ইমরান ও একটি ঝরে যাওয়া রং

সুমন সাধু




দুপুরের মেলানকোলিতে প্রথম পাওয়া উপহারে ইমরানের ঠোঁট তখন গাঢ় লাল। অবাধ্য আঙুলে বাহারি নিস্তেজ ঝরা পালক আর এদিক ওদিক যা যা খুচরো। প্রিয় হাসনুহানার কথা মনে পড়ে তার। টানা পাঁচদিন। অঝোরে বৃষ্টি। বৃষ্টির স্বর যখন পঞ্চমে এসে মিশেছে, সেই দিন আসলে হাসনুহানা ঝরে যাবার দিন। চুল্লিতে নিশ্চুপ একটা অসহায় শাদা দেহ। উলঙ্গ শরীরে তখন হাড়ের কাঁপন।

ইমরান আর হাসনুহানার আধপোড়া টেলিফোনিক কনভারসেশন চুপি চুপি সংসার বেঁধেছে। কাকপক্ষী টের পায়নি। মহাকালের সামনে দাঁড়িয়ে একটা হু-হু ঝড় চারপাশের বদভ্যাসকে কীভাবে পাল্টে দিচ্ছে যেন। যেন এইমাত্র ভুল বোঝাবুঝি থেকে বাইরে বেরিয়ে ওদেরই মধ্যে কেউ একজন বলে উঠবে, আমি কি কিছু করেছি? ভয় দেখিয়েছি?

এ এক আশ্চর্য দুপুর। ইন্টারনেট অন করায় যেখানে সুমনকে কেউ জিজ্ঞাসা করে, দুপুরগুলো এমন কেন সুমন? আশ্চর্যরকমভাবে সুমনে ভাব জমিয়েছে ইমরান আর হাসনুহানা। ভাবের ঘরে একটা চওড়া গাছ হয়ে ওঠে সম্ভাবনাময় নীল। একটানা গান চলে। দীর্ঘ লম্বা এক একটা গান। ইমরান বলছে, গাছ বড়ো হলে ছায়াও লম্বা হয়, আর সেই ছায়ারও একপ্রকার ছায়া থাকে। কিছুটা দূর থেকে ফুটে ওঠে হাসনুহানা। অপেক্ষমাণ।

প্রিয় মৃত্যুর মধ্যে ভোর দেখতে পায় ইমরান। প্রিয় মুখ হয়ে ওঠে গাছ। গাছেদের মৃত্যু নিয়ে সেই কবেই লেখা হয়েছে, They were trying to run, trying to hide. But the rock would not hide them; the dead tree gave no shelter. একটা খাতার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয় কতগুলো শব্দ। তারপর তারা শাখা-প্রশাখা মেলে বৃক্ষ হয়। সেই বৃক্ষের বয়স বাড়ে। ইমরান আর হাসনুহানার সংসার বৃক্ষের মতো বড়ো হয়ে ওঠে।

চুল্লির সামনে দাঁড়িয়ে ইমরান দ্যাখে হাসনুহানার ঝরে যাওয়া কান্না। সমস্ত পাগলামির মধ্যে তখন উত্তাপ। সমস্ত সম্ভাবনার মধ্যে চলে যাওয়ার রং। হাসনুহানা মরে যায়। ইমরান বাড়ি ফিরে আসে। ইমরানের খিদে পায়। সুমনে আসে ইমরান। ইমরান গর্ভবতী হয়।


***********
ব্যবহৃত ছবি- স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার অ্যান্ড স্প্রিং (দক্ষিণ কোরিয়া)
পরিচালক- কিম কি দুক