তিনটি কবিতা

শামীম আজাদ

লোনলি, নট এলোন
একা কিন্তু একা না
একাকীত্বই একা।

একাকীত্বের রোগ
দূর্যোগ ও দাগ অমোচনীয়
কিম্ভূত আর বাঁকা।
এ রোগ থাকে পাঁজরের পাশে
সহজে যায় না তা দেখা।

একার লাগে না একলা থাকা
মাঝে মাঝে তার হাতখানা হয়
কুয়াশায় রাখা।
একলাই তার মস্ত বড় আকাশ,
হুলিগান ভরা গ্যালারি,
গেলাসে গেলাসে গোলাপী জল,
চির হরিৎ চির উজ্জ্বল
ফুটন্ত ফল ও তারা দিনরাত
ভরে তোলে তার ক্যানারী।

একাকীত্বের ব্যারিকেড ভারি
অভিমানও থাকে বালিশে
ভয়ে যে তারে ঘাঁটায় না কেউ
আসে না তাহার
শয্যা কিংম্বা সালিশে।

একার সঙ্গে বহু এসে বসে
কবিতাও করে পর্যাপ্ত।
কার্পেটে শোয় বিন্দাস শেষে
শূন্য পাত্র জড়িয়ে পাশে
পড়ে থাকে নির্লিপ্ত।

একাকীত্বের চাদর শীতল
কার্পেটে তার গীর্জার খোঁচা
একাকীত্বের দীঘি গভীর অতল
মাথার উপরে ইস্পাত মাচা
তবুও বলে না মুখখানা খুলে
একলাত্ব নিয়ে আর যায় নাতো বাঁচা।

অস্তিত্ব
নিতান্তই পা দু’খানা ছোট্ট বলে
অল্প একটু মাটি হলেই
আমার কিন্তু চলে।

চা’য়ে আমার চিনি লাগে না
মন জমালেও ওয়াইন খাই না
রাত্রি বেলা বৃষ্টি হলে
আমার কোন বুক লাগে না
নিরব পায়ে ঘরে ফিরলে
দরজা খোলার লোক লাগে না

উচ্চস্বরে বলি না কথা
গান ছাড়ি না যথাতথা
করিনা কাউকে কোন জ্বালাতন
জল কিংবা তেল ও খরচ
তাও করি না যখন তখন

মোটামুটি একাই থাকি
কিন্তু আমি ভালই আছি
ঘরটি তত বড় না হলেও
গালিচা কিংবা গলার গয়না
না থাকলেও।

আমি থাকি আর্শি ছাড়া,
মূল দরজা আংটা হারা
বাড়িখানাতে উঠানও নেই
তাতেই থাকি আত্মহারা।

এ মোড়েরই কোনে বা কোথাও
আমি যে আছি বোঝা যায় না
লোকে আমার দেখা পায় না
বাইরে থেকে থিতু আমার থান খানাকে
বিলেতী বাড়ি মনেই হয় না

অর্ডেল স্ট্রিটের টেরাস বলে
শ্মশান শেষে নদী যেন
যেখান থেকে কারো জন্য কিছু আসেনা
এ বাড়িতে শুটকি কিংবা সুশী হচ্ছে
ধোঁয়ার গন্ধে কেউ তা থেকে টের পায় না

আসলেও, আমি শুধু
একটু খানি সবুজ নিয়ে
দু’ কাপ কালো কফি খেয়ে
একা একা সিনেমা দেখে
কোনার প্রাচীন দোকান থেকে
কাগজ এবং রুটি কিনে
করোনা সংবাদ পড়ে পড়ে
রোমান রোডের তীরে তীরে
ঘরে ফিরতে চেয়েছিলাম।

ফার্মাসির সেই ফার্সি জানা লোকটা থেকে
মাস্ক ও জ্বরের ওষুধ কিনে
বাঙালী-মুদির দোকান থেকে
চাল লবন ও সাবান এনে
আরো কিছু দিন খাবো বলে
ভেবেছিলাম।

সকালে ঐ পার্কে পড়া সূর্যালোকের
পাতার ফাঁকের আলোটুকু
বিনি:শেষে গায়ে মেখে
সন্ধ্যা বেলা সংকীর্ণ সব শার্সি দিয়ে
মেঘের মায়া দেখে দেখে
রাত্রি এলে কারো চোখে ধরা না পড়ে
এ পৃথিবীরই শুধু এই এক কোনে
আর ক’টা দিন বেঁচে বর্তে
আরেকটু খানি বৃদ্ধ হয়ে
তারপর যেতে চেয়েছিলাম।।

অসুখ
আজকের দিনটি দেখতে
একদম মন খারাপের মত!

ওর গায়ে কি লম্বা কালো ও ধূসর কোট!
গলায় হাতেবোনা অসুখ-উলের স্কার্ফ,
পায়ে ভাইরাসের বুট,
মাথায় কেমিক্যাল হ্যাট।
সে হাঁটছে
কিন্তু মন খারাপ থামছে না।

ওর চোখে আইসোলেশনের আইশেড
গালের পাশে পড়ো পার্কের সীমানা
ক্ষয়ে যাওয়া মেদের ভাঁজে কুঁচকানো এনএইচএস।

শুধু কি তাই!
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি
তার পেডিকিওর না করা নখে
আটকে আছে কোভিড কয়লার কূটো।

ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে যাঁরা দিন দেখছে
তাদের গলা থেকে থেমে গেছে
ঝুলন্ত গয়নার গান ।

ওরে দিন
কে দিয়েছে চোখে তোর
গলিত লোহার আইড্রপ?
কবে থেকে তোর শ্রুতির সুড়ঙ্গপথে
পাথরের ব্লক নেমে এসেছে?
কী করে তোর নাকের শীতল শ্লেষ্মায়
হাঁসের আনন্দে সাঁতরাচ্ছে
করোনার কীট?
কেনো রে তোর মত
তীব্র তুবড়ি ও তেহাই তোলা দিন
এত হাই তুলছে?

আমি আর কত
শুশ্রুষার বীজ বপন করে যাবো?
তোমরা দেখ গো আসিয়া
শামীম আজাদ মরে কান্দিয়া কান্দিয়া।

হায় দিন, সোনালী সুখির্তা দিন
কবে থেকে তোর এমন অসুখ?