লাল ফুল ও অন্যান্য

জাকির জাফরান



লাল ফুল
লাল ফুল, দুঃখ পাবার আগেই
এত কেন রক্তচলাচল
পাতায় পাতায়!
মানুষ কাঁদার আগেই কেন এত রাত!
মাছ-কাটা ঘ্রাণের ভেতর দিয়ে
বিড়াল আসছে সন্তর্পনে
কেউ বুঝি দুঃখ পাবে, তাই,
ফুল ফুটে আছে বালিকার জানালায়।

লাল ফুল, দুঃখ ভোলা যায়?


জ্যোৎস্না সম্প্রদায়
১৯।
বিচ্ছেদ কী? এমন প্রশ্নের পর এক শুক্লপক্ষ
চাঁদ হতবিহ্বল হয়, বলে, যদি আরেকটি
হৃৎপিণ্ড থাকত, তখন বলা যেত, পৃথিবীর
লাল রঙ কতটা ব্যর্থ হয় নীল শৃগালের কাছে।
লাল ফুল, তুমিও কি বিরহ বোঝো রাতে? উঠোনের
চতুর্থ মল্লিকা মরে গেলে? মৃত্যু কী— এমন প্রশ্ন
নিয়ে কোনও গোরখোদকের দৌড়ঝাঁপ, জ্যোৎস্নারাতে,
তোমার কি ভালো লাগে? পৃথিবীর সমস্ত পৃথক
অঞ্চলে অঞ্চলে, অধিকৃত প্রতিটি স্নায়ু ও ধমনীতে,
গান মানে বৃন্ত থেকে খসে পড়া লাল ফুল, জানো?
তোমার শরীরে ধাক্কা খেয়ে বেঁকে যাওয়া আলো এসে
আমার চোখের কোনে পড়ে, বলে, বিচ্ছেদের মানে
জানে কালো শাড়ি, লাল ফুল— অতলান্ত সে-কুসুম।

২০।
ফুল কখনও ছিঁড়ি না, ঝরে পড়ার প্রতীক্ষায় থাকি
এক অন্ধ মৌমাছির তৃষ্ণা বুকে নিয়ে দিন গুনি,
ফুসফুস পোড়ে, হৃৎপিণ্ড বৃথা কাঁপে, রাত জাগি,
সকালে ঝরবে ফুল তাই বৃক্ষমিথুনের শব্দ শুনি।
ছেঁড়া ছেঁড়া কষ্ট নিয়ে বহুদিন ডেকেছি তোমাকে
নিচু হয়ে বলেছি আমার ফুসফুস প্রতিদিনই
আমাকে ঘুমন্ত রেখে দূরে চলে যায়, রোজ কাকে
লাল নীল ভাষায় যুক্ত করে আমি কখনও জানিনি।
কাকে বলি, প্রতিটি চুমোর পর কীভাবে ঘুমিয়ে
পড়েছি ফুলের পাপড়িতে! একজনই বলেছে ডেকে,
বাবু ওঠো, ওভাবে ঘুমোয় না, ফুলেরাও কণ্টক নিয়ে
প্রত্যাঘাত করে রক্তমোচনের রাতে জেগে থেকে।
ফুল কখনও ছিঁড়ি না, ঝরে পড়ার প্রতীক্ষায় থাকি,
পঞ্চাশটি ফুলের লালিমা দিয়ে একটি মানুষ ধরে রাখি।


ছবি: জাকির জাফরান