তিনটি কবিতা

আসমা চৌধুরী

একা
জানালা খুলোনা,চাঁদ জেগে উঠবে
সাবান রেখেছি
হাত ধোয়,হাত ধোয়
যুদ্ধের সাজ প্রস্তুত
বাড়ির বাচ্চটি বালিশ নিয়ে এসেছে
ফুপি,দরজা খোল,আজ তোমার কাছে ঘুমাবো

ফুপি তখন ভাবছে, কাশি হচ্ছে,জ্বর,মাথায় যন্ত্রণা……


('মা বলতেন বারোটা মুসকিল তেরোটা আসান')
এইবার ঠিক হয়ে যাবে,এইতো
মে মাসের ১৭তারিখের পর খুলবে সবকিছু
কতদিন আকাশ উবু হয়ে শোয়নি মাথার ওপর
বিশিষ্ট লোকেরা চলে যাচ্ছেন স্বাস্থবিধি মেনেও
তাদের জানাজায় কয়েকটি মানুষ,চেনা মানুষের আড়াল
পুলিশ ভাই, তাঁর শেষ চিঠিতে লিখেছেন,
দুই বৎসরের মেয়ে গ্রাম থেকে ফোন করে
'বাবা কবে আসবে,বাবা কবে আসবে?'
বাবা শুধু বলে আসবো মা,তোমার জন্য
সুন্দর জামা নিয়ে আসবো'মেয়ে বলে
দুটি জামা এনো,কবে আসবে?
তাঁর আর ফেরা হয়নি বাড়ি।

ছোট বাচ্চা পা জড়িয়ে ধরে ডাক্তার বাবার
'বাবা তুমি যেও না,আমার ভয় করে'
দায়িত্ব আর মানবিকতায় ছেলেকে ফেলে
ছুটে যায় বাবা,করোনা তাকেও ছাড়ে না।

'একে একে নিভিছে দেউটি' চলে যায় জাতির বিবেক, স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্স, সংবাদকর্মী।

ভয় নিয়ে মা জেগে থাকেন,পুত্র ভাবেন
'বারোটা মুসকিল সব জাহান্নাম করে দেন,তেরোটা আসান 'কোথায়,কতদূরে?


লাইফ সাপোর্ট
তিন মাস ঘরেই সংসার
ঔষধ,আলু,ডাল,চাল
পাঁচিলের ওপারে করোনা
শক্ত করে হাসি,শক্ত কথা বলি
লোকেরা পরামর্শ দেয় যন্ত্রে।

সারাদিন করোনা আর নিজেকে সেলাই
খাবারে অরুচি,মাথায় যন্ত্রণা
লাইফ সাপোর্ট খুঁজলে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়
এইবার কী শিরোনামে আমাকে দেখবেন?

মৃত্যু

যে মানুষগুলো কবর পর্যন্ত যায়
তাঁরা কর্তব্য করে চলে আসে

সন্তানেরা বাড়িতে বসে দ্বিতীয়বার মরে
অসহায় আক্রশে,রক্তের সম্পর্কে, ব্যর্থতার বোঝায়।