মিনোতার

জুয়েল মাজহার


Minotauromachy, 1935 by Pablo Picasso

১.
অনেক গোলকধাঁধা পার হয়ে এলো মিনোতার
নিজেরই খেয়ালে একা

আধামানবের বেশে অর্ধ্বষণ্ডরূপে

হয়তো সে জানে কিংবা আদৌ জানে না
সে তার নিজেরই পিতা
সন্তান নিজের

নিজের ভেতরে বসে বুনে চলে নিজ রক্তবীজ
অনন্যোপায় হয়ে। কিংবা তার
রক্তের ভেতরে থাকা ঘুমন্ত আহলাদে!

সে নিজে রচনা করে অবিরাম রণআয়োজন
কুরুক্ষেত্রে ভরে তোলে তার নিজ সামান্য মগজ

অদ্ভুত বাসনা তার কামে ও হননে ঢেউ তোলে

২.
পুরাণের বাইরে এসে সে এখন আঁকছে নিজেকে
শিশ্ন-শিং-অণ্ড-জিভে
খর খুরে, কঠিন চোয়ালে

আপাতত গন্তব্য গেরনিকা ।
তারপর । তার আরো পরে
আরো-আরো গন্তব্য এসে জমা হবে ক্রূর করোটিতে

মিনোতার সবখানে যাবে। গিয়ে
দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড বাধাবে দশদিকে

৩.
সে চেয়েছে সব তার হোক
সে চেয়েছে দেবী ও দানবী-মানবী সব
তার জন্য খুলে দিক, মেলে দিক
তীব্র-তপ্ত যোনি ও জঘন ।

তারা তাকে প্রশ্নহীন কোল মেলে নিক

সে চেয়েছে অণ্ড তার ব্রহ্মাণ্ডকে
অফুরন্ত বীর্যে ভরে দিক।

যাতে এর ফেনা থেকে জন্ম নেয়
অর্বুদ-অর্বুদ কোটি সংহারের কীট

৪.
সদা ঘোর সদা ঘোর।
অগ্নিমদ। সদাই বারুদ

কুতকুতে চোখজোড়া রিরংসায়, অহিফেনে বুঁদ
দোজখের দু’খানি দুয়ার তাতে হা-কপাট খোলা

৫.
ঘোঁৎ-ঘোঁৎ, ঘোঁৎ-ঘোঁৎ,
গুঁতো ও কামড় তার ভাষা

অন্য কোনো ভাষা তার নাই

৬.
রতি রক্ত হননের তীব্র সুখ না-পেলে সে একদম মৃত

সে চেয়েছে মুণ্ডমালা, কিশোরীর রমণীর
রক্তলাগা ছিঁড়ে নেওয়া স্তন

ভয়-হ্রেষা-আর্তনাদ না হলে কি জমে তার মৃগয়া ও মদ?

৭.
পুরাণের পাতা থেকে, দ্যাখো দ্যাখো, মিনোতার এসেছে বেরিয়ে

বেরিয়ে এসেছে তার কালচে ধূসর
মাথা আর চোয়াল-করোটি
তার দু্ই চোখ যেন লিপ্সাঠাসা অতল গহ্বর

নাসারন্ধ্রে দোজখের দুইখানা চিমনি বসানো

৮.
হননবিকারে মত্ত, ক্ষমাহীন, ক্রূর
আদিম, পেশল এক দেহ নিয়ে
এলো সে যখন

ঘোড়াটিকে শিং দিয়ে অতর্কিত
গাঁথল যখন
চারদিকে তীব্র হ্রেষা আর্তনাদ
উঠল যখন
মই বেয়ে একটি লোক
পলায়ন-উদ্যত যখন

নির্ভয় কিশোরী এসে একহাতে তুলে ধরলো মোম
অন্য হাতে ধরলো বাড়িয়ে ফুলতোড়া

থমকে গেল টলে গেল
তৎক্ষণাৎ শিলীভূত হলো মিনোতার

একটি জানালা থেকে অন্য দুই নওল কিশোরী
সেই দৃশ্য দেখলো কৌতুকে

দূরে একটি ছোট নৌকা আবছায়া
দুলছিল ঢেউয়ে----অগোচরে