে যায় একাকীত্ব মালকোষ রাগে গভীর রাতের বাঁশি একাকীত্ব কাইফি আজমির সায়েরি
অথবা নির্জলা একাকীত্ব আত্মহত্যাও ডেকে আনে কখনও কখনও....

আমার একাকীত্ব, আমার অর্জন l আমার একাকীত্ব, আমার অহংকার lআমার একাকীত্ব আমার শিল্প,
পাঠক, আপনার?