চিল ও গঙ্গা

তানিয়া চক্রবর্তী



নদীর ধারে বসে আছে চিল ও চিলের স্ত্রী---পূর্বজন্মে তারা মিলিত হয়নি---এখানে ভাগাড়ে তাদের শুভদৃষ্টি---স্ত্রী চিলের পালক সরিয়ে পুরুষটি দেখে পূর্বজন্মের নাভিতে মা দাগ আঁকা --- স্ত্রী চিল পুরুষ চিলের গলায় ঠোঁট দিয়ে দেখে বাবা গন্ধ লেগে আছে গলায়---গন্ধের ঘরে আত্মার মরণ শুকিয়ে আসে---চিল থেকে চিল আত্মা যায় ---ভাগাড় লাগা শরীর গঙ্গায় এসে পড়ে ---আহা চিলযুগলের আলো----পরজন্মে তারা ধূর্ত হবে—হবে মানুষ---বিবাহযজ্ঞে এসে বসবে মুখোমুখি

এ পাতা থেকে ও পাতায়
এ গ্রহ থেকে ও গ্রহে
এ আঙুল থেকে ঐ আঙুলে
যা যাচ্ছে অনবরত
সে আমার সুখ ও অসুখ
মধ্যরাতে তারা পা মেলে আগুন পোহায়
শরীর বেঁকিয়ে দেয়---
যেন মুদ্রাকালে নারী
পিতাকে দেখে চমকে পালিয়েছে
অনস্তিত্বে ছুঁয়ে দেয় অস্তিত্বের মহাকাল
চুল পিঠ ছাড়িয়ে ভাঙা জঙ্ঘাকে ছুঁয়েছে
আর উল্টো পিঠের জানুদেশ কেঁদেছে অঝোরে
এ বিভোর সংক্রমণকালে
কে সঙ্গম চায় বলো চিল ?
চিল তুমি বলো মৃত্যুর গায়ে
যারা ছোঁ মারে তারা কারা?
তারা কী খাদ্য বোঝে শুধু
নাকি বোঝে কন্ঠার হাড়
কণ্ঠা আসলে জলসত্রের প্রিয় অধ্যাস
শরীরে শরীর আসলে কামনা নয়
শরীরে শরীর আসলে আত্মার পুড়ে যাওয়া

চিত্র ঋণঃ সোল,শাহাবুদ্দিন