সমূহ নীরব-নির্জনতা, একাগ্র ঝিঁঝি-নগর

ফেরদৌস নাহার

সূত্রপাত
অনেকদিন বাইরের পৃথিবী দেখিনি। সে কি ভুলে গেছে এই বোহেমিয়ান মুখচ্ছবি, সে কি মনে রাখেনি গভীর জলের অতল চাহনি! মাঝে মাঝে একা একা জিজ্ঞেস করি, পৃথিবীর ডাক নাম যেন কী! যে নামে পরস্পর ডাকতাম, ছুঁয়ে ছেনে টেনে নিতাম দুমড়ানো রাতে।

আমাদের দেখা হয়েছিল প্রচণ্ড ঝোড়ো দিনে, ভাঙা মেলায় পড়ে থাকা টুকরো টুকরো পুতুলের মাঝে। তারপর! কতদিন ও রাত্রির অভিযান শেষে মিলেছি এখানে। যাবার কথা বলিনি কখনো, ভালোবাসারও না। বহুদিন এই দেখা না হওয়া জানিয়ে দিয়ে যায়, কতটা শূন্যতা!


ঘুম নীরবতা
দূরের দীর্ঘশ্বাস যাত্রা
ছাড়িয়েছে প্রান্তিক ঠিকানা
তার নাম জানবো না
শুধু একা!
শুধু একা!
ওই কারা ধ্বনি তুলে প্রতিধ্বনির বেশে
হেসে হেসে উড়ে যায় মধ্যাহ্ন বাতাসে
ভালো করে দেখে নেই কে আছে পাশে
কেউ নেই!
কেউ নেই!
কেউই ছিল না পাশে
জীবনের সংখ্যা জমে
বাড়াবাড়ি দুঃসময় একা

কোনো দিন ভোরবেলা আচমকা ঘুমে
কোনোদিন ছেলেখেলা পথ ভুলে পথে
দৌড়তে থাকে ফের পেছনের দিকে

অলিম্পিক মশাল
তুফান চমক গায়ে একাকী যাত্রা
ধ্যানহীন পৃথিবী দৌড়তে থাকে
হাতে তার অলিম্পিক মশাল
মশালের আলো পড়ে চোখে
তাকে খুব চেনা চেনা লাগে
হাজার বছরের এই দৌড়ে চলা
এবার স্তব্ধ হলো নাকি!

সমস্ত স্বপ্নভোর, সমস্ত দৃশ্য খোড়
কেড়ে নেবে জীবনের সমুদয় শোধ
একবার চোখ মেলে দেখি
যা ছিল সত্যব্রত, যা ছিল নিত্তরত
সব তার ভুলভাল নির্ভুল ফাঁকি

সেই নির্জনতা
এসব দিনের চাবুক
শব্দের তরঙ্গ তুলে পড়ছে পিঠে
তার হাঁক, তার ডাক
মনে থাকবে খুব

নিমগ্ন সাবমেরিন নীল অতলজলে
ভেসে যায়। যাবার বেলা
একান্ত আধোস্বরে ডেকেছিল
ঝরে পড়া পাতার ছলে

যাও, তার নাম ভুলে যাও
মাখো প্রেমের অধিক সেই নির্জনতা
ব্যথার পাতায় মোড়া ঘোর নিমগ্ন
ডুবে থাকা একাকী যন্ত্রণা