বিষাদের ব্যালকনি

নাহিদা আশরাফী




বিষাদের ব্যালকনি


আমি আর আমার বিষাদ দুজনেরই চিনি বারণ।


আমি আর তুমি ; প্রনয়ের তীর্থভূমি
অতঃপর সে, ভূমিধ্বস নিমেষে।


বিষাদের বায়স্কোপে চোখ রেখে দেখি
হাহাকার নেচে গেয়ে শহর মাতায়
আর কবিদের চোখে বোনা স্বপ্নকে খায়।

৪-
জানালায় রোজ আমি মেঘ হয়ে ভাসি
মেঘের দ্রাঘিমা তুমি জলের কম্পাস
বিরহের কেন্দ্রে কত বিষাদের বালি
ব্যাথার গোলার্ধ জানে সেই ইতিহাস।


বিরহের ব্যাবিলন


নীল ফুল বলেছে কানে কানে , বিরহ গেছে অই পথে।


সমুদ্র তার বিরহ বুনেছে গত শীতে
হেমন্তে আসবে ফের সমূহ ব্যর্থতা তুলে নিতে।


জলের দানায় জল করেছি জমা
তোর দু'চোখে সেমিকোলন আমার চোখে কমা
হেটেই সাগর পার হয়েছি যদিবা পাই ক্ষমা।


সুখের সূঁচ দিয়ে গেঁথে গেলে ব্যথার বোতাম
আমি তো নিষ্প্রাণ সুতো বুঝি তার কতটুকু দাম
ঘাম আর প্রেম মিলে যতটুকু বয়ে যায় নুন
আধেক বিরহ তার আধেকটা খুন।




বেদনার বায়োস্কোপ


বেলুন ভরা সুখ, ছেড়ে দিলেই উড়ে যাবে বেদনার বাতাসে।


আকাশ কিনবো বলে, পাই পাই করে বেদনাকে জমালাম
চেয়ে দেখি আকাশ নেই, মেঘে মেঘে ভাসে আমারই নাম ।



পাশবালিশে দুঃখ ভরে বলেছি তফাতে থাকো
এ খাট আমার নয় ঘুণপোকা এখানে গান গায় বিলাপের স্বরে
অথচ নির্বিকার সে শুয়ে আছে আমাকেই জড়িয়ে ধরে।


দুঃখ কবে এঁকে গেছে বিভুতার ফুল
রৌদ্র বাতায়নে ওড়ে বিভক্ত আঙুল
তপস্যার তাপে পোড়ে পুরানার চর
জল ভারে নব্য মাটি কাঁপে থরথর।



ছবিয়াল: তোয়া সাইয়ারা