অবাক ও অন্যান্য

শিবু মণ্ডল



অবাক
তুমি বলেছ আমি শুনেছি। অবাক হয়ে শুনেছি। কারণ নিশ্চয় ছিল। আমি তো বাহক মাত্র। ফুলগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে। আমি তাদের গন্ধ পিঠে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছি একটা অন্ধ বাঁকে এসে। এ অন্ধ ঠিক আলোর অভাবে নয় আবার কিছুটা চোখের অভাবে। তবে চোখটা তো খোলা কারণ বাঁকটা দেখতে পারছি। আড়ালে কি আছে আমি জানি না। তুমি হয়তো জানো। হয়তো কেন, তুমি নিশ্চিত জানো। তাই তো তোমার নির্দেশে কখনো দাঁড়িয়ে পড়তে হয় আবার আজ্ঞা পেলে চলা শুরু।

নির্বাচন
শূন্য রাস্তাকে কখনো পথ বলা চলে কি? তাতে এসে মেশে আবহমান যৌনতা, আদিকাল থেকে লালিত ক্ষমতা ও লিপ্সা। এই পথ আমাদের ঘরে আসে আবার সিল্কের মতো পিছলে পিছলে যায়, আবার আসে ঘুরে ফিরে। এ খেলার চাল, কীভাবে তার গুটি সাজাতে হয় তা তুমি ভালো করেই জানো। তবে একটা কথা মনে রেখো, তোমাকে বড় রাখতেই আমি ছোট হয়েছি। খেলাটা তোমার হলেও তার নির্বাচনটা কিন্তু আমার!

দূরত্ব
সব সম্পর্কের ভেতরেই একটা সাদা-কালো থাকে। কিন্তু আমরা তার কতটুকু কাছে আসতে পারি! বাতাসের প্রতি বিশ্বাস সবসময় একইরকম থাকে না। স্পর্শ থেকে একটা বিরতি নেবার পরেই আমরা হয়তো পরস্পরের প্রতি আরেকটু শ্রদ্ধা দেখাতে পারবো। ব্যক্তিগত একটা ব্যালকনি খুঁজে পাবো। খুঁজে পাবো সন্ধ্যাকালের তুলসীতলার প্রদীপের নির্জনতা।

মধ্যপন্থা
একটা ভয় ও অনিশ্চয়তা আমাকে এক বিন্দুতে স্থির থাকতে দিচ্ছে না। কখনো ডাইনে কখনো বামে ঝুঁকে পড়ছি। আচ্ছা মধ্যবর্তী কোনও পথ কি নেই? যেখানে বালি ঝড়ের মধ্যেও একটি তাঁবু খুঁজে পাওয়া যায়? ঝড় থামার পর দোতারার দুটি তারের মাঝে একটি নীল আকাশ গান গেয়ে ওঠে? তারপর ইতিহাসকে ধারণ করে যে পথ ভেসে আছে তার প্রকৃতিকে চিনে নিতে তারামণ্ডলের শরণাপন্ন হবার অবকাশ থাকে?

অনুক্ত
হে প্রভু! আমার বিমূঢ়তা ক্ষমা করো! একটা কথা শুনলে হয়তো তুমিও নত হতে শিখবে। আমি ইদানিং আর তোমাকে খুঁজি না। তোমার ধর্মকে খুঁজি। অথবা বলতে পারো ধর্মের মধ্যেও এক ধর্ম খোঁজার চেষ্টা! কিন্তু খোঁজার জন্য তো একটা ভাষা দরকার। এতো ভাষা দিয়েছ আমার ভেতরে! এবার নত হতে হতে তুমি আমার ঠোঁটে স্পষ্ট একটা ভাষা এঁকে দাও তো যাতে আমাদের মধ্যে আর কোনও দৃষ্টিবিভ্রম না থাকে!