আইসোলেশন অথবা বিচ্ছিন্ন সময়ের কবিতা

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়


একটি বিন্দু থেকে আরেকটি বিন্দু দু তিন হাজার মাইল
কিংবা তার চেয়ে আরও দীর্ঘ দূরতিক্রম্য এক পথ

আমরা দুজনে ঠিক এভাবেই এক একটি বিন্দু ধরে আছি…
স্থির হয়ে ঝুলে আছি দুই প্রান্তে

উতলা চোখের পাশে কোন দৃশ্য নেই মাথা তুলে কোথায় তাকাবে ?
ঐ কারা বাড়ি ফিরছে পায়ে পায়ে হেঁটে
ভাঙা সাইকেলের শব্দে সরে যাচ্ছে রাতজাগা পথ

রোদের নিখাদ আঁচে ঝলসে গেছে খিদের লালসা
দুঃখী মুখ, উপবাসী নিরন্ন আলোয়

এখানেও অস্থিরতা আসে অপেক্ষার নিস্তব্ধ প্রতীকে…

আমরা আজ কেউ কারো নই?

কেবল বিন্দু হয়ে সমস্ত সংসার থেকে সরে আছি হৃদয়হারানো এক সন্ন্যাস অসুখে।



সুস্থতার ভান থেকে সরে যাচ্ছি নির্জন দেওয়ালে
দেওয়ালে ঘায়ের দাগ পুঁজরক্ত গ্লানি

অসুখ অভ্যাস করি
কীভাবে উদাস হব স্বার্থমগ্ন উত্তীর্ণ আলোয়
ভয়ের ভেতর এক গর্তের কিনারা
পাগলের মতো ওরা ডুবে আছে অন্ধকার সংকোচের পাশে

দূরে কেউ ডাক দেয়
মত্ততায় তার শব্দ কোথায় হারালো ?
হারালো কি ? নিরালম্ব আহ্বানের প্লুতস্বর ভেসে ভেসে আসে

শূন্যে হাততালি দেয় বিস্মৃতিবিলীন এক সময়ের ছায়া …



গৃহবন্দী সময়েও আমরা যারা বাইরে আছি জরুরিকালীন
আলো দিচ্ছি , তাপ দিচ্ছি সেবা ও শুশ্রূষায় ধরে থাকছি অসতর্ক হাত

জানলা গলে উত্তল আকাশে কেউ পাক খায়
দেখছি তার মায়াবী করুণ ছায়া, নিজস্ব সংবাদ
ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে আগুনকেন্দ্রের দিকে
ঘাম ঝরছে অবিরল বৃষ্টির ধারায়

ঘরে থাকো
এখন সতর্ক থাকো , সাবধানে সুস্থতার কঠিন শপথ

সময় পাহারা দিচ্ছে , জাগরুক মোমোবাতি গলে যাচ্ছে ঘামে ও আলোয়।