স্রোতের নীরব থেকে

নীলিমা দেব


সুতরাং
সব সর্বনাম গুটিয়ে তুলে রেখেছি লকারে।শুধু ‘আমি’ ফ্রিজিং হতে হতে যতটা লিকুইড ততটাই ভ্যাপার । কে যে জ্বালিয়ে যায় মধ্যরাতের বাতি আর চমকে ওঠে যাবতীয়! সিল্কি! চমকে ওঠে সেই একলা ইডলির মতো কুঁচকানো চাঁদ। আরও ফোকলা হয়ে যায় আমার দুইবিঘে আকাশ।বাইরের কুচকাওয়াজ গলিয়ে দিয়ে যায় ভিতরের ইমন। ছন্দ তাল লয়ে কেউ-ই নেই তেমন আর-----বড়খেয়াল কিংবা ছোটখেয়াল। ছোট বলতে মনে হল, আজ আর ছুট নেই অবকাশেরও। মন্দিরের বন্ধ দরজায় প্রার্থনা রেখে চলে যায় ধুতিমানব। স্টিলের রোদ ঘেঁটে ঘেঁটে ব্যাপ্ত হয় আমার খাঁচা।খাঁচার ভিতরেই শিব-বিজ্ঞান, ভূগোল মাপে খোলা জলের। কুলোতে মেঘ নিয়ে উড়িয়ে দিই শহরের সীমান্তে। কুয়াশা সরিয়ে যেটুক দেখি তার নক্সা---


কচকচ শব্দে রক্ত চিবোচ্ছে শহর
ঝিমিয়ে আসা ভোর ঠান্ডাপাখি কুড়িয়ে ময়দান বুনে ঠোঁটে

সকালটা ধাক্কা খায়, আবার ফিরে আসে

ম্যারিনা বিচ গড়িয়ে গড়িয়ে ব্যাডরুমে ফ্ল্যাট
জলের নিচে বয়স্ক রাত

যার অর্ধেক ছায়ায় এঁটেল চাঁদ এবড়ো-খেবড়ো
বাকি অর্ধেক এক কৌটো অরণ্য

রোজ খাটো হয়ে আসে ঘর
দেয়াল জুড়ে ছেঁড়া পাখি
কোটর খুঁজছে

কাচা জলে ভিজিয়ে রাখি সূর্যাস্ত
এরপর আর রান্নার গল্প নাই…


ভানাক্কম!
শহর মানেই তো এখন জ্যন্ত ঘুমের স্ন্যাপ। প্রেসারকুকারের সিটি ছাড়তে যেটুকু সময় গড়ায় তাতে পরিস্কার দেখতে পাই দমবন্ধ আলোর নবান্ন। অমনি হুইলচেয়ারের প্যাডেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সোজা রান্নাঘরে স্টিস্ফেন হকিং। ১০০ ডিগ্রি উত্তাপে সেদ্ধ হতে থাকে আমার স্নায়ু ও তার কসমোলজি। মাইক্রোওভেনে প্রি -হিট হচ্ছে একলা মুহূর্তের রুমালি ইন্সট্রুমেন্ট।ইসলামি ক চাঁদ নামাজে বসার আগেই দেখি স্টিস্ফেন হকিং হাত ওয়েভিং করছেন।হয়তো বলতে চাইছেন বেঁচে থাকায় কঠিন বলে যদি কিছু হয় তো সে বাঁচতে না চাওয়ার অজুহাত। আর বাঁচতে চাওয়া বলতে কাত হয়ে যাওয়া নতুন সময়কে কিছুটা স্পেস দেওয়া ইউনিক হয়ে ওঠার।এই রে! সময় গুছাতে গুছাতে স্যানিটাইজ করাই হল না চাঁদের জ্যোৎস্না। ব্ল্যাকহোলে হেলান দিয়ে আছে সমস্ত নক্ষত্র।ছড়িয়ে ছিটিয়ে অন্ধকার …


অন্ধকার ≠ (স্পেস ÷ গ্র্যাভিটেশন)
ব্ল্যাকহোল => স্পেস/ (সময় ± আলো)

হ্যাঁ ক্রমশ হুইলচেয়ারেই ঢুকে যাচ্ছে সময় । ফাঁকা মাঠে মুভ করছে রিলেটিভিটি । ফাঁকা-ই তো ঘরের ভিতরের লুনেটিক ঘর। শব্দের আওয়াজ নেই। যেমন করে প্রথমবার হুইলচেয়ারে বসা বাবা আর শেষবার হুইলচেয়ারে বসা বাবার অন্তিমের অন্তরে বোবাশব্দরা আজ আরও বেশি করে আঁতকে উঠে। ভয়ে আমি শান্তিনিকেতন টেনে আনি বুকে আর তার ছায়ায় চাষ করি সংক্রামিত আলোর স্ফুরণ। আর তখনই ভেতরে ভেতরে ওঠা-নামা করে মুনিবা মাজারির হুইলচেয়ার ও তার রয়েল মুভমেন্ট। সব দেয়ালের রং কথা বলতে শুরু করে একসাথে, রাস্তার বেড়ালটাও মুচকি হাসে। পিয়ানোতে বাজতে থাকে রেড মিউজিক। একশো স্বপ্নের পায়েলে ক্লিক হতে থাকে চাঁদের পোট্রেট। জল খুলে খুলে মেলট হয়ে আসা আবিষ্কার সাঁতার ডিঙিয়ে মিশে যাচ্ছে নিমের গন্ধে। অতএব উপশম পরিচর্যা চাইছে। নিয়মিত মনের পরিচর্যাই তো আমাদের চাকাকে মুনিয়া মাজারির মত কোর্টে পৌঁছাতে পারে একমুঠো আলোর অধিকার বুঝে নিতে। লড়াই-ই ময়দান টিকিয়ে রাখে। সব গেম-ই তো ফ্রেশার্স। তাই বলে ময়দান গোটাতে নেই।

রোজ সূর্যওঠার শব্দের সাথে ঘুমপচা গন্ধের রং ব্লেন্ড হয়ে কেমন পাখি খেলতে খেলতে শুট করে বাস্কেটবল! তামাম শূন্যের হিসেব নৌকোর ফিজিক্সে। কত নদী ভিজে যায় এপার-ওপারের মিউটেড আকাশে। আসলে একটা ভোর স্পেস খুঁজছে স্পেশাল ডোমেনে নিজের অস্তিত্ব ইনসার্ট করতে। এতে হাজারো কালোরাত হয়তো এক্সপেক্টেড ডেমো। জানো তো, ঘুমের ম্যাকানিজমে খুব একটিভ এখন ‘মেটাফোরিক্যাল ডারউইন’। মনে হচ্ছে যেটুকু বর্তমান তার ইতিহাস নাড়াচাড়া করলেই ন্যাচারেল সেলেকশনের রিপিট ভার্শন।

নৌকোটাকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিলাম নদীর বিপরীতে । নদী বইছে, নৌকোও । মাঝখানে জল নেই। ছেঁড়া এক টুকরো জীবনানন্দ। শ্রমিক-চাঁদ বেঁটে মালিশ করে দেই রাস্তার পায়ে। রাস্তা এগোয়, শ্রমিক পিছিয়ে যায়। এভাবে পিছিয়ে যায় কত এগিয়ে যাওয়ারা। রোটেটেট মোশন। তবুও মা রুটি বানানো ভুলে যায় না। একেবারে গোল। নারকোলের চাটনি দিয়ে দোসা খাবার সময় মনে পড়ে মায়ের রুটির বানান কেমন ঘাবড়ে গেছে। রান্নাঘরে যাই। আটায় চাঁদ মিশিয়ে মাখতে থাকি পৃথিবী। রুটির রসে রাত এডিট করতে করতে দেখি বারান্দায় দোল খাচ্ছে হেলেন কেলারের
বসন্ত আর তার সুরে পালটি খেতে খেতে খুলে যাচ্ছে কত ঘুমন্ত বাগান।পারফেক্ট নজারা। এক কিকে মুখস্ত করি খোলা আলোর নামতা।অঙ্কের মতো ক্লিয়ার। এক ছাতার নিচে যতটা রোদ তততাই বৃষ্টি । ঘন-ঘন পুশ করি কুয়াশা।

এন্ড ডিসকোর্স দ্য হুইল …