গ্যেরনিকা ( উৎসর্গ- পাবলো পিকাসো)

হিন্দোল ভট্টাচার্য



৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২
এখন স্বপ্নের মধ্যে লক্ষ লক্ষ ঘোড়া ছুটে যায়
আমি ক্ষমা চাইব তবে কার কাছে বলো।
সমস্ত গন্ধর্ব আজ মুখোমুখি
এখন কবিতা
পুরনো স্টেশন যেন, পাশ দিয়ে চলে গেছে
নরকের দিকে দ্রুতগামী
এখন স্বপ্নের মধ্যে লক্ষ লক্ষ বিস্ফোরণ হয়
মানুষের মুখগুলি ততটা মানুষ আর নেই
সকলের হাতে লেগে
আছে খুন, ব্যাধি, আর প্রাচীন সন্দেহ।
আমি ক্ষমা চাইব তবে কার কাছে বলো।
এ নরক জানি আমি নিজে হাতে সেলাই করেছি
সন্দেহজনক শিল্প
যেমন নিজের ঘরে আগুন লাগায়।


হত্যাকারীর প্রতি
যে কোনও আঁচড় তুমি
তোমাকে ঘোষণা করি আমার প্রকৃত প্রেম
আমার হননকারী
এসো
জীবন তাকেই চায়, যে তার সঙ্গে শোয়
শেষবারের মতো
এসো
যে কোনও আঁচড় তুমি
তুলি বা ছুরিকা



কুরবানি
তোমার নিয়তি বুঝি। জল খেতে আসে রোজ সকালে। বারান্দায়
আড়চোখে দেখে কেউ ওঁৎ পেতে আছে কিনা!
প্রকৃতিও সন্দেহপ্রবণ। এই গ্রাম, পুকুর আর পাখি লেখা বাংলা কবিতা
তোমার দেওয়ালে হেলান দিয়ে রয়েছে পাঁচশো বছরের মই, ধুলো ও
চুনে ভরা। সেখানে পা ঝুলিয়ে তোমার চেতনা।
হাতে ব্রাশ এবং রঙের বালতি। নীচে আশ্চর্য রাস্তা। চলে গেছে
রামনবমী পর্যন্ত। যেখানে জলের রঙ লাল। ধর্মের রঙ লাল।
একটি যুবক পড়ে আছে। দুপাশে পোড়া বসতি।
ধোঁয়া, এখানে আসলে ছদ্মবেশ। তার আসল নাম মানুষ।
তোমার নিয়তি বুঝি। কিছু করার নেই বিশেষ। কাগজ দিয়েছে।
চা বসাও। অনেক রাজনীতি বাকি । সবে তো সকাল!


আমেন
একটি অদ্ভুত জন্তু আমাদের শরীর থেকে ছুটে বেড়াচ্ছে শরীরে।
‘এত পাপ সহ্য কোর না নদী’ বলতে বলতে একটি বাউল
ঝাঁপ দিল অন্ধকারে। বেজে উঠছে আগুন। আমাদের মন্থরতা কেন এত
দৌড়োদৌড়ি করছে, এ নিয়ে সন্দেহ কম নয়। ‘ এ অসুখ যাবে না, গোছগাছ করো,-
পালাও, অথবা বুক চিতিয়ে দাঁড়াও। মাঠে দুঃখ ঝরে পড়ছে ।
একটি অদ্ভুত জন্তু আমাদের শরীর থেকে ছুটে বেড়াচ্ছে শরীরে।
তাকে দানাপানি দাও। সেও পোষ্য হতে চায়। বাঁধো মন, বাঁধো।


বন্যা
এখন ধ্বংসের ঋতু। মনে মনে ভেঙে যাচ্ছে পাড়-
কত নৌকো ভেসে যাচ্ছে দিগন্তের দিকে;
আগুন লেগেছে ঘাসে, প্রাণে, জলে, অন্ধকারে –
তাকে ঠিক ভাল করে বোঝাও যায় না।
কে যে ছবি আঁকে, আর কে যে তার বিষণ্ণ দর্শক?
এখন ধ্বংসের ঋতু। বুক দিয়ে বাঁধ দেওয়ার ঘণ্টা বেজে গেছে।
তুমি কি ঘরেই থাকবে? জীবন তো ভেসেই গেছে,-
আর কতদিন তাকে বোকা বোকা সংসার শেখাবে?
বাঁচাবে না ঘর, মাঠ, ফসল, বিবাহ?