দূর হ শয়তান

নাসিমা আনিস

একটা সিরিয়াস উপন্যাস, একটা জীবনী আর কটা ভূতের গল্প — এই ত্রিভুজ প্রেম নিয়ে আপনি মাঝখানে বসে থাকতে পারবেন! আপৎকালীন সঙ্গে আরো আছে সিংমাছের ঝোল কিংবা ককমুরগির কষা আর চালকুমড়ার চাকভাজি — একটু রসুন পেঁয়াজের ফোড়নে কিন্তু। হ্যাঁ, একই রকমের খাবার রোজ, যুক্তরাস্ট্রের মৃত্যুর সংবাদের মত প্রতিদিনই এক খবর, হাজার দুই — টিভি স্ক্রিনে চোখ না দিয়েই বলে দিবেন। আমার হেঁসেলও তাই, কর্তাগিন্নির সংসার, কেউ নেই কাছে, কেউ না! আছে সব ম্যাসেঞ্জারের পর্দায়, সকালরাত্রি দুইবেলা — ছোঁয়া যায় না, চুমু দেয়া যায় না সোনা আমার বলে।

সোসাল ডিসটেন্স ¬— সোসাল ডিসটেন্সের এই কালে পাশের বাসার আপার নাতনির জন্য শিশুবই সাপ্লাই দেই দরোজায় দাঁড়িয়ে; ভিতরে গিয়ে তাঁকে দেখি না বি ভাইরাসে লিভার সিরোসিসের লাস্ট স্টেজের মানুষটাকে, ঘরে যে তাঁর ডাক্তার মেয়ে আছে, যে রোজ যায় ধামরাই সরকারি হাসপাতালে। হ্যাঁ হেথায় কোভিড পরীক্ষাও হয়!

শুকনা বাজার এসে পড়ে থাকে না ব্যবহার করা একটা বাথরুমে পক্ষকাল। সবজিফল কাপড়ধোয়া গামলায়, তারপরও বিপুল সন্দেহ নিয়ে ওদের পানে তাকিয়ে থাকি ¬— বেগুনশশাপটলের কোন রেখার গা ঘেষে আততায়ী শয়তান! পনির ডিপে ডেট হারায়, ডেট হারায় টিনের মাশরুম। পিজ্জা বানালে কে খাবে! মেয়ে মাকে বলে, এই সময় এই ল্যাভিস খাবারের কথা বল না, গুনা হবে মা। ইন্টারকমে ফোন দেয় তিনতলার আপা, কিভাবে ডিপে সবজি রাখব আপা রোজ তো জীবাণুজড়ানো সবজি হাতানো যায় না! হাতে না ঘা হয়ে যায় ধুতে ধুতে! — ইটালির এক আপার ভিডিও দেখেছি আপা, লিঙ্ক পাঠাচ্ছি, সংক্ষেপে বলি ¬— ধুয়েকুটে পানি ঝরিয়ে এয়ার টাইট ব্যাগে রাখেন, দু’চারমাস কিছু হবে না, ইটালির আপা ভিডিওতে তাই বললেন। জানালেন মন খারাপ করে, জমজ বাচ্চা নিয়ে মেয়ে জামাই খাবিখাচ্ছে, মেয়ে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে প্লাস্টার নিয়ে পড়ে আছে। বলতে যদি বলেন তো বলি, সেদিন এপ্রিলের তের তারিখ, পরদিন পয়লা বৈশাখের দিন। কয়দিন ধরেই শরীর বেজায় খারাপ, বুকে যন্ত্র লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টার পরীক্ষা করেছে, হল্টার না কি একটা! তের এপ্রিল আমার মনে হলো আমার মৃত্যু শুধু সময়ের ব্যাপার। কেননা আমার পাল্‌স আটচল্লিশ আর ভয়াবহ পালপিটিশান আর প্রতি দুইটার পর একটা ড্রপবিট। হাসপাতালে কেউ কেউ যেতে বললো। কিন্তু আমি করোনায় মরতে চাই না! বাথরুমে যাই দরোজা বন্ধ না করে, বেচারা দরোজা ভাঙতে পারবে না, একা মানুষ। এই যখন চলছে, পরদিন দুপুর বেলা — না, পয়লা বৈশাখ বলে কোনো আয়োজন নেই, কিচ্ছু না। ভরা দুপুরে মেয়ে ফোন দিয়ে আমায় বলে, ভয় পেও না আমি সিটি হাসপাতালে আসছিলাম আমার হাত পুড়ে গেছে। সামনের পনের দিন এক দিন পর পর ড্রেসিং করতে হবে মা! উনি বিশ মাসের মেয়েকে স্বামীর সকাশে রেখে হাসপাতাল যাচ্ছেন! বুকের তলের থ্রিম থ্রিম তো এবার একেবারে থেমে যাওয়ার কথা! থামে না, অল্প শোকে কাতর আর ...। আমি পাল্‌স টালস মাপা ভুলে বোকা হয়ে ভূতে পাওয়া মানুষের মত সব ভুলে থাকার জন্য সারাদিন কাজ করি, করে হাঁপাই তারপর আবার একটা কাজ বের করি। কোনো কিছু পড়তে পারি না, লিখতে পারি না, টেলিভিশন দেখতে পারি না। টিভির নিউজ লাইন দেখে ভিতর থেকে বিতৃষ্ণার টকো ঢেকুর ওঠে। হুজুন, মানে বিষন্নতা বিষয়ক যে কাহিনী পড়েছিলাম ওরহাম পামুকের ইস্তাম্বুলে তা এখন বুঝি সারা বিশ্বকেই পেয়ে বসেছে। সজীবের গান ‘ভাল্লাগে না’এখন ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে অন্দর ছেয়ে গেছে। আমার বিশ মাসের নাতনি যে এখানে এসে কবিতার একটা করে লাইন বলত, সিজদা নামের দশ বছরের পাশের বাসার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আদর করত, জোর করে কোলে উঠত আর বাসায় ঢুকেই ‘সিজিয়া’ ‘সিজিয়া’ বলে আমায় নিয়ে ছুটত, সে এখন বাপমায়ের বাসায় গৃহবন্দী, তো সেথায় সিজিয়া নেই বলেই কি না জানি না, কথা বলা ছেড়ে দিয়েছে, এমন কি সুর করে যে বাইইই বলত তাও বলার প্রয়োজন দেখে না। তারপর তার মায়ের ব্যান্ডেজ যেদিন খুললো তারপর দিন সে পড়ল জ্বরসর্দি আর শুকনা কাশিতে, সপ্তাহ আগে তাদের মাথার উপর করোনা রোগী মারা গিয়ে তারা লকডাউনে, বুঝুন! আমার ঘুম চলে গেল, হাতপা মাঝে মাঝে কেমন ঝিমঝিম করতে লাগল। ঘুম বলে কোনো অবস্তুর দেখা হারালাম। বিষণ্ণতা শুধু নয়, এবার অবষণ্ণতা, পৃথিবী থেকে এক রকম রিলিফ নেয়ার কাল সমাগত হয়ে এলো বুঝি আমার! টলতে টলতে খালি কাজ খুঁজি, তত কাজের মানুষ আমি নই কিন্তু অথচ সারাদিনের কাজের দৌরাত্ব দেখে পাশের মানুষটা অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে কাছে এসে বলে, বল, আমি কী কাজ করব! আমাকেও কিছু করতে দাও! এত কাজ করতে হবে না! বলেন, একা মানুষ যৌথ হয়ে যাচ্ছে! নিজেকে বাঁচানোর জন্য সেলাইও শুরু করি, অন্তত দশ বছর পর! বাবুর জন্য একটা জামা বানিয়ে পোস্ট দিয়েছিলাম আগের দিন, বাহবাও পেয়েছিলাম, কুসংস্কারের ঘাঁটি এসে মন চুবিয়ে দিল প্যাঁককাদাজলে, পোস্ট অনলি মি করে ক্ষান্ত হলাম, আর নয় পোস্ট, নয় নয় নয়! বাবুকে সুস্থ করে দাও আল্লাহ!

নিচে হকার ডেকে যায় মাছ মুরগি ডাব, রোজার মাস — না খেয়ে কি রোজা রাখা যায়! গত পাঁচ বছর ভিক্ষুকের গলা শুনি নাই, বিস্মৃতিই প্রায় হয়ে এসেছিল এই সম্প্রদায়, তারা সারা দিন এখন, কখনো রাত ন’টায়ও সাহায্য চায় তারস্বরে, দশতলা থেকে মাঝে মাঝে মনে হয় কোনো সমনজারি হচ্ছে বা হবে কিংবা কোনো প্রবল ঝড়! দুর্ভিক্ষ হবে বলে যে বস্তা বস্তা খাবার কিনে ঘর বোঝাই করা হয়েছে, মনে হয় এই দুই মেরুর সংঘর্ষ সমাগত!

সেই আমফানও এলো, রাতব্যাপি তাণ্ডব! মরার উপর খাড়ার ঘা!

বলছিলাম এক সঙ্গে তিনটা ওয়ার্ডের ফাইল যে ত্রিভুজ বিকর্ষিত প্রেমের ঝামেলা বাঁধায় তাদের নিয়ে কী করিব! সিরিয়াসটা তো লেখার কথা ছিল সবার আগে — কত কত বই পড়ে তার খসড়াটা করেছি রাত জেগে জেগে সারা জানুয়ারি ফেব্রয়ারি, তাবৎ ঢাকা চষে খেয়ে এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ২০২০ (বিষ) ফোল্ডারের ভিতর কলোনি নামে। নিলয়কে হঠাৎ ফোন দিয়ে বলি নিলয় ঠিক করেছি যদি কিছুই করতে ভালো না লাগে তো একটা ভূতের চেষ্টাই করব, সিরিয়াস কিছু লেখা আগাচ্ছে না। নিলয় নন্দী হাসে, আপা, আমারও একই অবস্থা, ভালো আইডিয়া, লিখে ফেলেন। লিখতে গিয়ে মনে হলো জীবনে কত কত ভূত এসেছে কিন্তু কেউ তো ঘাপটি মেরে বসতে পারেনি, তো চিন থেকে আসা চিনাভূতটাকে কীভাবে নামানো যায় ঘাড় থেকে! সে না নামলে তো কোনো কিছুই আগাবে না!

যাবে কি, কখনো গেড়েও বসে। এক সকালে উঠে দেখি গলা বন্ধ, মাথা ব্যথা। কোনো কিছু মস্তিস্কে ঢোকানোর আগে দ্রুত সরে এলাম যৌথবিছানা থেকে। লোকটা খুব নরম, তাঁকে রেহাই দেয়া কর্তব্য।

খারাপ চিন্তা আসতে লাগল, দেখলাম পায়ের নিচের ফ্লোর নড়াচড়া করছে, ঘরের আসবাবও দুলে দুলে উঠছে। না, এ হলে তো হবে না। লবণ আর গরমপানি দিয়ে গড়গড়া করলাম, আদাচা খেতে খেতে সিদ্ধান্ত নিলাম, লড়াই এসে গেছে তো লড়াই চালানোর মতো শক্তি জোগাড় আছে তো তোমার!

আছে, গরমপানি দিয়ে জম্পেস একটা গোসল, ঘণ্টায় ঘণ্টায় গড়গড়া, আর লেবুপানি কুসুম কুসুম। নো ফোন নো মোবাইল, নো ফেসবুক। রোমান হলিডে লাগিয়ে বসে আছি আর ভাবছি অসভ্যটা এলো কোন দরজা দিয়ে, সবজি, ফল, মাছমাংস নাকি বাতাসে! দশতলার জানালা উড়ায়ে আনিল কোন হাওয়া! পালিয়ে রইলাম সঙ্গী থেকে, মুখোমুখি হয়ে গেলে খুব হেসে হেসে কথা কইছি, দূরে দূরে থেকে, বাইপাস শরীরে আবাস নিলে ভয়াবহ হবে যে!

সন্ধ্যা নাগাদ ফর্ম ফিরে পেয়ে অবাক, মনের ভুল! অকারণ ভয়! হবে হয়ত।
এই তো সময় আত্মজীবনীটার একটা বিহীত করা! ২০২০ এর ফোল্ডারে তিন ফাইল তিনদিক থেকে যদি টানতো তো আমি তাহাদের সেহরির পর মিষ্টি ভোরটুকু, অলস দুপুরটুকু আর রাতটা ভাগ করে দিয়ে দিতাম জীবনের মতো, সত্যি বলছি। কিন্তু তারা মরা সিংমাছের মত শুয়ে থাকে, দেখলেই গা ঘিনঘিন করে। ছিঃ! ফেসবুকের ঘরে বাগানের ফুললতাপাতার ছবি দেই লাইক কমেন্ট কুড়াই, দেবব্রতের জন্য কৈশোরের প্রেম উথলে ওঠে যদি তাঁর গান শুনে নিজেকে একটা ফর্মে নেয়ার পায়তারা করি। কোন গান! ক্ষমা করো মোরে সত্যি সুধায়ও না আর... হ্যাঁ, এই মানুষটা আমাকে এখনো চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর আগের মতো জাগায় ভাসায় আর কাঁদায়, রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং যা পারেননি অল্প বয়সে। সেই আবেগও বেহাত হয় যেন এখন, গানে কাজ হয় না। আনোয়ারা আলপনা নামের ফেসবুক ফ্রেন্ড ঠিক করেছে এই করোনাকালে গীতবিতান মুখস্ত করে ফেলবে, আমি বলেছি পঞ্চম শ্রেণি থেকে তো মুখস্ত করা শুরু করেছি — না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে না বুঝে...। দু’চারটা ছাড়া সবই মুখস্ত, কোনগুলো মুখস্ত নয় সেগুলো খুঁজে বের করা মুসকিল, এসেছিলে তবু আস নাই জানায়ে গেলে, বলে টুকি খেলবে। সুর নেই বলে রাতদিন গানই করেছি, গানগুলি মোর শৈবালের দল আহা..., সত্যি! তো সৌমিত্রের মত গানগুলো আবৃত্তি করা যেতে পারে বৈকি।

গৃহবন্দী অবস্থায় সেলাই করতে করতে সত্যজিত হতে থাকে জি সিনেমায় হিরক রাজার দেশে কি নায়ক কি সোনারকিল্লা, বার বার! ওরা ওদের মত চলতে থাকে, এই চ্যানেলে নিউজ লাইন নেই!

লিস্ট ধরে তামিল আর মালয়লাম ছবি দেখতে চাই, দুঃখ নিয়ে ফের দেখি ইরফান খানের ছবি, আহা কি চোখের ভাষা আপনার ইরফান! এই অন্তর্ভেদী দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বুঝে নেই শত শত বছরের প্রেম, প্রজ্ঞা, মেধার স্ফুলিঙ্গ! দয়িতার না পড়া কিছু কবিতার রেখাচিহ্ন! একাকি, নিঃসঙ্গতার পরিপত্র!

২.
কয়েকদিন পর আজ যখন এই ফাইল খুলছি, তখন দুজন প্রিয় লেখক বিশ্ব সংসার থেকে বিদায় নিয়েছেন, চৌদ্দ এপ্রিল বিকেলে গেলেন আনিসুজ্জামান স্যার, অন্য রোগে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে, গেলেন করোনানিঃসঙ্গ বেশে। আজিমপুরে বাবামায়ের কাছে গেলেন ভূতুড়ে পোষাকের মানুষের ঘাড়ে চড়ে, চরম অসহায়ত্বের এই দৃশ্যটা চোখে আঁটকে রইল ইউরোপের মৃতদেহবাহী এ্যাম্বুলেন্সের মিছিলের মতো! একই দিন গিয়ে রাতে গেলেন প্রিয় লেখক দেবেশ রায়। এখন এক লাইন লিখতে চাই, তিনি আমার মোহিনীর থান পড়েছিলেন কি না জানি না — খুব সাহস নিয়ে দিয়েছিলাম আগের বছর প্রথম লেখা উপন্যাসটি। তিনি আমায় ডেকেছিলেন, বলেছিলেন আসেন ওমুক অনুষ্ঠানে কিছু কথা বলব। কী বলতে চেয়েছিলেন এই পণ্ডিত লেখক কোনোদিন জানা হবে না, কেননা সব ছুটি সব সময় মেলেনি। তিনি তো জানতেন কী করে গল্প আঁকা যায়! ‘দুপুর’ এর মত একটা দুপুর কিভাবে ঘামতে ঘামতে নানারঙে রুপান্তর হতে হতে কামাতুর হতে হতে বিকেলের দিকে হেলে পড়ে। করোনাকালে হলেও দেবেশ রায় করোনায় যাননি। দেবেশ রায়কে নিয়ে অমর মিত্রর লেখাটা শেয়ার দিয়েছি ফেসবুকে রাত পোহালে, রাত জেগে জেগে লিখে ভোরে পোস্ট দিয়েছিলেন — এই সবই করি আমি, ফেসবুক, এই যাত্রা অনেককে বাঁচিয়ে দিয়েছে জুকারবার্গ! ধন্যবাদ বেটা!

রাতে লাইভে অমর মিত্র বলছিলেন ফের দেবেশ রায়কে নিয়ে, বলতে বলতে বললেন এখন ঘুমাব, কাল সারারাত ঘুমাইনি, সত্যি ঘুম এখন বেহাত আমাদের কাছে অমর দাদা!

২০১১ সালে ব্র্যাক ইউনিভারসিটির দুদিনব্যাপি সেমিনারের একটা ছবি আছে আমার কাছে, দেবেশ রায় আর হাসান আজিজুল হক গলা ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। শিল্পীর নিঃসঙ্গতার মিটমাট করছেন দুই বড় লেখক বুককাঁধহাত মিলিয়ে!

নিঃসঙ্গতা বরং লকডাউন কেড়ে নিয়েছে, মানুষের কাজই হলো প্রকৃতিকে অস্বীকার করা যে! ঘরের মানুষের সাথে কত কি গল্প এখন! প্রথম যেদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পাহাড়ের উপর তার লজে গিয়ে হাজির হলাম, সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে, পাহাড় ঘাপটি মেরে আছে কিছু দেখার আগেই। রাতে শুধু ভাবছি ভোর কখন হবে! সকালে উঠে অবাক কাণ্ড, যা যা যেমন যেমন ভেবে রেখেছিলাম বছরের পর বছর। পাহাড়ের গা ঘেঁষে নানা বিচিত্র রঙের ফুললতাপাতা, আকাশছোঁয়া বৃক্ষ আর তদীয় গাম্ভীর্য, ঠিক তেমনি! সবকিছু নিচে শুধু আমরা উপরে — অনেক অনেক উপরে সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুধু ধ্যাৎতেরির মতো বেশ দূরে একটা চুড়ায় একটা ছোট্ট বাড়ি, গাছে ঢাকা। এই সকালটা নিয়ে একটা উপন্যাস লিখতে বলুন, লিখে দিব, প্রেমের বেদনার উচ্ছ্বাসের! এই সব গল্প এতকাল ছিল কোথায়! একাকিত্বের বদলে দ্বৈততা নয়!

তবু তুই দূর হ শয়তান!