ছায়ার জানলা

অভিষেক ঝা




। ১ ।
কতকাল জুড়ে বসে আছো এই বিকেল
শূণ্যরঙা চোখে কালও ছিল এই কতকাল
সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছে মা’র মৃতদেহ
সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছে জীবন্ত আয়না
তারা পরস্পরকে দেখে বিকেল বিনিময় করে খানিক
তারপর যে যার কাজে চলে যায়

। ২ ।
মাজার-কোণে কয়েকটি মাটির ঘোড়া
ও খানিক সাদা-হলুদ ফুল
----- অ্যালজাইমার্সের শেষবিন্দু হয়ে থেকে যায়
কে এনেছিল
কারা খেলেছিল
কবে চলে গেল
কোনও আঁচ না রেখে
একটি জ্বর বারবার বৃষ্টি-উন্মুখ
এই সকল মাজার-তলে
----- কাঠবারান্দার কাফন হয়ে শুয়ে আছে
একটি সূর্যাস্ত-পরমাণু
। ৩ ।
অনেক রাতে একটি শিশু কেঁদে উঠলে
শরীরের ভিতর মা ফিরে আসে
মা’কে কার্সিনোমার চাঁদ ঠেকে
ওখান থেকে দিদা বের হয়ে
পুরুলিয়ার গ্রামে অন্তঃসলিলা বুক খুঁড়ে
জল বের করবে প্রত্যেক বিকালের মতো
বালি জুড়ে চাঁদের আলো
দিদা টুসু গাইছে
টুসু দিদাকে গাইছে
রামধনু খেলছে আমার বাথরুমে
দেওয়াল জুড়ে
মা বড় হচ্ছে দিদার পেটে
কার্সিনোমার চাঁদের মত
রক্তে টুসু বাজছে
উতরোল শিশু হয়ে

। ৪।
এমন ফুটে থাকা আলোর নিঃশ্বাসেই
সার সার টিয়া হয়ে ঝরে পড়ে
গণিতপটু সব সফল ব্যর্থতা
কালভার্টের নিচে মোলা-মাছ ধরতে ব্যস্ত বৃদ্ধের
চোখে কি পাও
ঘর ছাইতে ব্যর্থ আমি কী করে টিয়া পাখিদের
কবরে বুনে দেই ঘর বাঁধার অবদমন
। ৫ ।
সমস্ত জানলা জুড়ে
বিরাট আকৃতির এক ভোর
ঘর তছনছ করে নদী নিয়ে আসে
পায়ের পাতা থেকে নাক জলে ডুবে গেলে
চোখ খুলে তাকায় বাড়ি
সাতসকালে নৌকা-সংসারী হই আমরা

ছবিঃ অভিষেক ঝা