গরম ভাতের গল্প কিংবা একা থাকার দিনে ...

প্রদীপ চক্রবর্তী

এক
কিছুটা কুন্ঠিত মৃদু অনধিকারিনী ...
মধ্যবর্তী বিড়াল কি দারুন লঘু !
যদিও মধ্যপদলোপী মৃগনাথ পিঁপড়ের যাত্রায়
অনির্দেশ্য নিঃস্বতা
জন্মান্ধ তুমি ...
কেন আসঙ্গে দারুণ রঙ্গে পিছু হেঁটে গেছো ,
বিষ -- হাড় --মালা শরীরে জড়িয়ে
দরজা পেরোতেই কিছু বানান লুপ্ত হয়ে যায় রোজ

আমি তার কথা কি ভুলে যাচ্ছি ?
ভুলে কি গেছি ,
রক্তের রঙ বদলানো তক্ষকের মাঝখানে
লুকিয়ে থাকার দিন ...

গাছের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার মতো খিদে ...
কোনোদিন বিষ --শ্বাসে আগুন বৈরাগী
সমাহিত কৃষ্ণভামিনীর ছায়াতেই পুড়ে যায়

যে সূক্ষ্ম সুতোটি হাড়কে কঙ্কালে বেঁধে রাখে
তারচে আরো মিহি ধর্মের সুতোয় গাঁথা নগরকীর্তন
থাবা আর চিবুকের বিপজ্জনক ফাঁক দিয়ে
সন্তর্পণে এগুচ্ছে চাঁদ ,
অপার খিলানের শেষ বিন্দু থেকে সোমত্ত যবনিকা দ্যাখে
পৃথিবী -- প্রান্তিক এক বাড়ি

নীরবতা ব্যবহৃত জীবনের লোক
সারাটা পাহাড় গড়ানো শব্দদের জিভে নিয়ে
কী তুমুল কী ময়ূর --শবর ,
সমবেত পাহাড়ি নেকড়েগুলো এসময় টহলে বেরোয় ...
সৈকত থেকে ক ত দূ র ,
মেয়েরা কাঠের উনুনে রান্না চ ড়ায়

স্মরগরলের মনছায়
অথৈ পরিবার ভেঙে
কয়েকটা নদী তৈরী হয় চারপাশে ...



দুই
কুয়াশা ফুলের ঘ্রাণে নিঃস্ব মৃতপ্রায় মায়াদাগে নিজেকে জেগে থাকতে দেখে নিরুপায় ঘুমহীন সমর্পণে একাকী সুরের গোলাম এই দগদগে ক্ষতচিহ্ন থেকে সরে দাঁড়ায় ...
ক্ষত = শব্দ !
ধ্বনিত উচ্ছিষ্ট !
মনের গণনাতীত জড় বিস্ময় ঝরোকা ,
নশ্বর বর্ষতাপ
বিলুপ্ত আকাশের সর্প মিথুন ,
স্নান করানো হচ্ছে ওদের কাকজ্যোৎস্নায় আত্মপ্রতিকৃতির পরিশীলনে

যেটুকু আগুন ক্ষত রক্ত পাথেয় করেছে
অথৈ শাসনের অজ্ঞাত শস্য ও বৃন্দগানে ...
কেউ নেই তাদের অপেক্ষায় ,
পাতারা রাশিরাশি পতনের সংকেতে ছুটে যাচ্ছে


পৃথিবীর মাঝ -- মধ্যিখানে কবে যেন ভালো ছিলো মন !
আজ কাঙ্খিত সেবিকার সমুদ্রস্নানের পর
গোপন সঙ্গমে মাতে ভ্রুণ ধ্বংসকারী ,
সবুজের নসাৎ ও উত্তীর্ণ পেয়ালায় কিসের টানে
আলোচাল ছড়িয়ে গিয়েছিলো বাংলা দেশের রাকা ...

এটুকুই কথা ,
এটুকুই ক্ষণজীবী শিশুটির প্রাকৃত দুধ ,
খিদের দোহন ,
জগৎ ধীরে ধীরে ছায়ার মধ্যে ঢুকছে শিশুর ...
সেই সমস্ত অলৌকিক খাদ্যের জন্য যুদ্ধ ও দুরারোগ্য ব্যাধির উপভোক্তা মানবিক বিকোতে বিকোতে মৃতবৎ অপেক্ষায় থাকে |
অর্ধাহার অনাহার সমপন্থী হয় ...

এই যে চলিত বাংলায় গৃহিণীর ব্যবহারে
পরিযায়ী , পৃথিবীর শেষ ভূখণ্ড অবধি এগিয়ে লটবহর নামক বস্তু নামিয়ে ফিরে আসে আর ভাবে আত্মহত্যা ছাড়া কাফ্কার আর কোনো বিকল্প ছিলো কি ?

তারা আর ভাঙে না পাখির বাসা
ভোর আঁধিয়ারে বুন্দ বুন্দ জলের টপক মনকে ভেজায় ...
শিস দিয়ে আলস্যে ডাকে পাহাড়ি হাওয়ায় বুনো টাট্টু ...



তিন
ঘুমিয়ে বিপন্ন কাহার মুখ
অবিরল নীলনদ কৃষ্ণ জুগিয়ে যাচ্ছে
অনন্ত কাব্যে
পাথরে মৃতপ্রায় ঈশ্বর ঘরের বিগ্রহে বারোমাস
এতদিনে সকল মায়াজাল নামো ,
নেমে পড় সমেঘ ভেলা খুলে বৃষ্টির হারমোনিকায়
বজ্রাহত চাঁদের শেষ মুভি
মায়া ঢেউ বালুকাবেলায়
এই অশ্বক্ষুর বাঁকে জল বড়ো হাস্যমুখী
বিজন দুঃখ স্বপ্নবৎ মৃতদের ছায়ায় হাঁটে ,
অতর্কিত ছোবলের জন্য কে থামাবে লীলার সুষমা ?
রক্তে বিষ মেশানো লোহিত -- হলুদ আলো
দেড়শো ফ্যাদম গাঢ় কালির মধ্যে
পানীয় -- প্রাণ
অতঃপর শেয়ালেরা নেমে আসে আমিষ গন্ধে
পাতিত ভ্রুণ আর ভাঙা ডিমেদের জন্য ....!