তিনটি কবিতা

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

এসো বাঁচি
তুমি দেখতে পেলে না
এই হাওয়ার ঝিলমিল রেখাগুলি
ছুঁতে পারলে না
সুহার রঙিন এই সুর
চাখতে পেলে না
এই আলোকণা জিবের ডগায়
ঠিকরে পড়ল এইমাত্র যা
আমার অপাঙ্গ থেকে

নশ্বরতা হ’য়ে তুমি শুয়ে গেলে
এক প্রাচীন পিঁপুল-জঙ্গল-তলে
যেখানে তোমার শিরা খুঁজে পাবে না আর
আমার সিরিঞ্জ
মরফিনের শেষ ফোঁটাগুলি ঝ’রে যাবে
কোনো অপুত্রক প্রবীণের অন্তিম
আর রুগ্‌ণ বীর্যের মতো

কিন্তু আবারও শুরু হ’তেই পারে
আমাদের
আবারও, শুরুই। শুরু হওয়া হ’তে পারে
একটা অক্ষরে,

একটা— অ-এ।


-তাসু
পৃথক্ তারা। অন্তরিক্ষময় একলা। বাদবাকি সবই অন্য-এক তারার নকল। রেপ্লিকা না, নানামাত্রার আনাড়ি নকল।

কিন্তু তুমি পৃথক্, তাই পার্থক্য জাহির করার চাড়া তোমার নাই। মিশে আছ ভিড়ে, ঘোলে ননি, এমন, যে, কার সাধ্য দেখতে পায়, আর দ্যাখেই কেই-বা কাকে। কে হবে ঐ আরেক তারার প্রকৃষ্টতম নকল, তারই ইঁদুরদৌড়ে আকাশ-জোড়া আতশবাজি, আয়না-বিস্ফোরণ। আয়নায়নায়না।

অথচ ওরা চাইত যদি তুমি হ’তে তাও। হ’ত না। তবু যেটুকু যা হ’ত, হ’ত-তো, সেটুকু। হ’ত। না-হওয়ার বদলে। না-হ’তে-থাকার বদলে। না হ’তে থাকার বদলে।

তোমাকে দেখে ফেলেছিলাম, আরেক আয়নায়। জলের। কালো-জল। চৌবাচ্চাটা গোল, অবতল, যদি শুইয়ে দাও তাকে আরেক চৌবাচ্চায়, ব্যাসবাক্যহীন। সারাটা আকাশকে সে ধরে, পাতালকেও। কিশোরী-চোখের মতো এক প্ল্যানেটারিয়াম। আকাশের ঝাঁকেঝাঁক নাকফুলগুলি নীলার চিকের মতো জ্বলে। থোকা-থোকা থির জোনাক। এরই মাঝে—

এরই মাঝে একটা ফোঁটা— লাল, আর ধুকপুক-করা, যেন কোনো নোমের হৃৎপিণ্ড। বাস, জানা হ’য়ে গেল-তো আমার। এবার ওড়া।

আকাশে উঠে এসেছি, পিটার প্যান। একে-একে তারার স্যাম্‌প্লিং। খারিজ তারার টিংকার বেলের গাল ফুলিয়ে, ঝুঁটি ঝুলিয়ে উড়ছে, হিংসায়। ছুঁড়ছে মহাজাগতিক ধুলার বল্লম। আমি প্রায় শজারু, প্রায় ভীষ্ম। তবে মরছি না, যতক্ষণ-না— তুমি জানো, তারা, আর জানি আমি।


ভিতরে সাজ্জাদ
কবিতাটা লিখতে দাও, যেটা লিখতে আসা।
সিম্পোজিয়ামের বাইরে রাইসু বইসা হাসে,
তারে তারা ঢুকতে দেয় না, ধুতি নাই, তাই।
আমি বলি, রাইসু, চলো, আমরা চইলা যাই।

রাস্তায় হাঁটি-গা। হাঁটলে, আমরা কবিতাই।
কবিতা তো হাঁটে, রাস্তা-ঘাটে, গঞ্জে-হাটে,
কবিতার জন্য কেন এত মাইক্রোফোন?
মহার্ঘরা পাঞ্জাবিতে ইত্রে-হিনা দিউন,

আমরা ভাঙ্গি ভাঙ্গা-পথ, স্পঞ্জের স্যান্ডেল
ছিঁড়তে-ছিঁড়তে চইলা যাই ভিড়তে-ভিড়তে ভিড়ে
বাটে পড়ি, জ্যামে বইসা ঘামতে-ঘামতে ব্যাগে—
কাগজটা? তোমারে দিছি? গেল চাইরটা লাইন!

বলছিলাম? মনে আছে? লীসাদের বাসা
ঠাণ্ডাপানি পাওয়া যাবে, ফ্রিজ আছে-তো, বড়-
লোক ওরা, কাজের মেয়েরা থাকলে পুরা র-র-
ঢুকতে না-দিতেও পারে। সিলাই করায়া

ল’ন মুচি থাকতে-থাকতে। কবিতাটা নিয়া
কোনো মাথাব্যথা নাই সিম্পোজিয়ামের।