ছায়া ও ছবি

শুভ্র ভট্টাচার্য



লাল কালো বাদামী সবুজ হলুদ বেগুনি চুঁইয়ে নির্লজ্জ নিশ্চিত সাদা...মায়া বিজড়িত এক রঙিন জার্নির মোনোলগ। জলরঙের শহর ডুবে যাচ্ছে একান্ত ব্যক্তিগত অবসরের নিকোটিন ভার্সানে।ঘুরপথে ফিরে আসার বোহেমিয়ান বাঁকে অফেরতযোগ্য কিছু বাতিল গল্প লুকোচুরি খেলে।হাতে আঁকা জেব্রাক্রসিঙের ধার ঘেঁষে পড়ে থাকে অবোধ এক যাপনের বেহিসেবি বীজ ও গণিত।
...ক্ষয়েরও অভিমান ছিল আর ছিল কিছু পুরোনো ক্ষতস্থানের শুকিয়ে যাওয়া কালচে রক্তের দাগ।ভালোবাসার গোলাপি অসুখ ছড়িয়ে যায় মগজের ঘোলাটে নেশা-কলোনিতে।অন্ধকার সিঁড়িতে পড়ে থাকে অধখাওয়া আপেল এবং কিছু নিম্নগামী মোহ ও স্খলনের সস্তা নৌটঙ্কি।
আজও ঘরে ফেরা হোল না যেসব সম্পর্কের, তাদের জন্য কুয়াশা মাখা ভোরের একটা লং শট তোলা থাক না'হয়।আপাতত আরো একটা বেআব্রু তিনপাত্তি গল্পের ফেরতাই টেনে,স্পেডের বিবির ঘরে নিঃশব্দে ঢুকে পড়ছে হার্ডসের গোলাম।ক্লোজআপে তখন বিবি ওরফে মালতির বিষন্ন দু'চোখ... মালতির কোনো প্রেমিক ছিল না,ঠিক যেমন কিছু কিছু সম্পর্কের কোনো ডাকনাম ছিল না (বা থাকতে নেই)।
তবুও জোনাকিরা ওড়ে,সারারাত ম্যাজিক লণ্ঠন জ্বেলে পাহারা দেয় রংচটা কয়েকটা স্বপ্নের অধুরী কাহানি।
জশন গলিতে সন্ধে নামলেই ঘষা কাঁচের আয়নায় মারহাব্বা শরীরি রূপটান।পরিত্যক্ত কবরখানা থেকে বাঁশির মায়াডাক ভেসে আসে(কে বাজায় বাঁশি?)।ছলনার নিবিড় সঙ্গমে হঠাৎ ঢুকে পড়ে অবাঞ্ছিত শিউলির গন্ধ।জোৎস্নার নীচে খুনির মুখোশ খুলে রেখে গিয়েছিল যারা,তারা সবাই আজ এই শহরে বেলুন ফেরিওয়ালা।
গণতন্ত্রের নৈতিক অবস্থান যখন বদলে যায় কসাইখানায়,লাল ঝান্ডারা তখন অর্ধনমিত।চপারের ঠান্ডা ধাতব নির্মোহে ঢুকে পড়ছে পশুখামার এবং মোমবাতি মিছিল। ঘরপোড়া মেয়েদের অবৈধ জন্মদাগ মুছে দেয় দু'এক পশলা অশালীন বৃষ্টি।
২৭/বি হাড়কাটা লেনের ঝুলবারান্দায় রাত জাগে অনুরোধের আসর।'কেয়া করু সজনী আয়ে না বালম...'।লাল বেনারসী ও সিঁদুর কৌটো চাপা পড়ে আছে ভাঙ্গা টিনের বাক্সে(গোলাপ ফুল আঁকা),গোপনে লালিত আঁধারে।'শরীর শরীর, তোর মন নাই...'।পুতুল নাচের একটা ইতিকথা ছিল।কিন্তু ইতি বা নেতির মোড়কে সব গল্প রূপকথা হয় না।আর তাই আপেল অথবা মালতির ভার্জিনিটি বিষয়ক গল্পগুলো নিজস্ব চারণভূমি খুঁজে নেয়।ঠিক যেভাবে কখনো ২৭/বি হাড়কাটা লেন হয়ে যায় শিউলিবাড়ি কিংবা জোনাকি-কারখানা। যেখানে প্রত্যেকটা ফ্রেমই হয়তো কিছু ভাঙাচোরা স্বপ্নের অনুসঙ্গ মাত্র।
এইসব হাতপাল্টি (আনএডিটেড) দৃশ্যের টুকরোগুলো জুড়ে জুড়ে জলরঙের শহরে একটা না-হওয়া সিনেমা...

চিত্রঃ শুভ্র ভট্টাচার্য